কীর্তিমান এই ক্রিকেটারদের কাতারে যাওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসও সমৃদ্ধ করেছেন মুমিনুল। প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন।
এর আগে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি পাওয়ার খুব কাছে গিয়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রামের মাটিতেই মাত্র ২৪ রানের জন্য এই কীর্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। প্রথম ইনিংসে ১০৮ রান করেও দলকে ফলোঅন থেকে বাঁচাতে পারেননি। ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৬ রান করে সাজঘরে ফিরতে হয়েছিল হাবিবুল বাশারকে। অবশেষে মুমিনুল ১৭ বছর পর সেই আক্ষেপটা পূরণ করলেন। চট্টগ্রাম টেস্টের পঞ্চম দিনে বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে এই রেকর্ডের একমাত্র মালিকও এখন তিনি। রবিবার লঙ্কান চায়নাম্যান স্পিনার সান্দাকানের বলে সিঙ্গেল নিয়েই পূরণ করেন এই কীর্তি।
মুমিনুলের এমন কীর্তির পর পুরো গ্যালারি উল্লাসে মেতে উঠে। এমনিতে ঠাণ্ডা মেজাজের ক্রিকেটার মুমিনুল প্রথম ইনিংসের মতো অবশ্য বুনো উল্লাস করেননি। সিঙ্গেল নিয়ে বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমের দিকে সাধারণ ভঙ্গিতে ব্যাট উঁচিয়ে উদযাপন করেন নিজের এই কীর্তি।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে মুমিনুল দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি পাওয়া একমাত্র ক্রিকেটার হলেও বিশ্ব ক্রিকেটে এমন কীর্তি অনেকেরই আছে। মুমিনুলসহ সবমিলিয়ে ৮৩ বার এমন রেকর্ড গড়েছেন টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর ক্রিকেটাররা। কিছু কিছু ক্রিকেটার একাধিকবার দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি পেয়েছেন।
সবমিলিয়ে ৬৭ জন খেলোয়াড় ৮৩বার দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। দুইবার করে এই কীর্তি গড়েছেন দশ ক্রিকেটার। তিনবার করে সুনীল গাভাস্কার, রিকি পন্টিং ও ডেভিড ওয়ার্নার এই কীর্তি গড়েছেন। লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে গ্রাহাম গুচ এক টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ৩৩৩ ও ১২৩ রান মিলে ভারতের বিপক্ষে ওই ম্যাচে তার রান ছিল ৪৫৬ রান।
অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান ওয়ারেন বার্ডসলে সর্বপ্রথম এই কীর্তি গড়েছিলেন। ১৯০৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৩০ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩৬ রান করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটসম্যান।