মোহামেডান ক্লাবের এই সংবাদ সম্মেলনে ঘুরে ফিরে আবু নাইম সোহাগকেই কাঠ গড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বাদল রায়। তাকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন ছুড়েছেন একের পর এক। শুরুতে তিনি অভিযোগের সুরে বলেছেন, ‘বাফুফের সাধারণ সম্পাদক যাকে আমরা নিয়োগ দিয়েছি, কয়েকদিন আগে আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়েছে। ফোন দিয়ে বলেছে- আমি যাতে বাফুফেতে না আসি। আর যদি আসেও এক কাপ চা খেয়ে যাতে চলে যাই।’
এরপর বাফুফে সভাপতির কাছেও ফোন করার দাবি করেছেন বাদল রায়। তিনি জানান, ‘তখন আমার স্ত্রী এর জবাবে বলেছে- আপনি কেন, আপনাদের তো অভিভাবক আছে। উনি বলুক। কিন্তু কিছুদিন পরে বাফুফে সভাপতিকে ফোন করে তাকে নিরাশ হতে হয়েছে।’
বর্তমান কমিটিতে ডেভেলপমেন্ট কমিটিতে আছেন বাদল রায়। সেই কমিটি নিয়েই যত ঝামেলা বলে তার দাবি। কিছুদিন আগে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে বিদেশে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সুস্থ হয়ে ফিরে অনেক কিছুরই উত্তর পাননি বলে দাবি তার, ‘আমি ডেভেলপমেন্ট কমিটির দায়িত্বে আছি। সুস্থ হয়ে এসে শুনেছি, ফিফা আমাদের বিভিন্ন খাতে অনেক বরাদ্দ দিয়েছে। ভেবেছিলাম সংশ্লিষ্ট কমিটিকে বরাদ্দের বিষয়টা জানানো হবে। কিন্তু দেখলাম কিছুই জানানো হয় না। আমি মাঝে মাঝে সোহাগকে জিজ্ঞাসা করতাম এই বিষয়ে। যখনই জানতে চাইতাম, তখন ওর কাছ থেকে কোন সদুত্তর পেতাম না।’
সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগের বিপক্ষে তার আরও ক্ষোভ বাদল রায়ের। তার মতে, ‘আমি তিনবার নির্বাচিত সহ-সভাপতি। এর আগে যুগ্ম সম্পাদক ছিলাম। আজ পর্যন্ত কোনও অনৈতিক কাজ করিনি যাতে ফুটবলের ক্ষতি হয়। একজন সাধারণ সম্পাদকের কাজ হচ্ছে সব কিছু অবহিত করা। অথচ তিনি সবসময় লুকোচুরি করে চলেন। সদস্যরা কোন পাত্তাই পায় না তার কাছে। ফিফার কাছ থেকে টাকা এসেছে। অথচ ডেভেলপমেন্ট কমিটি কাজ করতে পারবে না। এ নিয়ে একদিন একটু উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়েছে তার সঙ্গে। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার আমার কথা শুনতেই হবে। তার কথা শুনে আমার পরিবার উদ্বিগ্ন হয়েই থানায় জিডি করেছে। বাফুফের কোন কর্মচারীর বেতন বাড়ে না। শুধু তারটা লক্ষাধিক বাড়ে, কেন?’
বাফুফে ভবনে প্রবেশ নিয়ে তার কথা, ‘বাফুফে কোন কর্পোরেট হাউজ না। ফিফা, এএফসিও না। এখানে ঢুকতে গেলে পদে পদে বাধা আসে। কিন্তু কেন? সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হয় না। ১৯৭ র্যাংকিংয়ে থেকে এগুলো হতে পারে না। সাধারণ সম্পাদক জেলার লোকদের ঢুকতে দেয় না।’
এদিকে বাফুফে সাধারণ সম্পাদকের এমন ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেছে মোহামেডান ও সোনালী অতীত ক্লাব। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন বলেই জানিয়েছে।