‘আফগানদের বিপক্ষে পেসারদের সফল হওয়া কঠিন’

হাসিবুল হোসেন শান্ত।বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মঙ্গলবার রাতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশকে সমতায় ফিরতে ম্যাচটি জয়ের বিকল্প নেই। আগের ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে সব বিভাগে পরাজিত হওয়া বাংলাদেশ কি পারবে সমতায় ফিরতে? এমন প্রশ্ন এখনো ক্রিকেট ভক্তদের মনে মনে। মঙ্গলবার ম্যাচটি শুরু হবে রাত সাড়ে ৮টায়। 

মঙ্গলবার ম্যাচ জিততে গেলে বাংলাদেশ টিমের পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে বলে মনে করেন জাতীয় দলের সাবেক পেসার হাসিবুল হোসেন শান্ত। গত ম্যাচে তিন পেসার রুবেল-রাহী-আবুল হাসান মিলে ১০ ওভারে ব্যয় করেছেন ১১২ রান। বিনিময়ে পেয়েছেন চারটি উইকেট। অন্যদিকে স্পিনাররা বাকি ১০ ওভার বোলিং করে মাত্র ৫৫ রান খরচ করেছেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সেরা বোলারদের বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে ব্যাটসম্যানদের রান করতে না দেওয়া। এই লক্ষ্যে স্পিনাররা সফল হলেও ব্যর্থ ছিলেন পেসাররা।

বাংলাদেশের সাবেক পেসার মনে করেন, আফগান ব্যাটসম্যানদের রুখতে পেসারদের বদলে স্পিনারদের কিংবা স্লো মিডিয়াম পেসারদের ওপরই ভরসা রাখা উচিত টিম ম্যানেজমেন্টের, ‘উইকেটের ওপর নির্ভর করেই তো কম্বিনেশন হবে। এখান থেকে কম্বিনেশন ঠিক কেমন হওয়া উচিত তা বলা মুশকিল। তবে যতখানি মনে হচ্ছে ওদের পেস আক্রমণ দিয়ে কিছু করা খুব কঠিন। আমাদেরও বিকল্প আছে। আমরা যদি স্লো বোলিং দিয়ে কিছু করতে পারি আমাদের জন্য ভালো হবে। এক্ষেত্রে সৌম্য সরকার আছেন, আরিফুল ইসলাম আছেন। তারা ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংটাও ভালো করতে পারবেন।’

আগের ম্যাচে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। ১৫ ওভার শেষে ৯৬ রানে আটকে রেখেছিল আফগানদের। তবে শেষ ৫ ওভারে আবুল হাসান-রাহীদের ওপর চড়াও হয়ে আফগানিস্তান তুলে নেয় ৭১ রান। শেষ পর্যন্ত এই পাঁচ ওভারে নেওয়া রানগুলোই ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় বাংলাদেশকে। এমন মূল্যায়ন করে শান্ত বলেন, ‘শেষ পাঁচ ওভারে ৭১ রান নিয়েছে আফগানরা। ডেথ ওভারে বোলাররা প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের ওপর কোনও প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। ওখানেই আমরা ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছি।’

তাই বাঁচা-মরার লড়াইয়ে জাতীয় দলকে কিছু টিপসও দিয়ে রাখলেন সাবেক এই পেসার। আগের ম্যাচে বাংলাদেশের বোলাররা ৯টি ছক্কা হজম করেছে আফগান ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে। এই জায়গাতে বোলারদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে বললেন শান্ত, ‘ওভার বাউন্ডারিগুলো ঠেকাতে হবে। এক ওভারে দুটো কিংবা তিনটি করে ছক্কা মারলে যে কোনও দলের স্কোরই বড় হবে। এখানে বোলারদের দায়িত্বশীল বোলিংটা করতে হবে। আগের ম্যাচে ওরা অনেক ছক্কা মেরেছে। ওদের ব্যাটসম্যানদের এই জায়গাতে আটকে রাখতে পারলে বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটা সহজ হবে। নয়তো আজও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে।’

টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হওয়ার আগেই রশিদ-নবী-মজিবরকে নিয়ে রীতিমতো আলোচনার ঝড় বয়ে গেছে। আর সেই নবী-রশিদ-মজিবরের ঘূর্ণিতেই লণ্ডভণ্ড হয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের ফিল্ডিংকেও যাচ্ছেতাই বলেলেন এই পেসার, ‘প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বোলিং, ব্যাটিং, ফিল্ডিং সবই ছিল ছন্নছাড়া। যে রশিদ খানকে নিয়ে এতো আলোচনা তাকে নিয়ে তো সতর্ক থাকতেই হবে। অথচ তার প্রথম বলেই মুশফিককে কেন রিভার্স সুইপ করতে হবে? তামিমকে ইনিংসের প্রথম বলেই কেন লাইন মিস করতে হবে? এসব মিলিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে ব্যাটসম্যানরা আত্মাহুতি দিচ্ছেন। আজকের ম্যাচে আমাদের সেই ব্যাটসম্যানদের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে। বিশেষ করে দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দেরই এখানে ভূমিকাটা বেশি রাখতে হবে। আশা করি আগের ম্যাচের ভুলগুলো এই ম্যাচে আর হবে না।’

মাহমুদউল্লাহ তার প্রথম ওভারে এক রান দিয়ে তুলে নেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। এর পাশাপাশি মোসাদ্দেকও তিন রান খরচায় দারুণ একটি ওভার উপহার দেন। ১৩ ও ১৪তম ওভারে এই দুজন বোলিং করেছিলেন। অথচ ভালো বোলিং করার পরেও সাকিব পরের ওভারগুলোতে এই দুজনের কারো হাতেই বল দেননি। এই নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে। হাসিবুল হোসান শান্তও সাকিবের এমন অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এখানে পেসারদের বদলে স্পিনারদের ব্যবহার করলে ম্যাচের চিত্রটা ভিন্ন হতে পারতো। যে উইকেটে স্পিনাররা ভালো করছে সেখানে স্পিনারদের রেখে কেন রাহী-রাজুদের মতো বোলার ব্যবহার করেছে- বিষয়টি আমি পরিষ্কার নই। তবে শুধু যে বোলাদের দোষ তা নয়। ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব ছিল লম্বা ইনিংস খেলার। কিন্তু টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে এতবড় সংগ্রহ টপকানো সত্যিই কঠিন ছিল।’

২০১২ সালে অভিষেক হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট একবারই ভালো করেছিলেন আবুল হাসান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। এরপর আর কোন চমক দেখাতে পারেননি। ঘরোয়া ক্রিকেটের পরীক্ষিত এই পারফরমার কেন ছন্দে নেই? এর ব্যাখ্যায় হাসিবুল হোসেন বললেন, ‘রাজু (আবুল হাসান) আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগছে। এর কারণও আছে। ওকে কিছু ম্যাচে নিয়মিত সুযোগ দেওয়া গেলে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে। কোনও সিরিজেই কিন্তু ওকে টানা খেলানো হয়নি। অনেক দিন পর পর এসে একটা ম্যাচ খেলার চাপটা সবাই নিতে পারে না। এই চাপে পড়েই রাজু ভালো করতে পারছে না।’