যুব এশিয়া কাপেও হৃদয় ভাঙার গল্প

এমন হার মেনে নিতে পারছিলো না যুবারা। জয়ের জন্য প্রয়োজন দুই রান, হাতে তখন একটি মাত্র উইকেট। ম্যাচের এমন নড়বড়ে সময়েই পা হড়কে বসে ক্রিজে থাকা ব্যাটসম্যানদের। দুই ব্যাটসম্যানের প্রান্ত বদলের ভুল বোঝাবুঝিতে যুব এশিয়া কাপেও হৃদয় ভাঙার গল্প লিখেছে বাংলাদেশ যুব দল। সেমিফাইনালে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কাছে বাংলাদেশ হেরেছে দুই রানে।

এমন হারে ক্রিকেট ভক্তদের হৃদয়ে আরও একবার হলো রক্তক্ষরণ। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম গ্যালারিতে তখন ছিলো পিনপতন নিরবতা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুইবার ভারতের বিপক্ষে হারের নরক যন্ত্রণা পেলো বাংলাদেশ। শেষ দুই ব্যাটসম্যানের ভুলে আবারো তীরে এসে তরী ডুবলো। নন স্ট্রাইকপ্রান্তে থাকা মিনহাজুলের ভুলেই রানআউটে কাটা পড়ে বাংলাদেশের শেষ উইকেট।

এমন হারের পর সাকিব-মুশফিকের মতো একই দৃশ্যের অবতারণা হলো মিরপুরে। কাঁদলেন রকিবুল-মিনহাজরা। দুইজনই ক্রিজ আকঁড়ে পড়ে ছিলেন। তাদেরকে টেনেও তুলতে পারেননি ভারতীয় ক্রিকেটাররা। তাদের কান্নায় গোটা গ্যালারিও আপ্লুত হয়েছিলো। গতকয়েক বছরে মাশরাফি-মুশফিক-সাকিবরা কাঁদিয়েছেন এবার কাঁদালেন মিনহাজ-রকিবুলরা।

গত কয়েক বছর ধরে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারত সামনে এলেই এলোমেলো হয়ে গেছে বাংলাদেশ। বড়দের পর ছোটরাও ভারত বাধা টপকাতে পারলো না। বৃহস্পতিবার ১৭৩ রানের সহজ লক্ষ্যের বিপরীতে খেলতে নামলেও তা টপকাতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। বড়দের মতো ছোটরা মানসিক স্থিতি ধরে রাখতে ব্যর্থ ছিলেন। ফলশ্রুতিতে আবারো ভারতের বিপক্ষে হার মানতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ৪৬.২ ওভারে ১৭০ রানে অলআউট হয়েছে স্বাগতিকরা।

টপ অর্ডারের ব্যর্থতা দিয়ে ইনিংস শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের। এরপর মিডল অর্ডারে খেলা শামিম হোসেন ও আকবর আলী দুইজন মিলে গড়েন গুরুত্বপূর্ণ ৭৪ রানের জুটি। জয় থেকে একটুখানি দূরুত্বে থেকে অহেতুক সুইপ খেলতে গিয়ে সাজঘরে ফেরেন আকবর (৪৫)। বাংলাদেশের জমে যাওয়া এই জুটি ভাঙেন বাঁহাতি স্পিনার হারশ ত্যাগী। তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিলো বাংলাদেশের দখলে।  

জয়ের জন্য জুনিয়র টাইগারদের প্রয়োজন ছিলো ১২ রান, হাতে তিনটি উইকেট। কিন্তু ওখান থেকে ম্যাচটি জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এবারও একই ভুল করে বসেন চাঁদপুর থেকে উঠে আসা তরুণ ব্যাটসম্যান শামীম হোসেন। মিডউইকেটে খেলতে গিয়ে সহজ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন সর্বোচ্চ রান করে। ৮১ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় শামীম তার ৫৯ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন।

এর আগে টসে জিতে আগে ব্যাটিং নেওয়া ভারতকে শুরুতেই চেপে ধরে বাংলাদেশের বোলাররা। লেগ স্পিনার রিশাদ হাসানের ঘূর্ণিতে ভারতীয় ওপেনার দেবদত্ত পারিকাল ফিরে গেলেও প্রতিরোধ গড়ে ভারত। দ্বিতীয় উইকেটে ৬৭ রানের জুটি গড়লেও শেষ পর্যন্ত তারা বড় স্কোর গড়তে পারেনি। ৪৯.৩ ওভারে ভারতকে অলআউট করে ১৭২ রানে আটকে দেয় বাংলাদেশ।

পেসার শরিফুল ইসলাম বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, রিশাদ হাসান ও তৌহিদ হৃদয় প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।