পরিপূর্ণ ক্রিকেটার হওয়ার প্রত্যাশায় অপু-মিঠুন

অপু ও মিঠুন।সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছেন নাজমুল হোসেন অপু ও মোহাম্মদ মিঠুন। এখন অপেক্ষায় টেস্ট অভিষেকের। বৃহস্পতিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই টেস্টের দল ঘোষণায় সেই প্রতীক্ষারও অবসান হতে যাচ্ছে!

এই দলে নতুন মুখের দুজন বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু এবং উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন। তারা দুজনই চলমান ওয়ানডে সিরিজের স্কোয়াডে আছেন। টেস্ট খেলে এখন পরিপূর্ণ ক্রিকেটার হওয়ার প্রত্যাশায়  মুখিয়ে আছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুজনই তাদের ভাবনাগুলো মেলে ধরলেন বাংলা ট্রিবিউনের কাছে।

৫৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা অপুর সংগ্রহে আছে ১৪৪টি উইকেট। ২০১০ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া বাঁহাতি এই স্পিনার তিনবার নিয়েছেন পাঁচটি করে উইকেট। টেস্ট খেলতে মুখিয়ে থাকা ২৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার জানালেন তার পরিকল্পনার কথা, ‘ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল একদিন টেস্ট ক্রিকেট খেলবো। আজকে এই স্বপ্নটা পূরণ হয়েছে। টেস্ট খেলতে পারলে একজন পরিপূর্ণ ক্রিকেটার হয়ে উঠতে পারবো।’

টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে ক্রিকেটের নিয়মিত মুখ নাজমুল ইসলাম। জাতীয় দলে বাঁহাতি এই স্পিনার দিন দিন অপরিহার্য হয়ে উঠছেন। নিজের পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে বললেন, ‘আমার জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে ২০ ওভারের ক্রিকেট দিয়ে আমার অভিষেক হয়েছে। এরপর ওয়ানডে খেলে নিজের অবস্থাটা বুঝতে পেরেছি। সবমিলিয়ে এই মুহূর্তে আমি দারুণ আত্মবিশ্বাসী। আশা করি টেস্ট ক্রিকেটে নিজের সেরাটা দিতে পারবো।’

অপুর মতো গত দুই আসরে রংপুর রাইডার্সের হয়ে বিপিএল মাতিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মোহাম্মদ মিঠুন। এশিয়া কাপ থেকে শুরু করে দারুণ ছন্দে থাকা এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডেও সুযোগ পেয়েছেন। ৮৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ৩৫.৫৯ গড়ে মিঠুনের সংগ্রহ ৪ হাজার ৭৭০ রান। ১২টি সেঞ্চুরি ছাড়াও ২৪টি হাফ সেঞ্চুরি আছে তার ঝুলিতে। বাংলা ট্রিবিউনকে মিঠুন অভিব্যক্তি জানালেন এভাবেই, ‘এক কথায় বলতে গেলে পরিপূর্ণতা পেলাম। আমি যেটা মনে করি একটা খেলোয়াড় যখন টেস্ট খেলে, তখনই সে ক্রিকেটের পূর্ণতা পায়। আমার কাছেও বিষয়টা ওইরকম। আমার কাছে মনে হচ্ছে ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট খেলতে পারাটা আমার জন্য পরিপূর্ণতা অর্জন।’

২০১৪ সালে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অভিষেক মিঠুনের। প্রায় চার বছর পর সাদা পোশাকে অভিষেকের অপেক্ষায় তিনি। ২৭ বছর বয়সী অভিজ্ঞ এই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান মনে করেন টেস্ট খেলার মতো যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে তার। তাই এই ফরম্যাটে ভালো করতে তিনি আত্মবিশ্বাসী, ‘টেস্ট খেলতে অভিজ্ঞতা লাগে। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে আমার অভিজ্ঞতা অনেক হয়েছে। সেই হিসেবে আমি মনে করি সঠিক সময়ে আমি টেস্টে সুযোগ পেয়েছি। সব সময়ের মতো এখানেও লক্ষ্য থাকবে সুযোগ পেলে নিজেকে প্রমাণ করার। দলের চাহিদা পূরণ করাটাও গুরুত্বপূর্ণ।’