২৩৪ রানে শেষ বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস



ওয়াগনারের বোলিংয়ে বেশি দূর যায়নি বাংলাদেশের ইনিংস।হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দারুণ সূচনা করেও প্রথম ইনিংসে খুব বেশি বড় সংগ্রহ পায়নি বাংলাদেশ। তৃতীয় সেশনের শুরুতে ২৩৪ রানে গুটিয়ে গেছে সফরকারীরা।

অবশ্য প্রথম সেশনটা দাপটের সঙ্গে করেছিলো তামিমরা। শুধুমাত্র তামিম ইকবালের সেঞ্চুরিতে ভর করে দুই সেশনে প্রতিরোধ গড়া সম্ভব হয় স্বাগতিকদের সামনে। তামিম বিদায় নিলে দ্বিতীয় সেশন শেষেই গুটিয়ে যায় প্রথম ইনিংস।

প্রথম সেশনের তুলনায় এই সেশন ছিলো বিবর্ণ। যেখানে ২ উইকেট ছিলো লাঞ্চের আগে দ্বিতীয় সেশনে ৯৫ রান যোগ করতে আরও পতন হয়েছে ৫ উইকেটের।  

অথচ ওয়ানডে সিরিজে রানের দেখা পাচ্ছিলেন না তামিম। তাই টেস্ট সিরিজে তাদের সামনে অপেক্ষা করছিলো বিশাল পরীক্ষা। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামলেও সেই পরীক্ষার সূচনাটা ইতিবাচক হয় ওপেনার সাদমান ইসলাম ও তামিম ইকবালের ব্যাটে। সাদমান সতর্ক হয়ে খেলেছেন তো অপর দিকে তামিম ছিলেন আগ্রাসী। দুই ওপেনার মিলেই স্কোরটা নিয়ে যান ৫৭ রানে।

দারুণ এই শুরুটায় আঘাত হানেন ট্রেন্ট বোল্ট। ২৪ রানে ব্যাট করতে থাকা সাদমান অফস্টাম্পের ওপর পরা বল খেলতে গিয়েছিলেন লেগ সাইডে। সুইং করা বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাদমান। অপর দিকে আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলে ২৬তম হাফসেঞ্চুরি তুরে নেন তামিম। অবশ্য কলিন ডি গ্র্যান্ড হোমের ১৮তম ওভারে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। ৬৫ রানে ব্যাট করছিলেন তখন। ফিরতি সেই ক্যাচ অবশ্য লুফে নিতে পারেননি গ্র্যান্ড হোম। তামিম এই সুযোগটি কাজে লাগান ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি তুলে নিতে। বিদেশের মাটিতে যা তার চতুর্থ।

অপর প্রান্তে অবশ্য কাউকেই লম্বা প্রতিরোধ দিতে দেখা যায়নি। সাদমানের পর খুব সাবধানে খেলছিলেন মুমিনুল হক। বিরতির আগ পর্যন্ত ধীরে সুস্থেই খেলতে থাকেন। বিপত্তি বাঁধে ২৭তম ওভারে। নেইল ওয়াগনারের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে মুমিনুল ফেরেন ১২ রান করে। বিরতির পর মিঠুন তামিমের সঙ্গে কিছুক্ষণ প্রতিরোধ দিয়ে খেললেও ওয়াগনারের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে তালুবন্দী হয়েছেন ৮ রানে।

নড়বড়ে অপর এই প্রান্তে থিতু হতে পারেননি সৌম্য সরকারও। টিম সাউদির অসাধারণ লাইনে করা শর্ট বলে ডিফেন্স করবেন নাকি ছেড়ে দিবেন- এমন দ্বন্দ্বে বল তার গ্লাভসে লেগে চলে যায় উইকেট কিপারের হাতে। সৌম্য বিদায় নেন মাত্র ১ রানে!

তামিম অবশ্য এরপরেও হাত খুলে খেলতে থাকেন। মাঝে শর্ট লেগে পুনরায় জীবন পেলেও সেই কলিন ডি গ্র্যান্ড হোমই তাকে ফেরান ক্যাচ আউটে। আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলে ১২৬ রান করা তামিম শর্ট ও বাইরের ডেলিভারি খেলতে গিয়ে জমা পড়েন গালিতে থাকা উইলিয়ামসনের হাতে। আগ্রাসী তামিমের ইনিংসটি ছিলো ১২৮ বলের। তাতে ছিলো ২১টি চার ও ১টি ছয়।  

তার বিদাযের পর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। দ্বিতীয় সেশনের আগে তাকে ২২ রানে বিদায় দেন নেইল ওয়াগনার। বিরতির আগে মেহেদী মিরাজকেও থিতু হতে দেননি এই পেসার। মিরাজকে বিদায় দিয়ে দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশের ৭ উইকেট তুলে নিয়ে চাপে ফেলে দেয় স্বাগতিকরা। সেই চাপ তৃতীয় সেশনে আর নিতে পারেনি বাংলাদেশ। শট খেলতে গিয়ে শুরুর আধা ঘণ্টাতেই বিদায় নেন একে একে আবু জায়েদ (২), খালেদ (০) ও লিটন দাস (২৯)।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৪৭ রানে ৫ উইকেট নেন পেসার নেইল ওয়াগনার।তিনটি নেন আরেক পেসার টিম সাউদি। একটি করে নেন কলিন ডি গ্র্র্যান্ড হোম ও ট্রেন্ট বোল্ট।