জহুরুলের ম্যাচসেরা ইনিংসে জিতলো আবাহনী

জহুরুল ইসলাম।

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে জয় অব্যাহত রেখেছে আবাহনী লিমিটেড। প্রাইম দোলেশ্বরকে তারা অল্পতে বেঁধে রেখে জিতেছে ৪ উইকেটে। তাদের মতো জয় অ্যাহত রেখেছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। অপর ম্যাচে হারের বৃত্তে থাকা খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি লিগে দ্বিতীয় জয়ের দেখা পেয়েছে অবশেষে।

আবাহনী-প্রাইম দোলেশ্বর

ঢাকায় অনুষ্ঠেয় এই খেলায় টস জিতে প্রাইম দোলেশ্বরকে ব্যাটিংয়ের পাঠানোর সিদ্ধান্তটা কাজে লাগিয়েছে আবাহনী। তাদের অল্পতে গুটিয়ে রেখেছে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে। লেজের দিকে বেশি কার্যকরী ছিলেন সৌম্য সরকার! মিডিয়াম এই পেসার একাই ৩৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। আবাহনীর বোলিংয়ে সর্বোচ্চ রান বলতে ফরহাদ হোসেনের সর্বোচ্চ ৪৭। লড়াকু ব্যাটিং ছিলো মার্শাল আইয়্যুবের ৪০ ও তাইবুর রহমানের ৪১ রানের ইনিংসে। এই মিডল অর্ডারের মিলিত ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ২২৪ রানের পুঁজি পায় প্রাইম দোলেশ্বর।

সৌম্য সরকার ছাড়া দুটি উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি। একটি করে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাইফউদ্দিন।

জবাবে আবাহনী ওপেনার জহুরুল ইসলামের দৃঢ়চেতা ব্যাটিংয়েই জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলেছে। অপরপ্রান্ত থিতু না হলেও ৯১ রানে অপরাজিত ছিলেন ১২৭ বলের ইনিংসে। লিগে ধারাবাহিকতার নজির রাখছেন তিনি একের পর এক। মাঝে মিঠুন ৪০ আর বোলিংয়ের পর সাইফউদ্দীন ৫৫ রানে অপরাজিত থেকে অলরাউন্ড নৈপুণ্য বজায় রেখে খেলেছেন। সাইফ ও জহুরুলের ব্যাটেই আবাহনী ৪৮.৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচসেরা ওপেনার জহুরুল ইসলাম।

শেখ জামাল-লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ

পয়েন্ট টেবিলে ধাবারাবাহিকতা ধরে রেখেছে রূপগঞ্জ। আবাহনীর পরে থাকলেও দুটি দলেরই সমান পয়েন্ট ১৬ করে। সাভারে শেখ জামালকে তারা হারিয়েছে ৮ উইকেটে। টস জিতে শেখ জামালকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে তাদের অল্পতে গুটিয়ে দেয় রূপগঞ্জ। নাবিল সামাদ ও মুক্তার আলীর বোলিং তোপে তারা ৪৩.২ ওভারে গুটিয়ে যায় ১৪১ রানে। সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন শুধু তানবীর হায়দার। নাবিল সামাদ ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা। ইকোনমি রেটও ভালো ছিলো তার। এছাড়া ৩টি উইকেট নিয়েছেন মুক্তার আলী।

এত অল্প পুঁজি পেয়ে জয় পেতে সমস্যা হয়নি রূপগঞ্জের। ২৮.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় রূপগঞ্জ। জয়ের ভিত গড়ে দেন মোহাম্মদ নাঈম ও মুমিনুল হক মিলে। নাঈম ৬৩ করে জয়ের কাছে পৌঁছে বিদায় নিলেও মুমিনুল অপরাজিত ছিলেন শেষ পর্যন্ত। অপরাজিত ছিলেন ৬০ রানে। ম্যাচসেরা নাবিল সামাদ।

খেলাঘর ও উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব  

খেলাঘর ৭ ম্যাচে হেরে জয় তুলে নিয়েছে তলানীতে থাকা আরেক দল উত্তরা স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে। ফতুল্লায় তারা জিতেছে ৩৯ রানে। এটি তাদের দ্বিতীয় জয়। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা খেলাঘর ৪ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ২৫৭ রান। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৭৭ রানে অপরাজিত থেকে বড় পুঁজি এনে দেন। এছাড়া ৫৬ করেন শাহরিয়ার কমল, ৪১ রান করেন অধিনায়ক অমিত মজুমদার।

জবাবে উত্তরা স্পোর্টিং মোহিমেনুল খানের ৯৩ রানে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেও থেমে গেছে ৮ উইকেটে ২১৮ রান তুলে।  খেলাঘরের পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন রবিউল হক, রবিউল ইসলাম রবি ও তানভির ইসলাম। ম্যাচসেরা খেলাঘরের হয়ে ৭৭ রানে অপরাজিত থাকা অঙ্কন।