ইয়াসিরের সঙ্গে সাইফ চুক্তিটি করেছে গত বছর। তৃতীয় বিভাগের দল কদমতলা থেকে নিয়ে আসা প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে যাতে হারাতে না হয়, সেজন্য তার দাম বেঁধে দিয়েছে সাইফ। অন্য কোনও ক্লাব তার প্রতি আগ্রহ দেখালে রিলিজ ক্লজের ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করে তবে নিতে হবে।
গত মৌসুম শুরুর আগে সাইফের স্কাউটরা খুঁজে নেয় ইয়াছিন আরাফাতকে। কদমতলা দলের হয়ে তখন ইয়াছিন মাঠ মাতাচ্ছিলেন। তার মধ্যে প্রতিভা দেখতে পেয়ে এবার প্রিমিয়ার লিগে খেলার সুযোগও করে দিয়েছে তারা। সাফল্যের সঙ্গে ইয়াছিন ডিফেন্সে খেলে গেছেন।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আগামী দুই মৌসুমও ইয়াছিনকে সাইফে থাকতে হচ্ছে। অন্য কোনও ক্লাব তার প্রতি আগ্রহী হলে মাসিক বেতন ছাড়াও ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বিনিময় করতে হবে! তার ক্লাব সাইফ স্পোর্টিংও তাকে নিয়ে খুব উচ্ছ্বসিত। দেশীয় ফুটবলে এমন সংস্কৃতি চালুর পর সাইফ স্পোর্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিরউদ্দীন চৌধুরী জানালেন পুরোপুরি পেশাদারভাবে দল চালাতে চাইছেন তারা, ‘আমরা ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাব ফলো করি। ফিফা-এএফসি আইন মেনে চলি। তারা যেভাবে চলে সেভাবে চলার চেষ্টা করে থাকি। আমাদের একাডেমিতেই অনেক খেলোয়াড় আছে যাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে চুক্তি। এর মধ্যে ইয়াছিনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে চুক্তির সঙ্গে রিলিজ ক্লজ সর্বোচ্চ এক কোটি ৬০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। এটা বাংলাদেশের ফুটবলে নতুনত্ব বলতে পারেন। আমরা ওর মধ্যে প্রতিভা দেখতে পেয়েছি। তাই তৃতীয় বিভাগ থেকে সরাসরি প্রিমিয়ারে খেলার সুযোগ করে দিয়েছি। আশা করছি সামনের দিকে সে আরও ভালো করবে।’
এত বড় অঙ্কের রিলিজ ক্লজ দেখে ইয়াছিনের দিকে কোনও ক্লাব আপাতত হাত বাড়ালেও তাকে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। ইয়াছিন আরাফাত অবশ্য বুঝে শুনেই দীর্ঘমেয়াদের চুক্তিতে গেছেন, ‘সাইফে আমি ভালো আছি। এখান থেকে মূলত আমার উত্থান। আমি আরও দুই মৌসুম এই দলে খেলবো। ইচ্ছে করলেও অন্য দলে খেলা কঠিন। রিলিজ ক্লজে অর্থের পরিমাণও বেশি।’
রিলিজ ক্লজে যেমন অর্থের পরিমাণ বেশি তেমন পারফরম্যান্সেও চমক দেখিয়েছেন এই লেফট ব্যাক। সাইফের হয়ে লিগে প্রায় সব ম্যাচই খেলেছেন। লিগে খেলেই জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে অবাকও হয়েছেন। সপ্তাহখানেক ধরে জাতীয় দলে অনুশীলন করে যাচ্ছেন। তাই ইয়াছিন উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেছেন, ‘জাতীয় দলে খেলাটা আমার স্বপ্ন। তবে এতো তাড়াতাড়ি ডাক পাবো, অনুশীলনের সুযোগ পাবো, ভাবিনি। দেশের সেরা ফুটবলারদের সঙ্গে অনুশীলন করতে পারছি। এতেই ভালো লাগছে।’
তরুণ এই ডিফেন্ডারের জন্য অন্যদের সঙ্গে লড়াই করে মূল দলে জায়গা করে নেওয়াটা কঠিন। তবে ইয়াছিন হাল ছাড়ার পাত্র নন, ‘আমার জন্য মূল দলে জায়গা পাওয়াটা কঠিন হবে। কিন্তু আমি কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। বাকিটা ভবিষ্যৎ বলে দিবে। কোচ যাকে ভালো মনে করবে তাকেই নিবে।’
ইংলিশ কোচ জেমি ডে অবশ্য বলেছেন, ‘ইয়াছিন ভালো ফুটবলার। তার মধ্যে প্রতিভা আছে। তাকে অনুশীলনে দেখা হচ্ছে। বাকিটা সময় বলে দিবে।’