‘সব দলই সমান, একটু বেশি শক্তিশালী আবাহনী’

519A9685জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক সিরিজ শেষ হতে না হতেই ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের দামামা বাজছে। আগামী রবিবার, ১৫ মার্চ থেকে ১২ দলের ক্লাব ক্রিকেটের জমজমাট লড়াই শুরু হচ্ছে।

এবার উন্মুক্ত নিয়মে দলবদলের ফলে প্রতিটি দলে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। আগের ক্লাবেই থেকে গেছেন এমন ক্রিকেটারের সংখ্যা কমই। ফলে সতীর্থ ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে বোঝা-পড়ার বিষয়টি এবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। যারা দ্রুততম সময়ে মানিয়ে নিতে পারবেন, তারাই হয়তো দিনশেষে সবচেয় চওড়া হাসি হাসবেন।

ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে এসে খেলোয়াড়েরা একই দলে ভিড়েছেন। দুই দিন পরই শুরু লিগ। এই অল্প সময়ের মধ্যে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া একটা চ্যালেঞ্জ। আবাহনী ও প্রাইম ব্যাংকের দুই কোচ লিগে ভালো করতে এটাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদ বলেছেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে অনুশীলন শুরু করতে হচ্ছে। ১৫ তারিখ খেলা। সবাই সবাইকে চেনে। তবে গত বছরের মাত্র তিন-চারজন খেলোয়াড় আছে। দলে এবার অনেক পরিবর্তন। তাই সবার সঙ্গে সবার মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগবে। যত তাড়াতাড়ি সবাই সবার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে, তারাই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবে।’

তবে আবাহনী শিবিরে কাজটা কঠিন হওয়ার কথা নয় বলেই মনে করেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক, ‘আমার দলে বেশিরভাগ যেহেতু জাতীয় দলের, সবাই সবাইকে চেনে, জানে এবং বোঝে। ক্লাব ক্রিকেটের প্যাটার্নটাও সবাই বোঝে। আর ড্রেসিংরুম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন কিছু না। যখন আমি থাকি, ছেলেদের সাথে আমার পরিচয় তো অনেকদিনের। এছাড়া আবাহনীর ড্রেসিংরুমে এসব কঠিন না। অফিশিয়াল কোনো চাপ নেই।’

বাংলাদেশের প্রথম টেস্টের কোচ সারোয়ার ইমরান। এবার তিনি প্রাইম ব্যাংকের দায়িত্বে আছেন। তিনিও মনে করেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে টিম স্পিরিট তৈরি করতে হবে, ‘আমাদের ভালো করতে হলে খুব তাড়াতাড়ি টিম স্পিরিট তৈরি করা জরুরি। একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে আরেকজন খেলোয়াড় ও কোচের সম্পর্কটা যেন ভালো হয়। ম্যাচ জিততে এগুলো প্রভাব ফেলে। এর বাইরে মানসিক শক্তির পাশাপাশি স্কিলের গুরুত্ব তো আছেই। এগুলোতে উন্নতি করতে হবে।

মুশফিক, লিটন, মোসাদ্দেক, নাঈম শেখ, নাজমুল শান্ত, আফিফ, সাইফউদ্দিন, তাইজুল, আরাফাত সানি, বিপ্লবদের নিয়ে শক্তিশালী দল গড়েছে আবাহনী। এমনকি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের দুই পেসার তানজিদ হাসান সাকিব ও শাহীন আলমও আছেন ঐতিহ্যবাহী দলটিতে। এত বৈচিত্র্যপূর্ণ সব খেলোয়াড় থাকায় আবাহনীর রিজার্ভবেঞ্চও হবে সমৃদ্ধ। এটাকে অবশ্য ইতিবাচকই দেখছেন মাহমুদ, ‘সবাই পেশাদার খেলোয়াড়। টিমে ব্যাল্যান্স আনতে হুটহাট কাউকে না কাউকে প্রয়োজন হতে পারে।  কোনদিন হয়তো পেসার খেলাতে পারি, কোনদিন স্পিনার। ওই যে ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তন এগুলো মেনে নিতে হয়। চ্যাম্পিয়ন দল হতে গেলে এমন করতেই হবে। আপনার দলের গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড় বিশ্রামে যেতেই পারে। আমরা সব সময় চেষ্টা করবো সেরা কম্বিনেশনটা রাখার।’

প্রাইম ব্যাংকের কোচ সারোয়ার ইমরান আবাহনীকে এগিয়ে রাখলেও খালেদ মাহমুদ মনে করেন অনেকগুলো দলই শিরোপা লড়াইয়ের জন্য ঝাঁপাবে।

আর সেজন্যই আবাহনী কোচ প্রথম ম্যাচ থেকেই সতর্ক থাকতে চান, ‘এখানে আসলে ছোটবড় দল নেই। প্রিমিয়ার লিগে গত কয়েকবছর ধরে আমি দেখছি যেকোনও দল  আপসেট ঘটাতে পারে। সুতরাং হালকাভাবে নেওয়ার কিছু নেই। আমরা প্রথম ম্যাচ থেকেই সিরিয়াস থাকবো। ‘

মাহমুদের মতো সারোয়ার ইমরানও মনে করেন প্রিমিয়ার লিগে সব দলেরই সমান সুযোগ আছে, ‘সব দলই সমান, দুই-একটা দল হয়তো একটু বেশি শক্তিশালী। বিশেষ করে আবাহনী দলটি। সে হিসেবে আমি বলবো যেকেউই চ্যাম্পিয়ন হতে পারে। যেহেতু বিদেশি খেলোয়াড় নেই, যে কারোর সুযোগ আছে। তবে স্থানীয় খেলোয়াড়দের প্রমাণ করার দারুন সুযোগ এবার।’