মুশফিকের মাঠে নামা মানেই যেন রানের বন্যা। জাতীয় দলের মতো যেকোনও দলের অন্যতম ভরসার নাম মুশফিক। নিজের পরিশ্রম দিয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন অন্য উচ্চতায়। রবিবার ধ্বংসস্তুপ থেকে আবাহনীকে তুলে এনে দলকে বড় জয় উপহার দিয়েছেন মুশফিক।
কাজটা মোটেও সহজ ছিল না মুশফিকের জন্য। সহজ প্রতিপক্ষ হলেও পরিস্থিতি ছিল বেশ কঠিন। কেননা ২৭ রানে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান লিটন দাস, মোহাম্মদ নাঈম ও নাজমুল হোসেনকে হারিয়ে আবাহনী তখন কাঁপছে।
এরপর চারে নেমে মুশফিক দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। যদিও অন্যপ্রান্তে দ্রুত বিদায় নেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব (১৪) ও আফিফ হোসেন (৩)। ৬ষ্ঠ উইকেটে মোসাদ্দেককে সঙ্গে নিয়ে মুশফিক গড়েন ১৬০ রানের জুটি। কভার ড্রাইভ, অন ড্রাইভ, সুইপ, রিভার্স সুইপের পসরা সাজিয়ে মুশফিকে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের ১২তম সেঞ্চুরিতে পৌঁছান। চাপের মুখে নেমে ১১ চার ও ৪ ছয়ে ১২৪ বলে খেলেন ১২৭ রানের আলো ঝলমলে ইনিংস।
দ্বিতীয়বারের মতো লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলতে নামা জয়নুল ইসলাম ড্রেসিংরুমে ফিরিয়েছেন মুশফিককে। ১০ ওভার বোলিং করে ৫টি মেডেন নেওয়া জয়নুল আবাহনীর ব্যাটসম্যানদের পুরো সময়টাতেই চাপে রেখেছেন। সব মিলিয়ে ২৮ রান খরচায় ডানহাতি এই পেসার নিয়েছেন ৩ উইকেট।
দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হলেও দীর্ঘদিন পর চোট কাটিয়ে ফেরা মোসাদ্দেক যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন মুশফিককে। উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর পরই অবশ্য ড্রেসিংরুমে ফিরে যান এই অলরাউন্ডার। ৭৪ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় খেলেন ৬১ রানের ইনিংস। এরপরই বিস্ফোরক ব্যাটিং করেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন। ৫ ছক্কায় ১৫ বলে তুলে নেন ৩৯ রান। অপরপ্রান্তে থাকা তাইজুলও খেলেন ১ চার ও ১ ছক্কায় ১৭ রানের ইনিংস। শেষদিকে এই দুই ব্যাটসম্যানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে আবাহনী ৭ উইকেটে ২৮৯ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়।
জবাবে খেলতে নেমে আবাহনীর বোলারদের সামনে শুরুতেই অসহায় হয়ে পড়ে পারটেক্স। বিশেষ করে বাঁহাতি পেসার মেহেদী হাসান রানার গতির কাছে পারটেক্সের ব্যাটসম্যানরা খেই হারিয়ে ফেলেন। নিজের প্রথম ওভারেই ওপেনার আব্বাস মুসরার উইকেট নিয়ে শূভসূচনা করে রানা। দলীয় ২০ রানে সাইফউদ্দিন আরেক ওপেনার হাসানুজ্জামানকে তুলে নিলে মেরুদণ্ড ভেঙে যায় পারটেক্সের। তারপরও মিডল অর্ডারের দৃঢ়তায় ২০৮ রান করতে সমর্থ হয় প্রথম বিভাগ থেকে উঠে আসা দলটি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেন নাজমুল হোসেন মিলন।
মেহেদী হাসান রানা ৪ উইকেট নিয়ে আবাহনীর সেরা বোলার। ৯.৪ ওভারে ৫৫ রান খরচায় তিনি চারটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া তাইজুল ইসলাম দুটি এবং মোসাদ্দেক, আরাফাত ও বিপ্লব একটি করে উইকেট নিয়েছেন।