লকডাউন ভেঙে অনুশীলন, ‘বকুনি’ খেলেন রোনালদো

ফুনচালে রোনালদোর অনুশীলন

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে পর্তুগাল রীতিমতো ‘যুদ্ধে’ নেমেছে। খুব গত ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার ১৫ দিনের লকডাউন শেষ হওয়ার কথা ১৭ এপ্রিল। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো ডি সওসা এটি আরও ১৫ দিন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। আর এর মধ্যেই দেশের সবচেয়ে বিখ্যাত সন্তান লকডাউন অমান্য করে কিছু সময়ের জন্য ফুটবল অনুশীলন করলেন এক স্টেডিয়ামে!

কে সেই বিখ্যাত সন্তান তা হয়তো আপনারা এতক্ষণে ধরে ফেলেছেন। হ্যাঁ, তিনি জুভেন্টাসের পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো!

ইতালিতে করোনা সংক্রমণ যখন সবেমাত্র শুরু হয়েছে, রোনালদো তার ক্লাবের অনুমতি নিয়ে চলে যান পর্তুগালের মাদেইরা রাজ্যে তার বাড়িতে। উদ্দেশ্য ছিল ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত মায়ের পাশে কয়েকটি দিনের জন্য থাকা। এরপর তো করোনাভাইরাস সারা বিশ্বের খেলাধুলাই থামিয়ে দিয়েছে। সিরি ‘আ’ স্থগিত হয়ে আছে অনির্দিষ্ট কালের জন্য। রোনালদোও মাদেইরার রাজধানী ফুনচালের বাড়িতে আটকে আছেন। নিজের বাড়িতেই জিম করছিলেন, একটু-আধটু অনুশীন করছিলেন। কিন্তু কাঁহাতক আর চার দেয়ালের মধ্যে সেঁধিয়ে থাকা যায়! রোনালদো তাই বল নিয়ে একটু বাইরে বেরিয়েছিলেন। ফুনচালের মাদেইরা জাতীয় স্টেডিয়াম, যেটি স্থানীয় ক্লাব সিডি ন্যাসিওনালের হোমগ্রাউন্ড, সেখানে বল নিয়ে একটু ছুটোছুটি আর লাথালাথি করতে গিয়েছিলেন ব্যক্তিগত কয়েকজন স্টাফ নিয়ে। তাও মাত্রই কয়েক মিনিটের জন্য। ব্যস, খবর হয়ে যায় সঙ্গে সঙ্গেই। চলে আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাদেইরার আঞ্চলিক স্বাস্থ্য সচিব  পেদ্রো রামোস ভদ্র ভাষায় সতর্ক করে দিযেছেন রোনালদোকে। বলেছেন, যেখানে সারাদেশে লকডাউন চলছে, সেই আইন অমান্য করে অনুশীলন করার বিশেষ অধিকার রোনালদোকে দেওয়া হয়নি। পেদ্রো রামোসের কথা, ‘ আর সব নাগরিকের মতো আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই শুধু স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে পারেন ক্রিস্টিয়ানো (রোনালদো)।’

`এখানে আলাদা কোনও কর্তৃপক্ষ নেই, কারণ আমরা সবাই সমান। সবাই আমরা মহামারির মুখোমুখি হয়েছি’ – এ পর্যন্ত রোনালদোর জন্য কড়া কড়া কথা বলে আবার তার হয়ে সাফাইও গেয়েছেন মাদেইরার স্বাস্থ্য সচিব, ‘বিশ্বসেরা খেলোয়াড়কে অবশ্যই নিজের ভাবমূর্তি ধরে রেখে উদাহরণ তৈরি করতে হয়। কিন্তু আমরা যেমনটা দেখেছি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ক্রিস্টিয়ানো মাত্রই কয়েক মিনিট অনুশীলন করেছেন, তাতে পৃথিবীর কোনও ক্ষতি হয়নি।’

আসলে বাড়িতে আটকে থাকতে থাকতে একটু খোলা বাতাসে অনুশীলন করতেই হয়তো মন চেয়েছিল। আর করোনাকে পর্তুগাল বেশ বাগ মানিয়ে রাখতে পেরেছে দেখেই সম্ভবত একটু সাহসী হয়ে উঠেছিলেন ৩৫ বছর বয়সী ফুটবলার! এ পর্যন্ত রোনালদোর দেশে করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৫৪৭২ জন, মৃতের সংখ্যা ৪৩৫। প্রতিবেশী দেশ স্পেনে যেখানে করোনায় মৃত্যুর মিছিল চলছে ( মৃত প্রায় ১৭ হাজার), সেখানে পর্তুগালের অবস্থা তো অনেক ভালো!