কাজী নাবিলের চোখে স্থানীয় খেলোয়াড়েরাই দেশের সম্পদ। তাদের নিয়েই তো গড়তে হবে আমাদের জাতীয় দল। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে লিগ আবার শুরু হলে শুধু স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিয়েই লিগের বাকিটা শেষ করার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশের অভিজ্ঞ এই ফুটবল সংগঠক। মৌসুমে একটি দল পাঁচজন বিদেশি ফুটবলার নিবন্ধন করতে পারে। একাদশে খেলতে পারে চারজন। তবে একজন বিদেশির বদলি হিসেবে আরেকজন বিদেশি নামতে পারে। এই হিসেবে ১৩টি ক্লাবে কম-বেশি ৬৫ জন বিদেশি খেলোয়াড় থাকার কথা। কাজী নাবিলের প্রস্তাবনা, ‘এই সময়ে বিদেশিদের বসিয়ে বেতন দেওয়া ও ঢাকায় নিরাপদে রাখাও ক্লাবগুলোর জন্য বাড়তি চাপ। বিদেশিদের সঙ্গে ক্লাবগুলো পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে চুক্তি শেষ করে এবার স্থানীয়দের নিয়ে লিগ শেষ করার কথা ভাবতে পারে। প্রত্যেক ক্লাবে ২০ জন করে দেশি ফুটবলার আছে। বেঞ্চে থাকা দেশি ফুটবলারদের খেলানোর চমৎকার সুযোগ এটা।’
এই প্রস্তাবনা নিয়ে ইতিমধ্যে তিনি বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ও সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনকে। বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী কমিটিতেও আলোচনা করবেন। এছাড়া ভবিষ্যতে বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটা যাতে কমে সেটা নিয়েও উদ্যোগী হবেন কাজী নাবিল, ‘আমার উদ্যোগে এক সময় বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটা কমেছিল। কিন্তু কতগুলো চাপ দেওয়াতে তা বেড়ে যায়। ভবিষ্যতে বিদেশি খেলোয়াড় কমানোর চেষ্টা থাকবে। কারণ স্থানীয় খেলোয়াড়েরাই আমাদের সম্পদ।’
লিগ বন্ধ এখন বন্ধ থাকলেও এখনই বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করে চুক্তির শেষ টানতে আগ্রহী কাজী নাবিল, ‘পরিস্থিতির যখন উন্নতি হবে এবং সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিয়ে লিগের বাকি ম্যাচগুলো আমরা শুরু করতে পারি। অনুশীলন শুরুর আগে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে এবং স্বল্প দর্শক নিয়ে নিরাপদে খেলা চালানোর ব্যবস্থা করতে পারি আমরা।’
অতীতে দেখা গেছে অনেক দলের বিদেশি ফুটবলার ফিফায় অভিযোগ জানিয়েছেন। এতে ক্লাবকে জরিমানা দিতে হয়েছে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকেও ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। এজন্যই কাজী নাবিলের পরামর্শ, বর্তমান করোনা সংকটে বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে বর্তমান সমঝোতার মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধান করতে হবে। আর তিনি চান আগামী বছর থেকেই যেন ফিফা নির্দেশিত পথে এই সমঝোতার জায়গাটি রেখে চুক্তিটি হয়।
করোনাভাইরাসের যেমন বিস্তার তাতে কবে বাংলাদেশে আবার ফুটবল লিগ শুরু হবে তা নিয়ে রয়েছে ঘোর সংশয়। তবে কাজী নাবিল লিগ ফের শুরু করা নিয়ে বলেছেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ফুটবল মাঠে গড়ানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। কয়েকটি দেশে স্বল্প দর্শক কিংবা দর্শকহীন খেলা হচ্ছে বা খেলানোর চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। ওসব দেশেও করোনা পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। আমরা কবে শুরু করত পারবো জানি না, তবে এখনই রূপরেখা চূড়ান্ত করে রাখা উচিত যাতে ক্লাব নিজের মতো প্রস্তুত হতে পারে।’
কাজী নাবিলের এই প্রস্তাবনা নিয়ে আগামী শনিবার পেশাদার লিগ কমিটির সভায় আলোচনা হওয়ার কথা।