গুরুকে জেতাতেই ইমরুলের সাফল্য

'প্লেয়ারস বাই চয়েজে’ কুমিল্লা ভিক্টোয়িান্সের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ওপেনার হিসেবে ইমরুল কায়েসকে দলে টানেন। ৫টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৬.৮০ গড়ে রান করা ইমরুলকে দলে দেখে প্রাথমিকভাবে খুব একটা খুশি হয়নি ভিক্টোরিয়ান্স কর্তৃপক্ষ। কোচ সালাউদ্দিনের কাছে ইমরুলকে দলভূক্ত করার ব্যাখাও চান তারা।

গুরু সালাউদ্দিনের মুখ থেকে একথা শুনেছেন ইমরুল নিজেও। তখনই পরিকল্পনা করেন ব্যাটসম্যান হিসেবে সেরা পাঁচে থাকতে হবে। যেভাবেই পরিকল্পনা সেভাবেই বাস্তবায়ন। বিপিএল শেষে ৩১২ রান নিয়ে ব্যাটসম্যানদের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ইমরুল কায়েস সাগর।

কোচ সালাউদ্দিন তাকে নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। বিপিএলে ইমরুলের সাফল্যের রেসিপি ওটাই। গুরুকে জেতাতেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন ইমরুল।

বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হলেও ট্রফি নিয়ে এখনও উৎসব করা হয়নি সেভাবে। তবে আগামী ২৭ ডিসেম্বর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মালিকপক্ষের সৌজন্যে ট্রফি নিয়ে বইবে আনন্দের বন্যা! শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের সাফল্যের রহস্যসহ বিপিএল অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে। তারই চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন : কতটুকু মিস করছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে? ড্রেসিরুম, টিম ম্যানেজম্যান্ট কিংবা সতীর্থদের?

ইমরুল: অনেক মিস করছি সবাইকে। ড্রেসিংরুম থেকে বেশি মিস করছি হোটেল রুমকেই। প্রতি রাতে হোটেলে অনেক আড্ডা দিতাম। অসাধারণ কিছু সময় কেটেছে পুরো বিপিএল জুড়ে। সবকিছুই দারুন ভাবে উপভোগ করেছি। আমি মাশরাফি ভাইসহ সবাই মিলে আমরা আড্ডা মারতাম। যা আসলে বৃহস্পতিবার থেকে অনেক মিস করছি।

প্রশ্ন : একদমই ভিন্ন মজার কোনও অভিজ্ঞতা ছিল কিনা?

ইমরুল : প্রত্যেকটা রাতই আমার কাছে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা হয়ে এসেছে। আসলে পুরো সময়টা অনেক এনজয় করেছি। যেদিন খেলা থাকতো না সন্ধ্যার পর আড্ডা জমাতাম। একটি দিনও আলাদা করা সম্ভব নয়।

প্রশ্ন : টেস্টে আপনি অটোমেটিক চয়েস, ওয়ানডেতে সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সিরিজে ভালো খেলেছেন। সামনে এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এর আগে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই ক্রিকেটে ভালো খেলে কতটা স্বস্তি কাজ করছে?

ইমরুল : নিজের কাছে অবশ্যই ভালো লাগছে। তবে তার মানে এই না যে, আমি আত্মতৃপ্তিতে ভুগছি। আমাকে আরও ভালো করে প্রস্তুত হতে হবে। সামনে আমাদের অনেক খেলা আছে। জানি না সুযোগ পাবো কিনা…। বিপিএলে সফল হয়েছি বলে এই নয় যে, আমি রিলাক্স হয়ে যাবো। আমাকে চেষ্টা করতে হবে যে কোনও ফরম্যাটের ক্রিকেটে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার। একটা সময় গেছে আমি খারাপ খেলেছি। ওই খারাপ খেলার জন্যই আমি পিছিয়ে পড়েছিলাম।

প্রশ্ন : কোচের সালাউদ্দিনের কি এমন প্রেরণা ছিল; যা যাদুর মতো কাজ করলো?

ইমরুল : আমাকে দলে নেওয়া পর থেকে অনেক প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয়েছিল সালাউদ্দিন স্যারকে। আমি টেস্ট খেলোয়াড়, আমি অমুক…। অনেক কথা শুনতে হয়েছে। আমাকে নিয়ে উনি চ্যালেঞ্জ করেছিল। উনি বলেছেন, আমি ওকে নিচ্ছি, পারফরম্যান্সটা আমার কাছ থেকে বুঝে নিয়েন।

স্যার যখন আমাকে এ কথা জানায়, শুনে আমার খুব খারাপ লেগেছে। খুব জেদ কাজ করছিল। মনে মনে ভেবেছি আমাকে ভালো কিছু করে দেখাতেই হবে। যাতে করে তারা আমাকে নতুন করে চেনে। নিজেকে টি-টোয়েন্টিতে যোগ্য প্রমাণ করতে হবে। এই জিনিসগুলোই আমাকে ভালো পারফরম্যান্স করতে উৎসাহ জুগিয়েছে।

প্রশ্ন : মাশরাফির ভূমিকা কি ছিল?

ইমরুল : উনিতো সব সময় আমাকে হেল্প করে। মাঠের বাইরে এবং মাঠের ভেতরে সব জায়গাতে। আমরা দুইজন অনেক মজা করেছি। মাশরাফি ভাই এবং আমি এমনকি মালিক পর্যন্ত (নাফিসা কামাল)। উনি এতো ফ্রি ভাবে আমাদের সঙ্গে মিশেছেন যা চিন্তা করা যায় না। খুব ফ্রেন্ডলি। এই কারণে চাপটা আমরা খুব বেশি বুঝিনি। মাশরাফি ভাই সব সময়ই বলে তুই ভালো খেলোয়াড়, তুই সব ম্যাচ খেলবি এইসব নিয়ে চিন্তা করিস না। এই কারনে আমার স্পিডটা অনেক ভালো ছিল।

প্রশ্ন : টেস্টের নিয়মিত সদস্য আপনি। কিছুদিন ধরে ওয়ানডে ভালো পারফরম্যান্স করছেন। বিপিএল দিয়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সামনে ভালো কিছু করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে কি মনে হচ্ছে?

ইমরুল : আমি এইগুলো নিয়ে চিন্তা করি না। আমি চিন্তা করি আমি একজন ক্রিকেট খেলোয়াড়। সব ফরম্যাটে খেলার জন্য প্রস্তুত এবং খেলতে পারি। কে কী বলছে কিংবা ভাবছে এগুলো নিয়ে আমি চিন্তা করি না। এগুলো নিয়ে চিন্তা করলে চাপ তৈরি হয়।

প্রশ্ন : লিটনকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন; কি মনে হয়েছে?

ইমরুল : লিটনের এখন হয়তো খারাপ সময় যাচ্ছে। তবে সে অনেক ভালো খেলোয়াড়। বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার সে। ওকে যদি মানুষ ভুলে যায়, এটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ক্ষতি হবে। আমার মনে হয়, ও একটু মানসিকভাবে দূর্বল। আমি ওর খুব কাছাকাছি ছিলাম। লিটন এই জিনিসটা একটু ইমপ্রুভ করলে আরও ভালো খেলোয়াড় হয়ে উঠবে।

/এমআর/