স্ত্রী হাসিন জাহানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে পরকীয়াসহ এন্তার অভিযোগ এনেছিলেন হাসিন। তারওপর ক্যারিয়ারকে হুমকিতে ফেলে দেওয়া চোটে পড়েছিলেন। হতাশা ঘিরে ধরেছিল তিন ধরনের ক্রিকেটেই ভারতের অপরিহার্য পেসারকে। শামি বলেন, ‘আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলাম আমি। তবে পরিবার আমাকে কখনও একা থাকতে দেয়নি। তারাই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, আমাকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। কেউ না কেউ সবসময় পাশে থাকতো, কথা বলতো আমার সঙ্গে। আধ্যাত্মিক ভাবনাও শক্তি জুগিয়েছিল। ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলা বা কাউন্সেলিং হলো সেরা পন্থা।’
তবে শুধু পরিবারই নয়, সতীর্থ ক্রিকেটারদেরও পাশে পেয়েছিলেন বলে অবসাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা জিততে পেরেছেন। আবার ভারতীয় দলে ফিরেছেন স্বমহিমায়। শামি বলেন, ‘মানসিক চাপ প্রভাব ফেলে শরীরের ওপর। তবে অন্যদের সঙ্গে কথা বললে এই ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আমি ভাগ্যবান যে ভারতীয় দলের সাপোর্ট স্টাফ থেকে শুরু করে বিরাট কোহলি,সবাইকে পাশে পেয়েছি। আমরা একটা পরিবারের মতো ছিলাম। সতীর্থরা বোঝাতো যে আমরা যেন রাগ ও হতাশা মেলে ধরি। আমি খুশি যে সেই সময়টা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।’
এখানেই সুশান্ত সিং রাজপুতের জন্য দু:খ হচ্ছে শামির, ‘হতাশা এমন এক সমস্যা যা, যেখানে দরকার পড়ে অন্যের মনোযোগের। এটা খুব দু:খের যে সুশান্ত সিং রাজপুতের মতো অসাধারণ এক অভিনেতার জীবন চলে গেল। ও ছিল আমার বন্ধু। ইশ, যদি কথা বলতে পারতাম ওর সঙ্গে, তাহলে ওর অবসাদের ব্যাপারে জানতে পারতাম।’
এদিকে শামির এই বক্তব্যের পিঠেই কথা বলে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন তার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা স্ত্রী হাসিন জাহান। তার দাবি, এসব কথা বলে সহানুভূতি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন শামি। ভারতের আনন্দবাজার ডিজিটাল হাসিন জাহানকে উদ্ধৃত করেছে এভাবে, ‘শামির মতো লোক আত্মহত্যা করবে? যার আত্মসম্মান নেই সে আত্মহত্যার কথা ভাবতে পারে? ওর তো কোনও অনুশোচনাই নেই। শামি এসব করার লোক নয়। ও আসলে পাবলিসিটির জন্য এসব বলছে। ক্রিমিনাল মানসিকতার লোক কোনওদিন আত্মহত্যার কথা ভাবে না। এগুলো সবই সহানুভূতি কুড়োনোর চেষ্টা।’