ক্রীড়া লেখক সমিতির বর্ষসেরা পুরস্কার প্রদান

Mashrafi

২০১৩ ও ১৪ সালের সেরা ক্রীড়াবিদদের পুরস্কৃত করেছে বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি (বিএসপিএ)। শনিবার বিকালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারের অডিটরিয়ামে এক অনাড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এ সময় বিভিন্ন ডিসিপ্লিন ও ক্যাটাগরিতে পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

 

২০১৩ সালের বর্ষসেরার পুরস্কার পেলেন যারা:  মুশফিকুর রহিম (বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ, এস এ মহসিন ট্রফি), সোহাগ গাজী (সেরা ক্রিকেটার), মামুনুল ইসলাম মামুন (সেরা ফুটবলার), ইমদাদুল হক মিলন (সেরা আরচার), মাহফুজুর রহমান সাগর (সেরা সাঁতারু), ফাহাদ রহমান (সেরা দাবাড়ু), জহুরা আক্তার রেশমা (সেরা ভারোত্তলক), মারুফুল হক (সেরা কোচ, ফুটবল), কাজী মাহতাবউদ্দিন (সেরা সংগঠক, মরণোত্তর), এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড (সেরা পৃষ্ঠপোষক), মমিনুল হক (সেরা উদীয়মান, ক্রিকেট) ও গোলাম সারোয়ার টিপু (বিশেষ সম্মাননা)।

 

২০১৪  সালের বর্ষসেরার পুরস্কার পেলেন যারা: আবদুল্লাহ হেল বাকি (বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ, এস এ মহসিন ট্রফি), মুশফিকুর রহিম (সেরা ক্রিকেটার), নাসিরউদ্দিন চৌধুরী (সেরা ফুটবলার), হাসান যুবায়ের নিলয় (সেরা হকি খেলোয়াড়), গোলাম রব্বানী ছোটন (সেরা কোচ, ফুটবল), মনজুর কাদের (সেরা সংগঠক), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (সেরা পৃষ্ঠপোষক), হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস (সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়, ফুটবল) ও মিউরেল গোমেজ (বিশেষ সম্মাননা)।

 

এছাড়া বিএসপিএ এবার কুল-বিএসপিএ রিয়েল স্পোর্টসম্যান অ্যাওয়ার্ড নামে নতুন পুরস্কার চালু করেছে। সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে এ বছর ‘কুল-বিএসপিএ রিয়েল স্পোর্টসম্যান অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। যারা ভোট দিয়ে তাকে সমর্থন জানিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানান মাশরাফি। 

 

২০১৩ সালের বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পাওয়া সোহাগ গাজী বলেন, 'পুরস্কার পেয়ে খুব ভালো লাগছে। ভবিষ্যতের জন্য এই পুরস্কার আমাকে প্রেরণা জোগাবে।'

 

২০১৩ সালের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার পাওয়া মামুনুল ইসলাম মামুন বলেন, 'দ্বিতীয়বারের মতো আমি এই পুরস্কার পেলাম। পুরস্কার পাওয়া যে কারও জন্যেই গর্বের বিষয়। এটি আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করবে। দীর্ঘদিন ধরেই আমরা কোনও শিরোপা জিততে পারছি না। এবার দেশবাসীর আশা পূরণের চেষ্টা করবো।'

২০১৩ সালের বর্ষসেরা দাবাড়ুর পুরস্কার জেতা ফাহাদ রহমান বলেন, 'এই পুরস্কার আমাকে আরও ভালো খেলতে সাহায্য করবে। এই পুরস্কার পেয়ে আমি গর্বিত। সামনে দুবাইয়ে খেলতে যাচ্ছি। বেশি করে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে চাই।'

২০১৩ সালের বর্ষসেরা ভারোত্তলকের পুরস্কার পাওয়া জহুরা আক্তার রেশমা বলেন, 'ক্রীড়া লেখক সমিতির দেওয়া পুরস্কার পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি। এই পুরস্কার ভারোত্তলনের প্রতি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে এই ইভেন্টের প্রতি ছেলে- মেয়েদের আগ্রহ তৈরি হবে।'

 

২০১৪ সালের বর্ষসেরা সংগঠকের পুরস্কার পাওয়া মনজুর কাদের বলেন, 'শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের সভাপতি হিসাবে আমাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আমি ক্রীড়া লেখক সমিতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করার প্রেরণা পাবো।  আমাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তবে সব বাধা পেরিয়ে আমি এগিয়ে যাবো।'

 

২০১৩ সালের বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন মমিনুল হক সৌরভ। মমিনুল বলেন, ‘যে কোনও পুরস্কারই ভালো খেলতে অনুপ্রাণিত করে। একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে আমি দারুণ উচ্ছ্বসিত। ধন্যবাদ ক্রীড়া লেখক সমিতিকে।’

২০১৪ সালে বিশেষ সম্মাননা পাওয়া মিউরেল গোমেজ বলেন, ‘আমি সব ধরনের ক্রীড়ার সঙ্গেই যুক্ত আছি। এই বয়সে আমাকে পুরস্কৃত করায় আমি খুব সম্মানিত বোধ করছি। আমি খুশি এতোদিন পরে হলেও পুরস্কার পেয়েছি।’

 

মুশফিকুর রহিম ২০১৪ সালের বর্ষসেরা ক্রিকেটার এবং ২০১৩ সালের বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ হিসেবে পুরস্কার পান। তার পক্ষে বিসিবি পরিচালক জালাল ইউনুস পুরস্কার গ্রহণ করেন। ভিডিও বার্তায় মুশফিক বলেন, ‘উপস্থিত হতে না পারায় আমি দুঃখিত। তবে ক্রীড়া লেখক সমিতির এই পুরস্কার আমাকে আরও বেশি উজ্জীবিত করবে।’

 

ক্রীড়ালেখক সমিতির সভাপতি হাসানউল্লাহ খান রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের হেড অব মার্কেটিং সাইদ মোহাম্মাদ মালিক, সমিতির সাধারণ সম্পাদক সনৎ বাবলা।

 

/আরআই/এমআর/