ভারতের কিংবদন্তি ওপেনার চৌহানের হার করোনার কাছে

চেতন চৌহান (১৯৪৭-২০২০)৩৬ ঘণ্টা লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হেরেই গেলেন চেতেন্দ্র প্রতাপ সিং চৌহান, ক্রিকেট বিশ্ব যাকে চেনে চেতন চৌহান নামে। করোনাক্রান্ত হয়ে আজ রবিবার মারা গেলেন ভারতের সাবেক এই টেস্ট ওপেনার।  ভারতের হয়ে ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ৪০ টেস্ট ও সাতটি ওয়ানডে খেলেছেন। ১৯৬৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষিক্ত চৌহান প্রথম রান করেছিলেন বাউন্ডারি মেরে। তার নামের পাশে আছে ২২৩৭ রান, কিন্তু সেঞ্চুরি নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শতকহীন এই ওপেনার আজ গুরুগ্রামের এক হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন ৭৩ বছর বয়সে।

আইসিসি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, গত জুলাইয়ের শুরুর দিকে করোনাক্রান্ত হন  চৌহান। ক্রমশ ভালো হয়ে উঠছিলেন তিনি, কিন্তু গত শুক্রবার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয় তাকে, যেখান থেকে আর ফিরলেন না।

ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) বর্তমান সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী খেলোয়াড়ি জীবনে টিম ম্যানেজার হিসেবে পেয়েছেন চৌহানকে। সেই স্মৃতি স্মরণ করে বিদায়বেলায় সৌরভের শ্রদ্ধাঞ্জলি, ‘শ্রী চেতন চৌহানের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকার্ত। তিনি যখন ভারতীয় দলের ম্যানেজার ছিলেন, কত সময় কেটেছে তার সঙ্গে! দুর্দান্তে এই ওপেনার দারুণ রসিক মানুষ ছিলেন। ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ ছিল তার। বিস্মরণযোগ্য একটি বছর পার করছি আমরা, এত এত প্রিয় মানুষকে হারাতে হচ্ছে আমাদের। তিনি সবসময় আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। ঈশ্বর তার পরিবারকে শোক সইবার শক্তি দিন।’

১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত ভারতীয় টেস্ট দলে দুর্ধর্ষ ওপেনিং জুটি গড়েছিলেন সুনীল গাভাস্কারকে নিয়ে।  ৫৪.৮৫ গড়ে ৩,১২৭ রান করেছেন তারা জুটিতে। ১১টি শতক জুটির মধ্যে সর্বোচ্চ ২১৩ রান ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওভাল টেস্টে। ১৬টি অর্ধশত রানের ইনিংসের মধ্যে তার টেস্ট সর্বোচ্চ ৯৭, যা করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেড টেস্টে। টেস্টে সেঞ্চুরি ছাড়া তার চেয়ে বেশি রান আছে মাত্র একজনের, তিনি অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্ন ( ৩,১৫৪ রান)। চৌহান অবশ্য ঘরোয়া ক্রিকেটে ছিলেন দুর্দান্ত, দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের হয়ে ১৭৯ ম্যাচে ২১টি সেঞ্চুরিসহ ১১,১৪৩ রান করেছেন।

খেলা ছাড়ার পর ক্রিকেট কোচিংয়ে আসেন চৌহান, পরে ক্রিকেট ম্যানেজমেন্টেও। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক কলকাতা টেস্টজয়ী ভারতীয় দলের ম্যানেজার ছিলেন তিনি। পরে ভারতের রাজনীতিতেও সক্রিয় হয়েছিলেন, ক্ষমতাসীন দল বিজেপি করতেন। দুবার উত্তর প্রদেশ থেকে নির্বাচিত লোকসভার সদস্য মৃত্যুকালে ছিলেন উত্তর প্রদেশ সরকারের অন্যতম মন্ত্রী। তার মুত্যুতে শোক জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।