ইতিহাস গড়ে সিপিএল জয় পোলার্ডদের

সিপিএল জিতলো ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স -ছবি: টুইটারবলে-ব্যাটে সব্যসাচী সুনীল নারাইন অসুস্থতার কারণে খেলেননি। ডোয়াইন ব্রাভোর মতো অলরাউন্ডার বোলিং করেননি, ব্যাটও হাতে তোলেননি। কাইরন পোলার্ডের মতো ‘বিগ হিটার’ ব্যাট করেননি। তারপরও তাদের দল ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স (টিকেআর) ফাইনালে ১১ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে হারিয়ে দিলো সেন্ট লুসিয়া জুকসকে। এর চেয়েও অবাক করা ব্যাপার, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) নাইট রাইডার্স অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন! টি-টোয়েন্টি লিগে আজ পর্যন্ত কোনও দল এমনটা করতে পারেনি। ১২ ম্যাচের সবগুলিতেই জিতেছে কাইরন পোলার্ডের দল!

বৃহস্পতিবার তারুবার ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিল নাইট রাইডার্স। প্রথমবার ফাইনালে ওঠার চাপ মাথায় নিয়েও জুকস খারাপ করেনি। আন্দ্রে ফ্লেচারের ২৭ বলে ৩৯, মার্ক ডেয়ালের ২৭ বলে ২৯, নজিবুল্লা জাদরানের ১৮ বলে ২৪ এবং রোস্টন চেজের ১৪ বলে ২২ রানসহ ১৯.১ ওভারে অলআউট ১৫৪ রানে। পোলার্ড এদিন পুরোপুরি বোলার হয়ে না উঠলে হয়তো আরও কিছু রান করতো জুকস। ৩০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন রাইডার্স অধিনায়ক। পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত ফাওয়াদ আহমেদ তার লেগস্পিনে ২২ রান খরচায় নিয়েছেন ২ উইকেট।

রান তাড়ার শুরুটা ভালো ছিল না রাইডার্সের। ১৯ রানের মধ্যে দুই উইকেট পড়ে যায় তাদের। এরপর দায়িত্ব কাঁধে (পড়ুন ব্যাটে) তুলে নেন ওপেনার লেন্ডল সিমন্স ও ড্যারেন ব্রাভো। অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেটে ১৩৮ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে ম্যাচ জিতিয়ে ফিরিয়েছেন দুজনে (১৮.১ ওভারে ১৫৭/২)। ম্যান অব দ্য ম্যাচ লেন্ডল ৪৯ বল থেকে অপরাজিত ৮৪ রান করেছেন ৮টি চার ও ৪টি ছয়ের সাহায্যে।  ৪৭ বল থেকে ৫৮ রান করতে ২টি চারের সঙ্গে ৬টি ছক্কা মেরেছেন ব্রাভো।

ফাইনালের আগে জুকস অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি নিজেদের ডেভিড ঠাউরে বলেছিলেন, এটি হতে যাচ্ছে ডেভিড বনাম গোলিয়াথ লড়াই-যেমন টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সের বিচারে, তেমনি অভিজ্ঞতার পাল্লাতেও। ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট পোলার্ড বলেছিলেন, ফাইনালে কী হয় বলা যায় না, তবে অভিজ্ঞতা তাদেরই এগিয়ে রাখবে।

অভিজ্ঞতা কী যেনতেন? ডোয়াইন ব্রাভো ও পোলার্ড দুজন মিলে খেলেছেন ৪৩টি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনাল। দুজনের নাম আছে ১৩টি করে ট্রফিতে।

কিন্তু লারার নামাঙ্কিত মাঠে লারার উত্তরসূরিদের সবগুলো ম্যাচ জিতে সিপিএল জেতাটা অন্যরকম। এতে যে রচিত হলো ইতিহাস।