বহুল প্রত্যাশিত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটাররা তাদের রায় জানান দিয়েছেন ব্যালটের মাধ্যমে। এর পরই শুরু হয়েছে ভোটগণনা। যেখানে সব পক্ষই আশাবাদী যে, তাদের পক্ষেই রায় আসবে!
নির্বাচনের প্রক্রিয়া সহজ করতে এবার নির্বাচন কমিশন আটটি আলাদা বুথ করেছে। এতে সোনারগাঁও হোটেলের ভোট কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই বেশিরভাগ ভোট বাক্সে পড়েছে। ১৩৯ জন ভোটার থাকলেও, ভোট দিয়েছেন ১৩৫জন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে, ‘এবার নির্বাচনের পরিবেশ ভালো ছিল। কোনও অভিযোগ ছিল না। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনেই সব কিছু হয়েছে।’
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব ভোট গণনা করে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করা হবে। তবে ভোট দিয়ে এসে নানান রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন অনেকেই।
পাবনা জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন থেকে কাউন্সিলর হওয়া অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু যেমন সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘নির্বাচনে আমেজ দেখে আমি খুবই খুশি। এখানে যারা আছেন, তাদের অনেকে আমার পুরনো বন্ধু। আমরা একসময় কাজ করেছিলাম, তারা আমার সহযোদ্ধা। সংগঠক হিসেবে তাদেরকে আমি পেয়েছে। এই যে উৎসবমুখর পরিবেশ, এটা যেন নির্বাচনের পরেও থাকে। আর আমাদের ফুটবল ফেডারেশনের কাজে-কর্মে যেন উৎসবটা থাকে।’
এ সময় সবাইকে এক হয়ে কাজ করারও আহবান জানান তিনি, ‘আজ নির্বাচনের পরে যারা জয়ী হবেন, তাদের অবশ্য বেশি দ্বায়িত্ব। যারা হারবেন, তাদেরকেও রাখতে হবে। সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। কারণ এখানে অনেক ভালো ভালো সংগঠক আছেন, তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যেন দেশের ফুটবলটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।’
ভবিষ্যতেও ফুটবল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশায় এই সংগঠক আরও বলেছেন, ‘ফুটবলটা মাঠের খেলা। আর দর্শক ছাড়া এই ফুটবল জমে না। যখন সংগঠক ছিলাম, তখন দেখেছি ঢাকা স্টেডিয়াম গ্যালারি পরিপূর্ণ ছিল। আমরা জানি না, ভবিষ্যতে কী হবে। তবে ফুটবল ফেডারেশনের কাজ যেন অব্যাহত থাকে। আমাদের পুরনো যে ঐতিহ্য, সেটা ফিরিয়ে আনতে হবে। আর আমাদের যে সোনালী যুগ ছিল, সেখানে ফিরে যেতে হলে আমাদের সবাইকেই এক হয়ে কাজ করতে হবে।’
নির্বাচন দেখতে এসেছেন সাবেক তারকা ফুটবলার খন্দকার ওয়াসিম। তার প্রত্যাশা, ‘নির্বাচন ভালো হচ্ছে। এরপর যেন এই উৎসাহ সবার থাকে। ফুটবল উন্নয়নে কাজ হয়, কথা নয়, কাজ দিয়েই সেটা প্রমাণ করতে হবে। আর সবকিছু ফেডারেশন নির্ভর হলে হবে না। ক্লাবগুলোকে খেলোয়াড় তৈরির দায়িত্ব নিতে হবে।’
নির্বাচনে সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ রফিক জেতার ব্যাপারে খুব আশাবাদী, ‘আমরা আশাবাদী জেতার বিষয়ে। তবে কী হয়, তা ভোট গণনা শেষে পরিষ্কার হবে।’