এইচপি ক্যাম্পে ঢুকতে করোনা পরীক্ষার অপেক্ষায় শামীম

শামীম যোগ দিচ্ছেন এইচপি ক্যাম্পে২৫ জন নবীন ক্রিকেটারকে নিয়ে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে হাই-পারফরম্যান্স ইউনিটের (এইচপির) কার্যক্রম। শুরুর দিন থেকে গত দুইদিন অস্থিতরতায় ভুগেছেন যুব বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দলের অলরাউন্ডার শামীম হোসেন। চ্যাম্পিয়ন দলের সবাই এইচপি দলে থাকলেও ছিলেন না শুধু শামীম। কেন ডাক পেলেন না এটা ভেবে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। অবশেষে তারও ডাক পড়েছে। শুক্রবার করোনা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলেই যোগ দেবেন আকবর-আফিফ-বিপ্লবদের সঙ্গে একই ক্যাম্পে।

চাঁদপুরের এ ক্রিকেটারকে নিয়ে এইচপি ইউনিটে ক্রিকেটার হবে ২৬ জন। যেখানে যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের ক্রিকেটারই ১৩ জন। সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলা বাকি দুজনের একজন তানজিম হাসান তামিম বিশ্বকাপ থেকেই কাঁধের চোটে ভুগছেন। বাকি একজন প্রান্তিক নওরোজ নাবিল বর্তমান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্যাম্পে আছেন।

শুরুতে শামীমের নাম না থাকায় অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে  বাদ পড়েননি শামীম। মূলত শ্রীলঙ্কাগামী এইচপি দলটিতে ছিলেন না বলে কাগজে-কলমে বাদ পড়ে গিয়েছিলেন।

শামীমের ব্যাপারে নির্বাচক হাবিবুল বাশার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘শামীম ভালো ক্রিকেটার। সে এইচপির ক্যাম্পে যুক্ত হচ্ছে। আমরা মূলত শ্রীলঙ্কা সফরের চিন্তা করেই শামীমকে নিইনি। কেননা নিষেধাজ্ঞার কারণে শামীম ওখানে ম্যাচ খেলতে পারত না। যেটা হয়েছে তা কাগজ-কলমের ভুল। করোনা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শামীম দ্রুতই ক্যাম্পে যোগ দেবে।’

গত দুইদিন মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন শামীম। আকবর-মাহমুদুল-মুরাদদের সঙ্গে বিকেএসপিতে চার সপ্তাহের ক্যাম্প করেছেন। তারা মিরপুরে ক্যাম্পে ব্যস্ত সময় কাটালেও শামীম কী কারণে বাদ পড়লেন বুঝতে পারছিলেন না। বাংলা ট্রিবিউনকে শামীম বলেন , ‘বুঝতে পারছিলাম না আমি কেন নেই। একবার ভাবলাম নিষেধাজ্ঞার কারণে হয়তো বাদ পড়েছি। কিন্তু তৌহিদ হৃদয়, রাকিবুল হাসান থাকলেও আমি কেন নেই! ওরাও তো নিষিদ্ধ হয়েছিল। সবকিছু মিলিয়ে খুব অস্বস্তিতে ছিলাম।’

অস্বস্তিকর সময়টা সরে যেতেই ফুরফুরে শামীম, ‘খুব ভালো লাগছে। কালকেই ক্যাম্পে যোগ দেবো। যদিও তার আগে আমাকে করোনা টেস্ট দিতে হবে। আশা করি করোনা উত্তীর্ণ হয়েই স্কিল ক্যাম্পে যোগ দিতে পারবো।’

ভারতের সঙ্গে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বাংলাদেশের তিন ও ভারতের দুই ক্রিকেটারকে শাস্তি দেয় আইসিসি। তৌহিদ ও রাকিবুলের পাশে বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া তৃতীয় ক্রিকেটার শামীম।

শৈশবে চাচাতো ভাইদের ব্যাট-বলের খেলা দেখেই ক্রিকেটের প্রেমে মজেন শামীম। ৮-৯ বছর বয়সেই স্থানীয় ক্রিকেটে শামীমের আশাজাগানিয়া পারফরম্যান্স দেখে বাবা-চাচা ও চাচাতো ভাইয়েরা তাকে ভর্তি করে দেন ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে। সেখান থেকেই শামীমের ঠিকানা হয় দেশের ক্রিকেটের সূতিকাগার বিকেএসপি।