বলিভিয়ার বিপক্ষে সেই উচ্চতাই ভাবাচ্ছে আর্জেন্টিনাকে

1602522185_047417_1602522752_noticia_normalনিজেদের মাঠে বলিভিয়া বরাবরই শক্ত প্রতিপক্ষ। আসলে শক্ত প্রতিপক্ষ পারিপার্শ্বিকতা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বেশি হওয়ায় অক্সিজেনের স্বল্পতাই সফরকারী দলগুলোকে কোণঠাসা করে ফেলে। তার ওপর আজকের ম্যাচটা হতে যাচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত (৩ হাজার ৬৫০ মিটার) রাজধানী লা পাজের এস্তাদিও এর্নান্দো সাইলেসে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের এই ম্যাচটা তাই কঠিন পরীক্ষা আর্জেন্টিনার। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টায় ম্যাচটি শুরু হবে।

এমনটা নতুন নয়। লা পাজের উচ্চতা সব সময়ই ভুগিয়েছে আর্জেন্টিাকে। ২০০৯ সালে মেসি, তেভেজসহ আর্জেন্টিনা তারকা বহুল হওয়ার পরেও হেরেছিল ৬-১ গোলে। একই  চ্যালেঞ্জ আলবিসেলেস্তদের ভুগিয়েছে বার বার। বিপরীতে ঘরের মাঠে এই উচ্চতাকে কাজে লাগিয়েই প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করেছে বলিভিয়া। সর্বশেষ ২০১৭ সালেও আর্জেন্টিনাকে বাছাইয়ের ম্যাচে তারা হারিয়েছে ২-০ গোলে।
তাদের মাঠে আর্জেন্টিনার সর্বশেষ জয়টা সেই ১৫ বছর আগে। ওই দলে ছিলেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি।তাই এই ম্যাচ নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা কাজ করছে তার। বিশেষ করে দল গোছানো নিয়ে, ‘সবার সঙ্গে আলাদা করে কথা বলবো। আমাদের শতভাগ ফিট খেলোয়াড় প্রয়োজন হবে। যদি কেউ শতভাগ ফিট না হয়। তাহলে তাদের সঙ্গে কথা বলে দলের ভালো যেটাতে হয়, সেই সিদ্ধান্ত নিবো।’

স্ক্যালোনি ভালো করেই জানেন, এমন উচ্চতায় শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হবে খেলোয়াড়দের। তার পরেও চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন তিনি। মনে করেন বল দখল আর সেট পিসই এক্ষেত্রে তাদের ভরসা, ‘শারীরিক আর অনুশীলনগত কারণে অনেকে বেশি ভুগে থাকেন, আবার অনেকে কম। তবে মূল কথা হলো বলের দখল। আমাদের সব রকম চেষ্টাই করতে হবে। সব দুশ্চিন্তা দূরে ছুড়ে ফেলতে হবে। ২০০৫ সালে আমরা যখন জিতেছি, সেবার গোল করেছি সেটপিসে। ম্যাচের বিশেষ মুহূর্তেই এমনটা ঘটেছিল। আমরা এবারও সেটাতে গুরুত্ব দিবো।’

চোট থাকায় বেশ কিছু পরিবর্তনের আভাস রয়েছে এই ম্যাচে। পুরোপুরি ফিট না থাকায় বেঞ্চে থাকতে হতে পারে মার্কোস আকুনাকে। তখন ৪-৪-২ ছকে গেলে খেলতে পারেন এদুয়ার্দো স্লাভিও। এছাড়া আরও দুই বিকল্প হিসেবে রয়েছেন নিকোলাস ডমিঙ্গেজ অথবা এজিকিয়েল প্যালাসিওস। এছাড়া শুরুর একাদশে গনজালো মন্তিয়েলের জায়গায় দেখা যেতে পারে হুয়ান ফয়েথকেও।      

* বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ২০ বার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা-বলিভিয়া। যার মধ্যে বলিভিয়ার ৫টি জয়ই এসেছে নিজেদের মাঠে। আর এই লা পাজে আগের ১০ বার খেলতে এসে আর্জেন্টিনার জয় মাত্র তিনটিতে।