বিদায় বললেন স্যামুয়েলস

মারলন স্যামুয়েলস। পেশাদার ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিয়েছেন মারলন স্যামুয়েলস। ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান নির্বাহী জনি গ্রেভ ক্রিকইনফোকে জানিয়েছেন, জুনেই স্যামুয়েলস অবসরের কথা তাকে জানিয়ে দিয়েছেন।
ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার সর্বশেষ ক্রিকেট খেলেছেন ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে। সিলেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা ওয়ানডের পর আর তাকে ক্রিকেটে দেখা যায়নি।

স্যামুয়েলসের ব্যাটিং গড় খুব একটা আহামরি না হলেও সব সময় আলো ছড়িয়েছেন বড় মঞ্চেই। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুটি বিশ্বকাপ জয়েই তার ছিল অসামান্য অবদান। তবে অসাধারণ ইনিংসটি ছিল ২০১২ সালে কলম্বোর ফাইনালে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে ১০ ওভার পর তার স্কোর ছিল ৩২ বলে ২০ রান। তখন দলীয় স্কোরও ছিল ২ উইকেটে ৩২। তার পর মালিঙ্গার ওপর ঝড় বইয়ে ৫৬ বলে খেলেন ৭৮ রানের অসাধারণ একটি ইনিংস। এর পর বল হাতেও ১৫ রানে ১ উইকেট নিয়ে দলকে জেতাতে ভূমিকা রাখেন।

চার বছর পর আরেকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গড়েন অনন্য কীর্তি। একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে আইসিসির দুই বৈশ্বিক ইভেন্টের ফাইনালে ম্যাচসেরা খেলোয়াড় হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কলকাতায় অনুষ্ঠিত ফাইনালেও ৬৬ বলে খেলেছেন ৮৫ রানের ঝড়ো এক ইনিংস। ওই ম্যাচ অবশ্য ৪ উইকেটে জিতে নেয় ক্যারিবীয়রা।    

অবশ্য শুধু সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটেই তার আলো ছড়ানো পারফরম্যান্স সীমাবদ্ধ ছিল না। কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে প্রথম টেস্ট শতক হাঁকান ২১ বছর বয়সে। টেস্টে তার ২৬০ রানের সর্বোচ্চ স্কোরটিও বাংলাদেশের বিপক্ষে। ২০১২ সালে সর্বোচ্চ এই স্কোরটি করেন তিনি। সব ফরম্যাট মিলে স্যামুয়েলসের আন্তর্জাতিক রান ১১ হাজার ১৩৪। ১৭টি সেঞ্চুরির সঙ্গে অফস্পিন দিয়ে নিয়েছেন ১৫২টি উইকেটও।

ওয়ানডে ইতিহাসে যে কোনও উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ডেও তার নামটি জড়িয়ে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১৫ বিশ্বকাপে গেইলের সঙ্গে ৩৭২ রানের জুটি গড়েছিলেন স্যামুয়েলস।

অবশ্য এই সময়ে বার বার বিতর্কেও জড়িয়েছেন নানাভাবে। ২০০২ সালে ভারতে টিম কারফিউ ভাঙার অপরাধ করে প্রায় বাড়ির পথ ধরতে বসেছিলেন। ২০০৮ সালে দুর্নীতি বিরোধী কাণ্ডে জড়িয়ে নিষিদ্ধ ছিলেন দুই বছর।২০১৪ সালে ভারত সফরে যে বিদ্রোহের ঘটনাটি ঘটিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই সময় তখনকার অধিনায়ক ডোয়াইন ব্রাভোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্যামুয়েলস বলেছিলেন, তিনি সিরিজ শেষ করে আসার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু নিজেদের বোর্ডের সঙ্গে বেতন নিয়ে ঝামেলার জেরে ওই সফর অসমাপ্ত রেখেই ভারত থেকে ফিরে যায় ক্যারিবীয় দল।