সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ইনডোরে ফিটনেস টেস্ট হয়েছে ৭৩ জন ক্রিকেটারের। টেস্ট দেওয়ার কথা থাকলেও সাকিব-অলক কাপালিসহ কয়েকজন তা দেননি। বিপ টেস্টে প্রথমদিনের ফিটনেস দেখেছেন বিসিবির ট্রেনার তুষার কান্তি হাওলাদার। বিপ টেস্টে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ ক্রিকেটারই ১১-এর বেশি স্কোর করেছেন। সোহাগ গাজী, শুভাশিস রায়, ইফতেখার সাজ্জাদ, আরাফাত সানি জুনিয়র, হাসানুজ্জামান, ইরফান হোসেন, রুবেল মিয়া ও অভিষেক মিত্র -এই ৮ জন ক্রিকেটার ‘ফেল’ করেছেন। আবার আশরাফুল, শাহরিয়ার নাফীস, এনামুল হক জুনিয়রদের মতো অভিজ্ঞরাও ১১-এর বেশি স্কোর করে টেস্টে উতরে গেছেন। শাহরিয়ার নাফীস ফিটনেস টেস্ট নিয়ে, ‘গত দুই-তিন মৌসুম ধরে বাংলাদেশের নির্বাচকেরা মোটামুটি একটা বেঞ্চ মার্ক ধরে দিয়েছেন। আগে জাতীয় লিগের জন্য ছিল ১০.৫ এবং এই টুর্নামেন্টের জন্য ১১। আমার কাছে পরিকল্পনাটা ইতিবাচক মনে হয়। যখন থেকে ১১ ধরে দেওয়া হয়েছে, তখন থেকেই অনেক সচেতন হয়েছি। আমি আমার ফিটনেস নিয়ে সন্তুষ্ট।’
ক্রিকেটারদের মানসিকতা ও ফিটনেস দেখে বিসিবির ফিজিও নিক লি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘জাতীয় দল এবং এইচপি দলের খেলোয়াড়দের মানসিকতা এবং ফিটনেস দেখে আমি খুবই সন্তুষ্ট। করোনাভাইরাসের কারণে যখন লকডাউন শুরু হয় তখন আমরা চেষ্টা করেছি খুঁজে বের করার কার কাছে কী ধরনের সরঞ্জাম ছিলো, কে কী রকম সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে ফিটনেস নিয়ে কাজ করার। বিসিবি খেলোয়াড়দের কাছে সরঞ্জাম পাঠিয়েছে ফিটনেস নিয়ে কাজ করবার জন্য। নির্বাচকদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী প্লেয়ার পুলের মধ্যে থাকা সব খেলোয়াড়কে আমরা ব্যক্তিগত পরিকল্পনা দিয়েছিলাম যা তারা বাসায় মেনে চলতে পেরেছে। পাঁচ-ছয় মাস পর ট্রেনিং আয়োজনের সময় তাদের দেখে আমি খুব খুশি ছিলাম। জাতীয় দল এবং এইচপির খেলোয়াড়েরা বর্তমানে যে অবস্থায় আছে সেটি নিয়ে আমার কোনও অভিযোগ নেই। আমার ভালো লেগেছে যে, করোনাভাইরাসের কারণে তারা ক্রিকেট খেলতে না পারলেও ফিটনেসের দিক দিয়ে বিন্দুমাত্র পিছিয়ে নেই।’
শারীরিক ফিটনেস ও ক্রিকেটের ফিটনেসের মধ্যকার পার্থক্য উল্লেখ্য করে লি বলেছেন, ‘শারীরিক ফিটনেস এবং ক্রিকেট ফিটনেসের মধ্যে পার্থক্য আছে। আমরা এখন আছি নিজের শারীরিক কাজ করা এবং একইসঙ্গে ম্যাচ ফিট হওয়ার প্রক্রিয়াটির মধ্যে। এজন্য প্রেসিডেন্টস কাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ এর মধ্যে দিয়ে ক্রিকেটাররা প্রতিযোগিতামূলক খেলার অভ্যাসে ফিরে এসেছে। সামনের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে ক্রিকেটারদের ফিটনেসের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবো।’
জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটারদের ফিটনেস দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের এই ফিজিও, ‘আজ জাতীয় নির্বাচকেরা দেখতে চেয়েছিলেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের অবস্থা কেমন। এ মুহুর্তে তাদের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। আমার মনে হয় নির্বাচকেরা এবং বাকি সবাই জানেন সবার জন্যই কতটা কঠিন বছর ছিল এটি। করোনাভাইরাসের জন্য ক্রিকেটে এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক অনুশীলনে অনেক বাধা এসেছে। এখন পর্যন্ত আমি যা দেখেছি, বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই ভালো করেছে। অল্প কয়েকজন সমস্যায় পড়েছে।’