কলকাতা যাচ্ছেন, জামালকে কিছুতেই ছাড়বে না সেই ম্যাচ

জামাল ভূঁইয়া - ছবি: ফিফাআবারও কলকাতা যাবেন জামাল ভূঁইয়া। ২০১৯ সালের অক্টোবরে যাওয়া আর এবারের যাওয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকবে। সেবার গিয়েছিলেন বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাই পর্বে ভারতের বিপক্ষে খেলতে। এবার যাচ্ছেন ভারতের ঘরোয়া পেশাদার লিগ আই-লিগে কলকাতা মোহামেডানের হয়ে খেলতে।

তবে কলকাতার নতুন যাত্রায় বাংলাদেশ অধিনায়ককে গত বছরের ১৫ অক্টোবর সল্ট লেকের যুবভারতী স্টেডিয়ামের সেই ভারত ম্যাচ পিছু ছাড়বে না সেটা বলে দেওয়া যায়। ওই ম্যাচটি জিততে জিততে ড্র করে আসতে হয় বাংলাদেশকে। স্মৃতিটা  মধুর হতে হতেও পুরোপুরি মধুর নয়। ৪২ মিনিটে সাদউদ্দিনের গোলে এগিয়ে যাওয়া দল গোল খেয়ে বসে প্রায় শেষ মুহূর্তে। ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি। তবে বাংলাদেশের কাছে ওই ড্রতেই যেন সেদিন পরাজয়ের ব্যথায়  নুয়ে পড়েছিল ৭০-৭৫ হাজার স্বাগতিক দর্শক।

আই-লিগে নতুন উত্তীর্ণ কলকাতা মোহামেডানের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পরপরই জামালকে নিয়ে প্রচণ্ড আগ্রহ তৈরি হয়েছে ভারতে। নিখিল ভারত ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) ওয়েবসাইটে বড় একটা প্রতিবেদন হয়েছে তাকে নিয়ে। যে প্রতিবেদনে মোহামেডানে জামালের কাছে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার প্রেক্ষাপট ও তার লক্ষ্যের কথা জানতে চাওয়া হয়েছে।  তবে তাকে কেন্দ্র করে বেশিটাই লেখা হয়েছে ২০১৯ সালের অক্টোবরের সেই ভারত ম্যাচ নিয়ে। ওই ম্যাচে দলকে দারুণ নেতৃত্ব দেওয়া জামাল হোল্ডিং মিডফিল্ডারের ভূমিকায় ছিলেন অনবদ্য, বাড়তি দৃষ্টি কেড়েছিলেন ভারতের ‘গোলমেশিন’ সুনীল ছেত্রীকে বোতলবন্দী করে।

‘তারা (মোহামেডান) মাত্রই আই-লিগে উত্তীর্ণ হয়েছে এবং লিগ জিততে চায়। আমার মনে হলো এমন তীব্র ইচ্ছা যে দলের আছে, তাদের হয়েই আমার খেলা উচিত। আমার মনে হয় আমি এ দলে ভূমিকা রাখতে পারবো। মোহামেডানের হয়ে খেলার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি আমি’- দ্য এআইএফএফ ডট কমকে বলেছেন জামাল।

ভারতের বিপক্ষে সল্ট লেক স্টেডিয়ামের ম্যাচে কীভাবে অতটা ভালো খেলতে পেরেছিল বাংলাদেশ? ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ওয়েবসাইটকে জামাল বলে যান, ম্যাচের আগে পুরো দলটাই ছিল বিশেষভাবে উদ্ধুদ্ধ, ‘ওইদিন ঘুম থেকে উঠেই আমাদের ক্যাম্পে একটা অন্যরকম আবহ টের পেয়েছিলাম আমি, প্রতিটি খেলোয়াড়ই যেন ভালো খেলতে চায় ভারতের বিপক্ষে। একদম সকাল থেকেই প্রত্যেকেই প্রত্যেককে উদ্ধুদ্ধ করছিল। প্রত্যেকেই বলছিল, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়ো, সকালের অনুশীলনটা ঠিকঠাক করতে হবে, ম্যাচের জন্য তৈরি হতে হবে। ম্যাচটি আমাদের কাছে ছিল বিশেষ কিছু।’

‘ম্যাচের আগের ওয়ার্মআপের জন্য আমরা যখন স্টেডিয়ামে যাই, গ্যালারিগুলো ততক্ষণে ভরে গেছে। আমাদের মনে হলো দুর্দান্ত এক ম্যাচ হতে চলেছে। দর্শক ছিল অসাধারণ’- স্মৃতির সরণি বেয়ে আরও খানিকটা পেছনে হেঁটে যান বাংলাদেশের অধিনায়ক।

জামাল বলেন, সে ম্যাচে সুনীল ছেত্রীকে আটকানোটা ছিল রণকৌশলের অংশ, ‘সুনীল বিরাট তারকা এবং ভারতের কিংবদন্তি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে অজস্র গোল করেছে সে, সুতরাং তার দিকে আমাদের চোখ রাখতেই হতো। কোচের সঙ্গে আমার কথা হয়, কোচ বলেন, তাকে আটকানোর দায়িত্ব তোমার। সুতরাং আমার চেষ্টা ছিল তাকে কোনও সুযোগ দেবো না। সে যখনই মুভ করেছে, সঙ্গে গেছি আমি। আমার কাজই ছিল দলের অন্যদের সঙ্গে তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাকে হতাশ করে দেওয়া।’ সুনীল ছেত্রীকে অকেজো রাখার পাশাপাশি দলের আক্রমণেও সাহায্য করেছেন জামাল। ফ্রি-কিক থেকে তার বাড়িয়ে দেওয়া বলেই সাদ হেডে গোল করে এগিয়ে দেন বাংলাদেশকে।

বাংলাদেশ সেদিন জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারতো, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট আগে আদিল খানের গোল সেটি হতে দেয়নি। মনের মধ্যে ভালো খেলার তৃপ্তি ছিল, তবে ড্র করায় হতাশাই ছিল বেশি। তবে ম্যাচের পর কলকাতার রাস্তায় বেরিয়ে মনটা ভালো হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ অধিনায়কের, ‘ম্যাচের পরে আমরা যখন শহরে বেরোই, অনেক ফুটবল-ভক্ত আমাকে ঠিকই চিনে ফেলেন। আমার কাছে এসে আমার খেলার খুব প্রশংসা করেন তারা। আমি একটু বিস্মিতই হয়েছিলাম। কারণ প্রথমদিকে ভেবেছিলাম আমি  কটূক্তির শিকার হবো, কারণ আমি ভারতকে জিততে দিইনি। কিন্তু তারা আমাকে অনেক সম্মান করেন। একজন খেলোয়াড় হিসেবে এটির প্রশংসা না করে আপনি পারেন না।’

বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সিতে জামাল অবশ্য বরাবরই ভালো খেলেন ভারতের বিপক্ষে। ভারতের বিপক্ষে এ পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলে কখনও হারেননি। ডেনমার্কে বেড়ে ওঠা ৩০ বছর বয়সী ফুটবলার ভারতের মুখোমুখি হতে যেন বাড়তি অনুপ্রাণিত থাকেন। কীভাবে এমনটা হয়? ‘ভারতের বিপক্ষে খেলাটা আমার কাছে সবসময়ই বিশেষ কিছু। কারণ ভারত হলো বাংলাদেশের কাছে বড় ভাইয়ের মতো। আর আপনি সবসময়ই বড় ভাইয়ের মুখোমুখি হয়ে তাকে হারাতে চাইবেন’-হাসি ছড়িয়ে পড়ে জামালের মুখে।