ফিটনেসের ঘাটতি দলীয় খেলায় পূরণ করতে চায় বাংলাদেশ

অনুশীলনে বাংলাদেশ দল। দীর্ঘ দিন পর খেলায় ফিরছে জাতীয় ফুটবল দল। তাও আবার আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে। সেই লক্ষ্যে জামাল-জীবনরা দুই সপ্তাহের বেশি সময় হলো অনুশীলনে ঘাম ঝরাচ্ছেন। কারণ করোনাকালে সবার ফিটনেসই যে ভোঁতা হয়ে গেছে! তাই সিরিয়াস ভঙ্গিতে অনুশীলনে দেখা যাচ্ছে সবাইকে। তার পরেও শতভাগ ফিটনেস যে পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে নিজেরাও সন্দিহান তপু বর্মণ-রহমত মিয়ারা। তাই তাদের বিশ্বাস, পুরোপুরি ফিটনেস না থাকলেও অন্তত দলীয় খেলা দিয়ে সেটা পুষিয়ে নেওয়া যাবে নেপালের বিপক্ষে।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে ডিফেন্ডার তপু বর্মণ সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘ম্যাচ দুটিকে সামনে রেখে আমরা অনুশীলন শুরু করেছি। এখন ধরতে গেলে খেলার জন্য আমরা মোটামুটি প্রস্তুত। সবার ফিটনেস লেভেল আগের চেয়ে অনেক উন্নত হচ্ছে। মানসিক দিক দিয়েও সবাই এগিয়েছে।’

ফিটনেস আগের চেয়ে উন্নত হলেও বসুন্ধরা কিংসের এই ডিফেন্ডার মনে করেন, এই ঘাটতি পূরণ করতে পারে কেবল দলীয় পারফরম্যান্সই, ‘আমার কাছে মনে হয় ফুটবল দলগত খেলা। তাই আমাদের পারফরম্যান্স করে দেখাতে হবে শতভাগ। যদি পারফরম্যান্স করে দেখাতে পারি, তাহলে ফিটনেসের ১০ ভাগ গ্যাপ থাকলেও সেটা প্রভাব ফেলতে পারবে না।’

আগামী শুক্রবার নেপালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ। তার আগে চলছে শেষমুহূর্তের অনুশীলন। ইংলিশ কোচ জেমি ডে এরই মধ্যে তার একাদশ নিয়ে চুল-চেরা বিশ্লেষণ করছেন। তবে তার শিষ্য তপুর মনে হচ্ছে, হেড কোচ কৌশলগত দিক নিয়েই কাজ করছেন বেশি, ‘আমার মনে হয় কোচ টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল দিক নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন বেশি। অবশ্য তার মাথায় একাদশের বিষয়টিও আছে।’

আরেক ডিফেন্ডার রহমত মিয়াও মনে করেন, দীর্ঘদিন খেলার মধ্যে না থাকায় হঠাৎ অনুশীলনে এসে ফিটনেস ফিরে পাওয়াটা কিছুটা কঠিনই। জাতীয় দলের অনুশীলন শেষে সাইফ স্পোর্টিংয়ের এই ডিফেন্ডার বলেছেন, ‘প্রথম দিকে যে অবস্থা ছিল, এখন অনেকটা ভালো অবস্থানে আছি আমরা। আশা করছি, আমরা ভালো করবো। তবে অনুশীলনের মধ্যে না থেকে নতুন করে চাপ নিতে ঝামেলা বাঁধে। তখন মন চাইলেও শরীর চাইবে না। করোনার সময় যে সূচি ছিল, তা ফলো করতে পেরেছি বলে সবাই অনুশীলনে ভালো করছে।’

জাতীয় দলের ইংলিশ ফিটনেস কোচ ইভান রাজলক অবশ্য খেলোয়াড়দের একাগ্রতা দেখে খুশি, ‘সবাই ইতিবাচক। ভালো অনুশীলন করছে। প্রীতি ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। অনুশীলনে জিপিএস ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে সেই বিশ্লেষণটা জেমি ডে ভালো বলতে পারবে।’