উপলক্ষটা সবার কাছেই ছিল দারুণ আনন্দের। এ ম্যাচ দিয়েই বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে অভিষেক হলো সুমনের। পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে খেললেন এই স্ট্রাইকার। শুরুটা খারাপ করেননি। বল ছাড়া মুভমেন্ট ছিল ভালো। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের একটু তটস্থই থাকতে হয়েছে।
প্রথমবারের মতো লাল-সবুজ জার্সি গায়ে খেলে রোমাঞ্চিত উত্তর বারিধারার স্ট্রাইকার। এখনও যেন কেমন একটা ঘোরের মধ্যে রয়েছেন। স্বপ্ন হয়েছে সার্থক। সুমন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমাদের গ্রামে এমনিতে সবাই খেলা দেখতো। তবে আমি জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ায় সবাই অনেক আশা নিয়ে টেলিভিশনের বড় পর্দায় খেলা দেখেছে। আমার বাবা-মা সেখানে আমাকে দেখে অনেক খুশি হয়েছেন। আমি গোল করতে না পারলেও বাংলাদেশ জেতার পর তারা বেশ উল্লাস করেছেন।’
নেপালের বিপক্ষে গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো ও সুমন রেজার অভিষেক হয়েছে একসঙ্গে। জিকোর তাও বয়সভিত্তিক দলে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। সিনিয়র দলে চূড়ান্ত স্কোয়াডেও তার জায়গা হচ্ছে কিছুদিন ধরেই। সেখানে সুমন ব্যতিক্রম, প্রথমবার স্কোয়াডে ঢুকেই একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন। মাহবুবুর রহমান সুফিল কিংবা তোহিদুল আলম সবুজের জায়গায় ইংলিশ কোচ জেমি ডে সুমনকে একাদশে পরখ করে দেখেছেন। অভিষেক ম্যাচে সুমন কিছুটা হলেও দৃষ্টি কেড়েছেন। তবে তাকে যেতে হবে এখনও বহুদূর। ডে অন্তত তাই মনে করেন। তবে সুমন পরিশ্রম করতে প্রস্তুত, ‘আমার স্বপ্ন ছিল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেবো। সেটা পূরণ হয়েছে। মাঠে হাজারো দর্শকের সামনে খেলাটা বিরাট ব্যাপার। কিছুটা নার্ভাস লাগছিল শুরুর দিকে। পরে অবশ্য ঠিক হয়ে যায়। এখন আমাকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। পরিশ্রম বেশি করতে হবে। কোচ যেভাবে বলেছেন সেভাবেই খেলার চেষ্টা করতে হবে।’
বিমান বাহিনীর সৈনিক পদে কর্মরত সুমন রেজা। ২০১৬ সালে আন্ত:বাহিনী ফুটবল খেলে নজরে পড়েন স্থানীয় কোচ রাশেদ আহমেদ পাপ্পুর। এরপর থেকে খেলছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দল উত্তর বারিধারার হয়ে। তার স্বপ্ন এখন আরও বড়। প্রিমিয়ার লিগে মাত্র পাঁচ ম্যাচ খেলেই ডাক পেয়ে যান জাতীয় দলে। সবকিছু এত দ্রুত ঘটে গেছে যে বিশ্বাসই হতে চায় না ২৫ বছর বয়সী স্ট্রাইকারের। আর এখন তো জাতীয় দলের হয়ে একটা ম্যাচ খেলেও ফেলেছেন!
জাতীয় দলে কিছুদিন ধরে সবার সঙ্গে আছেন। হোটেলে থেকে অনুশীলন করছেন। এমন পরিবেশ পেয়ে সুমনের এখনও অন্যরকম লাগছে, ‘আসলে জাতীয় দলে অনুশীলনের পরিবেশই অন্যরকম। আমি প্রথমবার এসেছি। এখানে সবকিছুই ভালো লাগছে। নতুন করে অনেককিছু শিখতে পারছি যা ভবিষ্যতে কাজে দেবে।’ কোচ জেমি ডে সুমনের ভবিষ্যৎটা পড়তে পেরেছেন বলেই তার গায়ে চড়িয়ে দিয়েছেন জাতীয় দলের জার্সি।
সেই জায়গাটা ধরে রেখে নিজেকে আরও উজ্জ্বল করে তোলার চেষ্টাটা করতে হবে সুমনকেই। টাঙ্গাইলের আনুহলা গ্রাম থেকে ঢাকা- ভ্রমণটা বেশ লম্বাই। কিন্তু জাতীয় দলের দীর্ঘ ও কঠিন পথের এটি একেবারেই সূচনাবিন্দু।