নিজের মধ্যেই জেগে ওঠার ডাক শুনছেন কুতিনিয়ো

কুতিনিয়োর নিজের কাছেই বেশি প্রত্যাশা -টুইটারইউরোপে শতভাগ জয়ের রেকর্ড, লা লিগাতেও ইতিবাচক ছন্দ ফিরেছে। এমন সময় কাদিজের কাছে ২-১ গোলে হার, যারা ১৪ বছর পর ফিরেছে স্পেনের শীর্ষস্তরে। বার্সেলোনাকে হতাশা কেমন পেয়ে বসেছে তা না বললেও চলছে। ফিলিপ্পে কুতিনিয়োই বলেছেন কাদিজ ম্যাচের হতাশা প্রচণ্ডভাবে ঘিরে আছে তাদের। কিন্তু এটাই আবার প্রবলভাবে ঘুরে দাঁড়াতেও জোগাচ্ছে অনুপ্রেরণা। সেটা কীভাবে হবে?

বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড সেজন্য বেছে নিচ্ছেন মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে জুভেন্টাস ম্যাচটিকে, ‘আমরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে চাই, সেজন্য আবার জয়ে ফেরা খুব জরুরি। বিশেষ করে এমন দুঃসহ এক পরাজয়ের (কাদিজ ম্যাচে) পর।’ রোনালদোদের সঙ্গে ন্যু ক্যাম্পে এই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আরও অনেক কিছুই বলেছেন কুতিনিয়ো, যেখানে তিনি অকপট ও প্রত্যয়ী, ‘আমরা যেন মাঠে আমাদের সামর্থ্যটা দেখানোর জন্য আরও বেশি উদ্ধুদ্ধ। আজ আমি ব্যক্তিগতভাবে বলি, নিজে যেন ভালো ফর্মেই আছি মনে হচ্ছে, দলের ফর্মও ভালো। আমি আবারও বলছি, আমরা বর্তমান পরিস্থিতিটা বদলে দেওয়ার জন্য বেপরোয়া।’

ব্যক্তিগত কথা বলতে গিয়ে অনেক বড় একটা সত্যই প্রকাশ করেছেন কুতিনিয়ো। স্বীকার করেছেন যে প্রত্যাশায় তাকে এনেছিল বার্সেলোনা, সেটি তিনি পূরণ করতে পারেননি। নেইমার ট্রান্সফার ফি’র বিশ্বরেকর্ড গড়ে পিএসজিতে পাড়ি জমানোর পর বার্সেলোনা কুতিনিয়োকে লিভারপুল থেকে আনে ২০১৮ সালে। ১৬০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফি, সেটি তখন নেইমারের পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। কিন্তু কুতিনিয়ো নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন। বার্সেলোনায় সব ‍প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬০ ম্যাচে করেন ১৫ গোল। গত মৌসুমে তাকে ধারে পাঠানো হয় বায়ার্ন মিউনিখে। জার্মান চ্যাম্পিয়নদের ‘ট্রেবল’ জেতানোর পথে ২৩ ম্যাচে করেছেন ৮ গোল। যার মধ্যে আছে চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনাকে ৮-২ লজ্জা দেওয়া ম্যাচের ২ গোল।

সংবাদ সম্মেলনে অকপট ২৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড বলেও দিয়েছেন, ‘আমিই প্রথম ব্যক্তি যে নিজের কাছ থেকেই আরও বেশি চায়।’ তবে নিজের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের একটা কারণও তিনি বের করেছেন, ‘আমাদের ক্লাবে প্রচণ্ড চাপ নিয়ে খেলতে হয়। একটা বিষয়ই বলতে পারি, এখানে মানসিকভাবে খুব শক্ত হতে হয়। সেদিক দিয়ে আমি এবার ঠিক আছি।’

‘মেসির পাশে আবারও খেলতে চাই। হয়তো আগামী মৌসুমেই সেটি হতে যাচ্ছে’-কদিন আগে এ কথা বলে জল্পনার আগুনে যেন বাতাস দিয়েছেন নেইমার। আবার তার বার্সায় ফেরার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। কৈশোরের বন্ধু ও ব্রাজিল সতীর্থকে নিয়ে কুতিনিয়ো কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি, ‘আমি জানি না আগামী বছর কী ঘটবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনি জানেন না কী ঘটতে পারে।’ তবে একটা বিষয় তিনি পরিষ্কার বলে দিতে পারেন, ‘আমরা সবাই সেরার সঙ্গে থেকেই খেলতে চাই।’