আসন্ন ঘরোয়া মৌসুমকে সামনে রেখে মোহামেডান ৮ জন উদীয়মান খেলোয়াড়ের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে চুক্তি করেছে। কারও সঙ্গে দুই কিংবা কারও সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি। সাদাতের সঙ্গে হয়েছে সর্বোচ্চ তিন বছরের। আর তা হয়েছে ট্রায়ালে খেলা দেখার পরেই।
দলটির অস্ট্রেলিয়ান কোচ শন লেন ট্রায়ালে খুশি হয়েই এই আটজনের অন্যতম হিসেবে সাদাতকে পছন্দ করেছেন। যদিও শন লেন বাংলা ট্রিবিউনের কাছে আলাদা করে কারও নাম বলতে চাইলেন না, ‘নতুন চুক্তি হওয়া আট জন খেলোয়াড়ের মধ্যেই মেধা আছে। তারা পরিশ্রম করলে ভবিষ্যতে ভালো খেলোয়াড় হতে পারবে। সাদাত তাদের মধ্যে একজন। আমার দৃষ্টিতে সবাই বেশ যোগ্যতাসম্পন্ন।’
অবাক করা বিষয় হলো, ট্রায়ালে সাদাত হামিদ তার বাবার পরিচয় দেননি! কোচ নিজেও জানতেন না সাদাত আসলে কায়সার হামিদের ছেলে! কায়সার হামিদ নিজেই জানালেন সেই কথা, ‘সাদাতের মধ্যে সম্ভবনা দেখতে পাচ্ছি। ওর মধ্যে ভালো কিছু করার স্পৃহা আছে। তাই তো নিজেই ট্রায়াল দিয়েছে। সেখানে কোচের মন জয় করে নিয়েছে। আমি এখানে কিছুই করিনি। কোনও প্রভাব রাখিনি। এখন সাদাত যদি মনে করে ফুটবলে থাকবে। তাহলে তাকে আরও পরিশ্রম করতে হবে।’
তবে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ২০ বছর বয়সী ছেলের মধ্যে নিজের ছায়াই দেখছেন কায়সার। ৬ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন সাদাত খেলছেন মিডফিল্ডে। কিন্তু ক্যারিয়ার গড়তে চান বাবার পজিশনে, সেন্ট্রাল ডিফেন্সে! কায়সার বলছিলেন, ‘এতো দিন তো স্কুল ও কলেজে ফুটবল খেলেছে। এখন পেশাদার ফুটবলে কতটকু মানিয়ে নিতে পারবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আগে খেলেছে মিডফিল্ডে। এখন খেলতে চায় ডিফেন্সে। কোচও(শন লেন) তাকে সেভাবে চাইছে। তার উচ্চতা ও খেলার ধরণ দেখে কোচের বেশ পছন্দ হয়েছে। তাই তো দীর্ঘমেয়াদে চুক্তি হয়েছে।’
মোহামেডান দলের ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীবও সাদাতকে নিয়ে আশাবাদী, ‘সাদাতসহ আটজনের সঙ্গে আমরা চুক্তি করেছি। তাদেরকে সুযোগ পেলে কোচ প্রিমিয়ার লিগে খেলাবে। এর মধ্যে কায়সার ভাইয়ের ছেলে সাদাতও আছে। আমরা তাকে নিয়ে আশাবাদী।’
এখন তারকা বাবার স্বপ্ন পূরণ হলেই হয়!