নিজের শেষ ওভারে চট্টগ্রামের প্রয়োজনীয় ১৬ রান আটকে দেন শহীদুল। তাতেই বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে চ্যাম্পিয়ন হয় জেমকন খুলনা। খুলনার হয়ে আগের সব ম্যাচই খেলেছেন শহীদুল। বাবার মৃত্যুর কারণে শুধু প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচটি খেলতে পারেননি। গত বুধবার খুলনার টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে ম্যাচ খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেন নিজেই। টিম ম্যানেজমেন্টও তার কথায় সাড়া দিয়ে করোনা টেস্টে করিয়ে দলের সঙ্গে যুক্ত করে।
শহীদুল বলেছিলেন, ‘বাবাকে হারিয়েছি, এই শোক তো আর ভোলা যাবে না। আমি বিশ্বাস করি, বাবা আমাকে খেলতে দেখলেই খুশি হবেন।’ শহীদুল এমন আবেগময় কথা বলেই বসে থাকেননি। মাঠে দেখিয়েছেন কীভাবে শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হয়। শেষ ওভারে জয়ের জন্য চট্টগ্রামের প্রয়োজন ছিল ১৬ রানের। ক্রিজে মোসাদ্দেক-সৈকত আলীর মতো ব্যাটসম্যান। তবু ভড়কে যাননি শহীদুল। ঠান্ডামাথায় বোলিং করে গেলেন ডানহাতি পেসার। প্রথম ৫ বলে দুই উইকেট নিয়ে দিলেন মাত্র ৪ রান। ১ বলে চট্টগ্রামের জিততে প্রয়োজন ১২ রান। শেষ বলটি কিছুটা ফুলটস হলো, নাহিদুল বিশাল এক ছক্কা মারলেন। তবু ম্যাচ খুলনার।
শহীদুলের এই ওভারটিতেই ম্যাচটি জিতেছে খুলনা। ব্যাটিংয়ে ৭০ রানের ইনিংস খেলা মাহমুদউল্লাহর অবদান যতখানি, ঠিক ততখানিই গুরুত্বপূর্ণ ছিল শহীদুলের ওভারটি। শহীদুল ৪ ওভারে ৩৩ রান খরচায় তুলে নিয়েছেন দুটি উইকেট। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের ফাইনাল জেতার পর মাশরাফি বিন মুর্তজা তো পুরো কৃতিত্বই দিলেন শহীদুলকে। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘কয়দিন আগে ওর বাবা মারা গেছেন। অমন এক শোক ভুলে এভাবে পারফরম্যান্স করাটা অনেক কঠিন। ও জৈব সুরক্ষা বলয়ের বাইরে চলে গিয়েছিল। আবার এসেছে, এসে দারুণ বোলিং করলো। আমরা আসলে ওর জন্যই ম্যাচটি জিতেছি।’