বিদেশি কোচদের সঙ্গে স্থানীয়দেরে একটা পরীক্ষা চলবে। বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে বিদেশি কোচ আনার ঐতিহ্যটা তৈরি হয়েছে মূলত আবাহনী লিমিটেডের মাধ্যমে। এবারও পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমস আছেন। বসুন্ধরা কিংস স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজনকে ধরে রেখেছে। সাইফ স্পোর্টিং বেলজিয়ান কোচ পল পুটের অধীনে মাঠে নামার অপেক্ষায়। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে তৃতীয় মৌসুমের জন্য কাজ শুরু করেছেন অস্ট্রেলিয়ান কোচ শন লেন। মুক্তিযোদ্ধা আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও মালয়েশিয়ান কোচ রাজা ইসাকে এনেছে। আরামবাগ ক্যাসিনো-কাণ্ডের পর ঘুরে দাড়াতে ভারতীয় কোচ সুব্রত ভট্টাচার্যকে কোচ করে এনেছে আগেই। পুলিশ এফসিতে রয়েছে পরিচিতি মুখ শ্রীলঙ্কার পাকির আলী। ব্রাদার্স ইউনিয়নে শেষমুহুর্তে ইরানিয়ান কোচ রেজা পার্কাস না এলে অন্য বিদেশি কাউকেই দেখা যাবে।
দেশি কোচদের মধ্যে শেখ জামাল ধানমন্ডিতে রয়েছেন শফিকুল ইসলাম মানিক, শেখ রাসেলে সাইফুল বারী টিটু। চট্টগ্রাম আবাহনী এবারও আস্থা রেখেছে মারুফুল হকের ওপর। রহমতগঞ্জের দায়িত্বে আছেন সৈয়দ গোলাম জিলানি ও উত্তর বারিধারায় জাহিদুর রহমান মিলন । গত এক দশকে অবশ্য ঢাকার মাঠে বিদেশি কোচদের সাফল্য বেশি। পেশাদার ফুটবল শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রয়াত অমলেশ সেন ও মারুফুল হক সাফল্য পেয়েছেন। ১১টি লিগের মধ্যে আবাহনী লিমিটেড শিরোপা জিতেছে ছয়বার। এরমধ্যে জর্জ কোটান-আলি আকবর পোরমুসলিমিদের পাশাপাশি অমলেশ সেন শিরোপা জয়ে মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন। শেখ জামালের তিনটি শিরোপায় যোশেফ আফুসি,কার্লেভিচের পাশাপাশি মারুফুল হকের নামও চলে আসে। মারুফুল হক শেখ রাসেলকে ট্রেবল জিতিয়ে শেখ অন্য এক মানদণ্ড গড়েছেন। বসুন্ধরা কিংস অভিষেকেই শিরোপা জিতেছে অস্কার ব্রুজনের অধীনে।
এবারও ডাগআউটে কোচদের মধ্যে অন্যরকম লড়াই দেখা যাবে। তবে উঁচুমানের বিদেশি কোচ এলে তাদের কাছ থেকে অনেক শেখারও থাকে। শেখ রাসেলের কোচ সাইফুল বারী টিটু যেমনটি বাংলা ট্রিবিউনকে বলছিলেন, ‘আসলে পুরো বিষয়টি উপভোগ্য। বিদেশি কোচরা যদি তেমন কোয়ালিটির হয় তাহলে মাঠে তার প্রভাব দেখা যায়। তাদের সঙ্গে তখন স্থানীয় কোচদের তুলনা করা যায়। শেখারও বিষয় থাকে।’ তবে টিটুর চোখে খেলোয়াড়েরাই হলো মূল অস্ত্র, ‘খেলোয়াড়েরাই আমাদের দৃষ্টিতে হলো মূল। তবে কোচদের প্রভাবও তো থাকে। আমার দৃষ্টিতে লেমস ও অস্কার ভালো কোচ। যদিও তারা মাঠে নামতে পারে ভালো দল নিয়ে। তবে তারা খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আদায়ও করতে পারে। ওদের ক্লাবের খেলোয়াড়দের মুখেই এটা শুনেছি।’
আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমস ডাগআউটের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নিচ্ছেন খুশিমনে, ‘আমি মনে করি এতে ভালোই হবে। সবাই নিজেদের পারফরম্যান্স দেখাতে পারবে। কে কোন স্টাইলে দলকে খেলালো, মাঠের লড়াইয়ে কে কী করতে পারে তা পরিষ্কার হয়।’ বসুন্ধরার কোচ অস্কার ব্রুজনের দৃষ্টিতে সাইফুল বারী টিটু, জুলফিকারর মাহমুদ মিন্টু ও আব্দুল কাইয়ুম সেন্টু ভালো করছেন। তার কথা,‘বাংলাদেশে স্থানীয় কোচরা অনেক সময় প্রতি আক্রমণনির্ভর খেলে থাকে। তাদের আরও আগ্রাসী খেলা খেলতে হবে, আমরা যেমন খেলে থাকি। এখানে অনেকেই ভালো করছেন। তাদের সঙ্গে ডাগআউটে লড়াইটা এবারও উপভোগ্য হবে।’