গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচেই নামার আগে দুই দল ভালোই প্রস্তুতি নিয়েছে। মৌসুম শুরুর ম্যাচ জিতেই এগিয়ে যেতে চাইছে দুইদল। তবে মাঠে নামার আগে অবশ্য ধারে-ভারে আবাহনী এগিয়ে। এক মৌসুম আগের ফেডারেশন কাপ বিজয়ী তারা। এবার ট্রফি পুনরুদ্ধারের মিশন। জাতীয় দলের এক ঝাঁক খেলোয়াড় আছে। বিদেশিদের মানও খারাপ নয়। যদিও তিনজনের বেশি বিদেশি একাদশে খেলতে পারবে না। পরীক্ষিত আফগান ডিফেন্ডার মাসিহ সাইগানি ও হাইতির ফরোয়ার্ড কেরভেন্স বেলফোর্ট আছেন। নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার সানডে চিজোবা এবার নেই। তার জায়গায় ব্রাজিলিয়ান ফ্রান্সিসকে ওয়েগসলি রোদ্রিগেজ ডি সুজা ফিলহো ওরফে তোরেসকে নিয়েছে আবাহনী। আরেক ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার রাফায়েল অগাস্তো এখনও ঢাকায় আসেননি। তাকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে।
মোহামেডানে গত মৌসুমে খেলা মিডফিল্ডার উরু নাগাতা ও মালির স্ট্রাইকার সোলেমানে দিয়াবাতে এবারও আছেন। নতুন দুজন বুরকিনাফাসোর ডিফেন্ডার কলিদিয়াতি আর নাইজেরিয়ান মিডফিল্ডার আবিওলা নুরাদ।
দুইদলের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান আবাহনীকে অনেক এগিয়ে রাখে। পরিত্যক্ত গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে আবাহনী ৪-০ গোলে জিতেছিল। আগের মৌসুমে প্রথম পর্বে আবাহনীর জয় এসেছিল ৩-০ গোলে। কিন্তু ফিরতি পর্বে মোহামেডান জিতেছিল ৪-০ গোলে। এবার অবশ্য দুইদলই অনেকদিন পর ফেডারেশন কাপে মুখোমুখি হয়ে জয় দিয়ে মৌসুম শুরু করতে চাইছে। আবাহনীর পরীক্ষিত কোচ পর্তুগিজ মারিও লেমস যেমন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন,‘আমরা জয়ের জন্যই খেলবো। এখানে কাজ করতে গিয়ে বুঝেছি যে দুই দলের লড়াইয়ে অন্য আবেগ কাজ করে। আমি নিজেও ডাগআউটে থেকে বুঝি। আমরা প্রতিটি প্রতিযোগিতা জিততে চাই। সেই লক্ষ্যে শুরুটা জয় দিয়েই করতে চাই।’
আবাহনীর স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে নাবীব নেওয়াজ জীবন-সাদ উদ্দিনরা আছেন। তবে কোচ তাকিয়ে আছেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ৩১ বছর বয়সী তোরেসের দিকে (আগে যেমন প্রত্যাশা থাকতো সানডেকে ঘিরে) সবশেষে ইন্দোনেশিয়ার লিগে বোর্নিও ক্লাবে খেলেছেন তোরেস। করোনাভাইরাসের কারণে লিগ বন্ধ হওয়ার আগে সেখানে ৩ ম্যাচে তার ২ গোল ছিল।
লেমস নতুন ব্রাজিলিয়ান সম্পর্কে বলেছেন,‘সানডের জায়গায় এবার তোরেসকে দলে নেওয়া হয়েছে। আশা করছি সে ভালো করবে। শুরু থেকেই গোল পাবে। নাম্বার নাইন হিসেবে তোরেসের ওপর ভরসা একটু বেশি বলতে পারেন। এছাড়া জীবন-সাদরা আছে। আশা করছি আমরা ভালোভাবে ম্যাচ জিততে পারবো।’ আবাহনী তিন বিদেশি নিয়ে নামলেও মোহামেডানের চার বিদেশি নিয়ে খেলার কথা আছে। দলের অস্ট্রেলিয়ান কোচ শন লেন সেভাবেই দল সাজিয়েছেন।
তার কন্ঠেও আত্মবিশ্বাসী সুর,‘আমরা ম্যাচ জেতার জন্য্ই মাঠে নামবো। দলে এক ঝাঁক তরুণ খেলোয়াড় আছে। নতুন বিদেশিরাও দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আবাহনীর বিপক্ষে জয় দিয়েই আমরা ফেডারেশন কাপ শুরু করতে চাই। জানি কাজটি সহজ হবে না। তবে আমি আশাবাদী দল ভালো করতে পারবে। সেই লক্ষ্যে দলকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।’