বক্সিং ডে টেস্টের প্রথম দিনেই বক্স সিটে শ্রীলঙ্কা

উইকেট পাওয়ার পর এনগিডিকে মুলডারের অভিনন্দন -টুইটারবল সিমের ওপর মুভ করছিল খুব। টস জিতে ব্যাটিংয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কা এরইমধ্যে ৫৪ রানে হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট। এর পরই শুরু হলো দিনেশ চান্ডিমাল ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভার লড়াই। দুজনে চতুর্থ উইকেটে যোগ করলেন ১৩১ রান। শ্রীলঙ্কার দিন শেষ হয়েছে ৩৪০ রানে, হারিয়েছে আর তিনটি উইকেট।

দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্কোর যে লঙ্কানরা গড়তে চলেছে এতে কোনও ভুল নেই। হাতে এখনও চার উইকেট, আর মাত্র ৩টি রান করলেই হয়ে যাবে সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে ২০১২ সালে কেপটাউনে করা ৩৪২ রানই দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ স্কোরের রেকর্ড হয়ে রয়েছে।

চতুর্থ উইকেট জুটিটা কিন্তু অসম্পূর্ণ। ১৮৫ রানের মাথায় ডি সিলভা মাঠ ছেড়েছেন উরুর পেশিতে টান পড়ায়। চোটটা বেশ গুরুতর, এমআরআই করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে না পেলে শ্রীলঙ্কা টিম ম্যানেজমেন্ট কোনও মন্তব্য করবে না। কিন্তু ডি সিলভা নিজেই নাকি বলেছেন দুই থেকে তিন সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে চলে যেতে হচ্ছে তাকে। তাহলে ৩ জানুয়ারি থেকে জোহানেসবার্গে শুরু দ্বিতীয় টেস্টটা মিস হচ্ছে নিশ্চিত। কিন্তু তাকে নিয়ে শ্রীলঙ্কার আসল দুশ্চিন্তা ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের সঙ্গে দুই টেস্টের সিরিজে। যা শুরু হচ্ছে ১৪ জানুয়ারি থেকে। তাকে হারানো মানে তার ব্যাটিংয়ের সঙ্গে অফ-স্পিন বোলিংটাও মিস করা।

শনিবার সেঞ্চুরিয়নে শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচে ফেরাতে বড় ভূমিকা ডি সিলভার ব্যাটিংয়ের। একপ্রান্ত থেকে প্রোটিয়া পেসারদের পাল্টা আক্রমণ করে গেছেন তিনি। অন্যপ্রান্তে চান্ডিমাল ছিলেন ধৈয্যের প্রতিমূর্তি। ১৩১ রানের জুটিতে ডি সিলভা ৭৯ রান করতে বল খেলেছেন ১০৬টি, ১১টি চারের সঙ্গে মেরেছেন একটি ছক্কা। আর চান্ডিমাল ১১টি চারের সাহায্যে ৮৫ রান করেছেন ১৬১ বল খেলে।

দক্ষিণ আফ্রিকার অনভিজ্ঞ বোলিং মাঝেমধ্যেই লেংথ-লাইন হারিয়ে প্রচুর রান দিয়েছে। অভিষিক্ত পেসার লুথো সিপামলা ছাড়া আর কারো ভালো লেংথ-লাইন ছিল না। সিপামলাও প্রথম তিন ওভারে দিয়েছিলেন ২৮ রান। পরে অবশ্য বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়ে তৃতীয় সেসনে একটি উইকেটও পান। শ্রীলঙ্কা ওভারপিছু ৪ রান করে তুলেছে। কোনও প্রোটিয়া বোলারই ওভারপ্রতি তিনের কম রান দেননি। এমনকি মাঝেমধ্যেই ১৫০ কিমি’র ওপর গতি তোলা আনরিখ নর্কিয়াকেও ডি সিলভা ও অন্য ব্যাটসম্যানরা পিটিয়ে রান তুলেছেন। অভিষিক্ত পেস বোলিং অলরাউন্ডার ভিয়ান মুলডার সফলতম বোলার, নিয়েছেন ৩ উইকেট। তবে ভাগ্যও তাকে সাহায্য করেছে, না হলে তার একটি শর্ট ও ওয়াইড বল চেজ করে কেন ক্যাচ হবেন কুশল পেরেরা? উইকেটে হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা বল চান্ডিমালের ব্যাটের হ্যান্ডেলে লেগে ক্যাচ হয়েছে তৃতীয় সেসনে। নর্কিয়া, লুঙ্গি এনগিডিও একটি করে উইকেট পেয়েছেন। অসমান বাউন্সের উইকেটে দিনের শেষদিকে কেশব মহারাজ কিছুটা টার্ন পেয়েছেন। তবে তার আগেই বক্সিং ডে টেস্টের বক্স সিটে বসে গেছে শ্রীলঙ্কা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৮৫ ওভারে ৩৪০/৬ (চান্ডিমাল ৮৫, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ৭৯, ডিকেভেলা ৪৯, শানাকা ২৫, হাসারাঙ্গা ১৮, মুলডার ৩/৬৮)