বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে তিন পয়েন্ট এনে দিয়েছেন এমবাপ্পে। শুধু তাই নয়, দলের জয় প্রাপ্তি ছাড়াও রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। তবে এমন সাফল্যের পর ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার মতো কোনও চিন্তা-ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছেন।
নিউ জার্সিতে এই ফরোয়ার্ড দুটি গোল করেন, যার মধ্যে দ্বিতীয়টি ছিল বক্সের বাইরে থেকে করা একটি চমৎকার শট। তার এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে লা ব্লুজরা তাদের প্রথম কঠিন ম্যাচে ৩-১ ব্যবধানের একটি দাপুটে জয় পায়। এই জোড়া গোলের মাধ্যমে তিনি অলিভিয়ের জিরুকে টপকে ৫৮ গোল নিয়ে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেছেন।
টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট দল হিসেবেই ফ্রান্স খেলতে এসেছিল, তবে তাদের প্রধান তারকা এমবাপ্পের ফর্ম নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল। রিয়াল মাদ্রিদের অত্যন্ত হতাশাজনক একটি মৌসুমের পর এমবাপ্পেকেই সব সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু করা হয়েছিল, যেখানে মাদ্রিদ টানা দ্বিতীয় মৌসুমের মতো কোনও ট্রফি ছাড়াই বছর শেষ করে।
মাদ্রিদ সমর্থকদের কাছ থেকে তিনি নিয়মিতই দুয়োধ্বনি পেয়েছেন এবং তাকে ক্লাব থেকে বের করে দেওয়ার দাবিতে করা একটি পিটিশনে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ সই করেছিল। তার প্রতি এই ক্ষোভের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে, ফ্রান্সের প্রথম ম্যাচের আগে তার সতীর্থ উসমান দেম্বেলে তার পক্ষে কথা বলতে বাধ্য হয়েছিলেন।
সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচে তার এই জোড়া গোল, যা তাকে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসিকেও ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে, নিঃসন্দেহে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দেবে। তবে এমবাপ্পে জানিয়েছেন যে, এটি তার জন্য কোনো অনুপ্রেরণা বা জেদ ছিল না।
ম্যাচ শেষে ফরাসি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমি খেলি আমার দেশের ইতিহাস গড়ার জন্য এবং আমার দল যেন ফাইনালে পৌঁছাতে ও বিশ্বকাপ জিততে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য। এখানে (সমালোচকদের বিরুদ্ধে) প্রতিশোধের কিছু নেই। যারা আমার সমালোচনা করে, আমি যদি তাদের মুখ বন্ধ করার জন্য খেলা শুরু করতাম, তবে আমাকে ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত খেলে যেতে হতো।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার জোড়া গোলের পর, আমি আমার আত্মীয়স্বজন, আমার পরিবার এবং আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কথা ভেবেছি যারা আজ এখানে উপস্থিত ছিলেন। আমি যখনই গোল করি, তা তাদের জন্যই করি।’
ফ্রান্সের পরবর্তী ম্যাচ আগামী সোমবার ফিলাডেলফিয়ায়, যেখানে তারা ইরাকের মুখোমুখি হবে।