অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দলে থাকার কথা ছিল না লিটন দাসের। সতীর্থরা বাংলাদেশ ছাড়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। আর সদ্য চোট থেকে সেরে ওঠা এই উইকেটরক্ষক ব্যাটারকে নিয়ে আশাবাদী মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।
শেষ মুহূর্তে লিটনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্রথম টেস্টের দলে। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে তাকে কীভাবে খেলতে হবে, সেই পরামর্শ দিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘টেস্টে হয়তো অনেক হাই ইনটেনসিটিতে খেলা হয় না। একটা টেস্টে ম্যাচে দৌড়ে ৩-৪ রান খুব কম হয়। হয়তো সে খুব দ্রুত দৌড়ায়। কিন্তু উইকেটরক্ষক হিসেবে তার হয়তো ৮০-৯০ ওভার স্প্রিন্ট টানতে হবে না। সে যদি ব্যাটিংটা করতে পারে, যদি রানিং বিটুইন দ্য উইকেটে মোটামুটি সে ভালো করে এবং সে যদি খেলার মতো অবস্থায় থাকে, আমি মনে করি এটা যুক্তিযুক্ত হবে।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের যে টেস্টে ভরাডুবি হয়েছে, লিটনের সেখানে খেলা হয়নি। মে মাসে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে টেস্টে ধবলধোলাইয়ের সিরিজে একটা সেঞ্চুরিও করেছিলেন লিটন। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে টেস্টের আগে যে ৪৮ দিন তিনি খেলতে পারেননি, তাতে করে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে খুব একটা অসুবিধা হবে বলে মনে করেন না সালাহউদ্দিন। হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) বিভাগের প্রধান কোচ বলেন, ‘ব্যাটিং নিয়ে আসলে...মানে অভিজ্ঞতা থাকলে আপনি কখনো এটা ভুলবেন না। আপনাদের যে অভিজ্ঞতা, এটা কখনো আপনার স্মৃতিতে সব সময় থেকে যায়। হয়তো এই মানিয়ে নেওয়াটা...এটা খুব ভালো যে, সে আগে আগে যাচ্ছে। সে সেখানে (অস্ট্রেলিয়া) গিয়ে মানিয়ে নিতে পারবে। কারণ, আমার মতে প্রায় ৪৫ দিন কিন্তু ম্যাচের ভেতরে নেই।’
গতকাল লিটন অনুশীলন করেছেন। শিষ্যকে নিয়ে সাংবাদিকদের সালাহউদ্দিন বলেন, ‘সে যদি প্রস্তুতি ম্যাচটা খেলতে পারে, আমি মনে করি সেটা তার জন্য অনেক ভালো হবে। তখন তার জন্য টেস্ট ম্যাচটাও খেলা অনেক সহজ হবে। নয়তো সরাসরি টেস্ট ম্যাচে গেলে আমার কাছে মনে হচ্ছে একটু কঠিন।’
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন অচেনা হলেও সালাহউদ্দিন তাঁর শিষ্যদের নিয়ে আশাবাদী। আজ তিনি বলেন, ‘আমি টেস্ট দল নিয়ে সব সময় আশাবাদী। কারণ, আমার কাছে মনে হয় যে, টেস্ট দলে যারা খেলে, তারা নিজেদের সম্পর্কে অনেক ভালো সচেতন এবং নিজেদের উদ্দেশ্য তারা ভালো করে জানে এবং অনেক গোছানো। আমার কাছে মনে হয় যে, এখানে ভালো না হওয়ার আসলে কোনো যুক্তি নেই।’
শান্ত-মুমিনুলরা বিদেশেও টেস্টে ভালো কিছু করতে পারবেন বলে আশা সালাহউদ্দিনের। আজ এইচপির প্রধান কোচ বলেন, ‘যেহেতু অভিজ্ঞ, আমার মনে হয় তারা যদি বাইরের...আমাদের যে চার টেস্ট আছে, আশা করবো যে, এখান থেকে যদি কিছু ম্যাচ ভালো করতে পারি, তো দেশে যখন আমাদের বাকি চারটা ম্যাচ আছে, সেখানে যদি চারটা ম্যাচ জিতি, তাহলে আমার মতে সেরা এক, দুই ও তিনের মধ্যে থাকতে পারবো।’
ডারউইনে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট। ম্যাকেতে ২২ আগস্ট দ্বিতীয় তথা শেষ টেস্ট খেলতে নামবে দুই দল।