ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে অপর প্রান্ত থেকে যোগ্য সমর্থন পাননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে সেদিনের চেয়ে ভালো চমৎকার একটি ব্যাটিং উপযোগী টেস্ট ম্যাচের পিচে আকাঙ্ক্ষিত সমর্থন পেলে দলনায়ক হিসেবে প্রথম ইনিংসেই সেঞ্চুরির দেখা পেতেন তিনি। তাতে দলের রান ৬০০ এর কাছাকাছি পৌঁছানোটা মোটেও অসম্ভব ছিল না।
মুমিনুলের দ্রুত বিদায়ের পর মোসাদ্দেক এবং মেহেদী হাসান মিরাজের কাছ থেকে আরেকটু ধীরস্থির ক্রিকেট দলনায়ক নিশ্চয়ই আশা করেছিলেন। যেটা করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন অভিষিক্ত সানজামুল ইসলাম। নিজের ওপর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণেই মিরাজকে দ্রুত বিদায় নিতে হয়েছে। একটি রানের চেয়ে তার উইকেটটি যে অনেক মূল্যবান, সেই সহজ হিসাবটি করতে তাকে এবং দলকে দিতে হলো চরম মূল্য। দলনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্টে অনেকের ব্যাটিং রিয়াদ উপভোগ করেছেন, কিন্তু যোগ্য সমর্থনের অভাবে নিজের ব্যাটিংটা উপভোগ করতে পারলেন না। ৫১৩ রান করার পরও আজ দিন শেষে শ্রীলঙ্কার জবাব তাকে যথেষ্ট স্বাচ্ছন্দ্যে রাখবে না।
এই দারুণ ব্যাটিং উপযোগী পিচেও চমৎকার বল করেছেন লাকমল। তার তিন উইকেট পাওয়া ছিল কঠোর পরিশ্রম ও কৌশলী বোলিংয়ের পুরস্কার।
ক্ষিপ্র ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের দুর্বলতা বরাবরের মতো এই ম্যাচেও পরিলক্ষিত হয়েছে। এমন পিচে স্লিপে দুটো ক্যাচ ফেলে দেওয়াটা দল ও বোলারকে একরাশ হতাশায় গ্রাস করেছে। বিশেষ করে মিরাজের বলে স্লিপে ইমরুল কায়েস দুই পা এত প্রশস্ত করে ও পরিমিত হাঁটু না ভেঙে দাঁড়ানোয় ক্যাচ এলে তাকে অনেক বেশি অপ্রস্তুত মনে হয়েছে। কুশল মেন্ডিসের ক্যাচ ফেলে দেওয়ার ভিডিওটি আশা করি তিনি ও সংশ্লিষ্ট কোচ মনোযোগ দিয়ে দেখবেন। পাশপাশি ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে কুশল মেন্ডিসের শট খেলার সময় মুমিনুল নিজের মাথা ভয় পেয়ে সরিয়ে না নেওয়াটা ছিল ক্যাচটি পূর্ণ করার মূল চাবিকাঠি।
ধনঞ্জয়া ডি সিলভার ব্যাটিং আমাকে মুগ্ধ করেছে। অনেক সাবধানী ব্যাটসম্যান, চমৎকার স্ট্রাইক রেটে শতরান পূরণ করেছেন। কিন্তু এর মাঝে বাড়তি ঝুঁকি নিয়ে কোনও শট খেললেন না। অসাধারণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে স্পিনে উইকেট ছেড়ে এসে বোলারের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্ট্রোকস খেললেন। কে বলবে কদিন আগে ত্রিদেশীয় সিরিজে এই কুশল মেন্ডিস ৯ বলে ২৭ রানের ছোট ইনিংস খেলেছে। এই টেস্টে সে কী সুন্দর ছন্দ বদলে তার ক্যাচ ড্রপের সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটা বড় স্কোর গড়ার প্রয়াসে সে এখন মগ্ন।
তৃতীয় দিনের শুরুতেই প্রথম সেশনে বাংলাদেশকে অন্তত তিনটি উইকেট ফেলতে হবে। ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে হবে। শ্রীলঙ্কা জানে প্রথম ইনিংসে লিড নিতে না পারলে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা করা কঠিন হবে। তাই তৃতীয় দিন এই পিচ ব্যাটসম্যানদের যতটুকু সাহায্য করবে, তার ষোলো আনা আদায় করে নিতে হবে। তাই তৃতীয় দিনে বোলিং সফলতার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করবে বাংলাদেশ তাদের নিজেদের ওপর থেকে কতটুকু চাপ হ্রাস করতে পারে।
৫১৩ রানে দেখতে অনেক বড় হলেও অভিজ্ঞতা ও কুশলতা দিয়ে শ্রীলঙ্কা ফিরতি চাপে বাংলাদেশকে ফেলার জন্য মরিয়া হয়ে লড়বে।