চতুর্থ দিন পিচ কিঞ্চিৎ সাহায্যের হাত স্পিনারদের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু আমার চোখে এদিনও চমৎকার ব্যাটিং বান্ধব আচরণ করেছে পিচ। স্পিনার ও ব্যাটসম্যান দুই পক্ষই তাদের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পেয়েছেন। চতুর্থ দিনেই স্পিনাররা অনেকবার ব্যাটকে পরাস্ত করেছেন ও উল্লেখযোগ্য বল ব্যাটের বাইরের কিনারা দিয়ে ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরিয়েছে। সেই কারণেই এদিন সর্বোচ্চ ৯টি উইকেটের পতন হয়েছে।
মিরাজ এদিন দারুণ ছন্দে ও আক্রমণাত্মক ছিলেন। তার সঙ্গে অন্য প্রান্তে তাইজুলও ছিলেন যথেষ্ট নিখুঁত। দুজনই ছিলেন দিনের অন্যতম সফল বোলার। এদিনও স্লিপ ও কয়েকটি পজিশনে ভালো ক্যাচিংয়ের দৈন্যতা ফুটে উঠেছে। বলের প্রতি বল রেখে মুশফিকের ক্যাচটিও এদিন লুফে নিলেন কুশল মেন্ডিস এবং ক্লোজ ব্যাটিংয়ে দুই দলের সফলতার মাঝে ছিল বিস্তর ব্যবধান। তারপরও সানজামুল বা সুখ্যাত মোস্তাফিজুর রহমান যদি ব্রেক থ্রু দেওয়ার ব্যাপারে আরেকটু তৎপর থাকতে পারতেন, তবে টেস্ট ম্যাচটা হয়তো একপেশে হতো না। অভিষেক টেস্টে সানজামুলের থেকে মোস্তাফিজের ওপর দলের প্রত্যাশা ছিল আরও অনেক বেশি।
ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কা দল তাদের অভিষ্ট লক্ষ্যে ঠিকই পৌঁছেছে। আকাঙ্ক্ষিত ২০০ রানের লিড নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে যতটা তৃপ্ত ছিল সেটা বহুগুণে বেড়ে গেছে, যখন তারা দিন শেষে আমাদের তিন নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানকে দিনের শেষ ১২ ওভারে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠায়। এই তিনজনেরই অসাধারণ সক্ষমতা ছিল বড় রান করার এবং দীর্ঘসময় তাদের পিচে টিকে থাকা এই মুহূর্তে বাংলাদেশের বড় প্রয়োজন ছিল। প্রায় ২০০ ওভার ফিল্ডিংয়ের শারীরিক ক্লান্তি নিয়ে ব্যাট করতে নামা ইমরুল কায়েস তার ক্রিকেট মেধা ও সময়ের দাবি উপেক্ষা করে যেভাবে আউট হলেন, তাতে তার ক্রিকেটীয় মস্তিষ্ক ব্যাট করার সময় কতটুকু কাজ করে সেটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সান্দাকান দ্বিতীয় ইনিংসে আমাদের ব্যাটসম্যানদের ভোগাবে, সেটা ছিল অনুমেয়। তিনি ও রঙ্গনা হেরাথ যে বোলারের ফুটমার্কের থেকে বাড়তি ফায়দা নেবে, তার একটা আশঙ্কা বরবারই ছিল। পঞ্চম দিনে সেটাকে বাড়তি পাওনা হিসেবে তারা আদায়ের চেষ্টা করবে। তবে চতুর্থ দিনের শেষে সান্দাকানের এত বাইরের বল এত সস্তায় তামিম তার কাছে জমা দেবেন, ভাবিনি। এমন চাপের মুখে নাইট ওয়াচম্যানের পরিবর্তে মুশফিকের নামাটা সঠিকই ছিল। তবে দুর্ভাগ্য, এই বলটি যদি আরও ১০০ বার মুশফিক খেলেন তা কখনোই এত নিখুঁতভাবে তার জুতার ডগায় পড়ে এত বাউন্স করবে না। ভাগ্য সতর্ক মুশফিক ও বাংলাদেশের সঙ্গে ছিল না।
শেষ দিনে এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচটি বাঁচানোর জন্য লড়াই করার চেষ্টাটা মুমিনুল, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক ও মিরাজদের জন্য হতে যাচ্ছে আরেকটি নতুন অভিজ্ঞতা। শততম টেস্টে যেমন লড়াই করে জিততে হয়েছে, ঠিক তেমন মানসিকতা ফিরে আসুক দলের অবশিষ্ট সব ব্যাটসম্যানের মধ্যে। দুটি ভালো পার্টনারশিপ যেমন আমাদের দরকার, তেমনি লঙ্কানদের যে কোনও স্পিনারের দারুণ স্পেলও ম্যাচের ভাগ্য সহজেই তাদের অনুকূলে নিয়ে যেতে পারে। দেখতে চাই উজ্জীবিত এক বাংলাদেশকে। পিচের স্লো টার্ন কিন্তু পঞ্চম দিনেও ভালো ব্যাট করার উপযোগী থাকবে।