ম্যাচের প্রথম দিনে পিচের আচরণ দেখে ভেবেছিলাম ম্যাচটি অন্তত চতুর্থ দিন পর্যন্ত গড়াবে। আমাদের প্রথম ইনিংস ১১০ রানে শেষ হওয়ার পর ম্যাচটা ঝুকে যায় শ্রীলঙ্কার দিকে এবং তৃতীয় দিন শেষে শ্রীলঙ্কার জয়টা ছিল শুধু সময়ের ব্যাপার। ৩৩৯ রান এমন পিচে আমরা যে তাড়া করতে পারবো না, সেটা প্রায় সবার বোঝা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এভাবে বিনা লড়াইয়ে এমন আত্মসমর্পণের দৃশ্য ছিল পীড়াদায়ক।
এমন একপেশে বোলিং সহায়ক পিচে দুই দলকেই ব্যাট করতে হয়েছে ভাগাভাগি করে। কিন্তু আমাদের ব্যাটসম্যানরা তাদের ব্যাটিং কৌশল ও ধৈর্য দিয়ে পিচে টিকে থাকার সংগ্রামে বড্ড পিছিয়ে গেলো। শ্রীলঙ্কার প্রথম সারির কয়েকজন ব্যাটসম্যান ব্যর্থ হলেও কুশল মেন্ডিসের সাহায্য নিয়ে নবাগত ব্যাটসম্যান রোশেন সিলভা দুই ইনিংসে একাই রুখে দিলেন বাংলাদেশের বোলারদের এবং সিরিজ জুড়ে তিনি থাকলেন অসাধারণ ফর্মে। আমাদের সব বোলারকে খেলার অভিজ্ঞতাকে সবচেয়ে ভালোভাবে তিনি সামাল দিয়েছেন ঢাকার পিচের দুই ইনিংসে। তাকে আউট করতে না পারার ব্যর্থতায় বরং আমাদের বোলাররাই হয়েছেন বিচলিত। শেষ সময় পর্যন্ত বল দেখে অবলীলায় তার ডিফেন্সিভ খেলা ছিল চোখ চেয়ে দেখার মতো। তার সঙ্গে বল হাতে এই টেস্টে অভিষিক্ত আকিলা ধনঞ্জয়া দ্বিতীয় ইনিংসের ৫টিসহ মোট ৮টি উইকেট তুলে নিয়ে এত বড় জয়ের ভূমিকায় দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পেছনে ফেলে ম্যাচ সেরা রোশেনের কাতারে স্থান করে নিয়েছেন।
বাংলাদেশের সিনিয়র ক্রিকেটাররা তাদের এত দিনের অভিজ্ঞতার ছিটেফোটাও এই টেস্টে দেখাতে পারেনি। মুশফিক, তামিম, মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল বা ইমরুলরা না পেরেছেন পিচে লম্বা সময় বিচরণ করতে; না পেরেছেন কোনও পার্টনারশিপ গড়তে। তাই বল হাতে তাইজুল, রাজ্জাক, মোস্তাফিজ ও মিরাজের প্রচেষ্টা কোনও ধরনের আলোর মুখ দেখলো না। লিটন দাস উইকেটের পেছনে চমৎকার তৎপরতা দেখালেও স্লিপ ক্যাচিংয়ের উল্লেখযোগ্য কোনও উন্নতি চোখে পড়েনি।
মোসাদ্দেকের জায়গায় সাব্বির রহমানের অন্তর্ভুক্তির উপযুক্ত জবাব পাওনা থাকলো নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে। এ ব্যাপারে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর বলিষ্ঠ ভূমিকা না দেখে কিছুটা হতাশ হয়েছি।
মিরপুরের পিচ এমন বানানোর দিক নির্দেশনা কে বা কারা দিয়েছেন সেটা জানার কৌতূহল রইলো। শ্রীলঙ্কার স্পিন শক্তিকে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি যেন দলকে দেশের মাটিতে হতে না হয়, তার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বোর্ডের।
কোনও পিচে বাউন্সের তারতম্য হলে অর্থাৎ বলের বাউন্সের উচ্চতা অনিশ্চিত হলে তাকে কেউ ভালো পিচ বলবে না। এই দোষে মিরপুরের পিচ ত্রিদেশীয় সিরিজে আংশিকভাবে ও একইভাবে এই টেস্টেও অভিযুক্ত। ভালো মানের পিচের জন্য এই পিচগুলোর মাটি ও বালির পরিমাণের যথাযথ পরীক্ষা করে জানা উচিত ভালো পিচ তৈরির জন্য বর্তমান পিচের মাটি আসলেই আদর্শ কিনা! এটা জানতে চাওয়া উচিত কিউরেটরের কাছে।
সাকিবের সঙ্গে বোলিং জুটি হিসাবে তাইজুলই এগিয়ে থাকবেন। আকস্মিক চাহিদা মেটাতে এসে রাজ্জাক ভালোই বল করেছেন, তবে এমন ফলাফলের কারণে সম্ভবত আনুষ্ঠানিকভাবে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে পারলেন না তিনি।
দীর্ঘদিন পর অনিয়মিত রাজ্জাক যে নৈপুণ্য দলকে উপহার দিলেন, সেটা যদি দলের নিয়মিত কয়েকজন ব্যাটসম্যান করতে পারতেন তবে হয়তো তার জন্য মাথা উঁচু করে ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর একটা উপলক্ষ হলেও হতে পারতো।