স্বপ্নের সূচনা বলতে যা বোঝায়, তাই পায় রংপুর। আর দুঃস্বপ্নে শুরু হয় বরিশালের। ইনিংসের প্রথম বলেই লেগ সাইডে ফ্লিক করতে গিয়ে শাহজাদের গ্ল্যাভসে বল জমা দিলেন দিলশান মুনাবিরা। আফগান উইকেটরক্ষক শাহজাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে বরিশাল। কারণ এ ক্যাচের পরেই বিদ্যুৎ গতির গ্ল্যাভস ওয়ার্ক বলতে যা বোঝায়, এমন এক স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে তিনি ফিরিয়ে দেন শাহরিয়ার নাফীসকে। দুর্দান্ত ফর্মে নাফীস গত ম্যাচগুলোতে দলের জয়ে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ৯ বলে ১১ রান করেন নাফীস। এরপর আবার আঘাত হানেন শাহজাদ। এবার লিয়াম ডসনের বলে আরেকটি বিদ্যুৎ গতির স্টাম্পিংয়ে তিনি ফিরিয়ে দেন বরিশালের মূল স্তম্ভ মুশফিকুর রহিমকে। ৮ রানে যবনিকা হয় বরিশালের অধিনায়কের ইনিংসটির। বরিশালের আকাশে তখন ঘোর অমানিশা। সে অমানিশা আর কাটেনি।
তবে আশা জিইয়ে রাখেন নাদিফ চৌধুরী। একপ্রান্তে যখন পড়ছে একের পর এক উইকেট, তখন নাদিফ খেলেন ২৫ বলে তিনটি ছক্কায় ৪১ রানের ইনিংস। শেষ দুই ওভারে বরিশালের প্রয়োজন ছিল ২৯ রান। ক্রিজে ছিলেন থিসারা পেরেরা ও রায়ান এমরিট। ১৯তম ওভারটি করেন রুবেল হোসেন, তৃতীয় বলে তিনি বোল্ড করেন এমরিটকে। চার বলে ৯ রান করে রংপুরের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছিলেন এমরিট। রুবেল এর পরের বলেই জিয়াউল রহমানের হাতে ক্যাচ বানিয়ে আবু হায়দার রনিকে সাজঘরে ফেরান। এই ওভারে ৯ রান হয়।
শেষ ওভারে বরিশালের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০ রান। বোলার ছিলেন সোহাগ গাজী, আবারও শাহজাদের কিপিং নৈপূন্য। প্রথম বলে কমরুল ইসলাম রাব্বি রান আউট, এক বল পরে তাইজুল ইসলামকে স্টাম্পড করে বিদায় দেন শাহজাদ। পরের বলে আল আমিন রান আউট। দুই বল বাকি থাকতে ১৬৩ রানে অলআউট বরিশাল। চমৎকার এক জয় উদযাপন করা শুরু করলো রংপুর রাইডার্স।
এর আগে মোহাম্মদ মিথুনের হাফসেঞ্চুরি ও লিয়াম ডসনের ৪৬ রানের ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৭৫ রান করে রংপুর রাইডার্স। টসে জিতে বরিশাল অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বল হাতে তুলে নিয়েছিলেন। আশায় ছিলেন প্রতিপক্ষকে কম রানে বেঁধে ফেলার। তার সে প্রত্যাশা প্রাথমিকভাবে বাস্তবায়িতও হয়েছিল; কারণ রংপুরের দুই ওপেনার শাহজাদ ও সৌম্য সরকার উভয়েই ১৪ রান করে বিদায় নেন।
সৌম্যর বিদায়ে বোলার তাইজুল ইসলামের চেয়ে অধিনায়ক মুশফিকের কৃতিত্বই বেশি। টার্নে পরাস্ত সৌম্যর পা ছিল লাইনের উপরে, পা লাইন অতিক্রম করেনি। স্টাম্পড করার পর থার্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে আঙুল তোলেন ফিল্ড আম্পায়ার। মো. শাহজাদ ব্যাকফুটে স্কয়ার কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে শাহরিয়ার নাফিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফির যান। কিন্তু মুশফিকের পরবর্তী সব পরিকল্পনা নষ্ট করে দেন মিথুন ও লিয়াম ডসন। বিশেষ করে মিথুন ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে শাহজাদের সঙ্গে ২৫ ও তৃতীয় উইকেট জুটিতে ডসনের সঙ্গে ৭৪ রান করার পর আউট হন মিথুন। তবে এর আগে দলের ভাণ্ডারে দিয়ে যান ছয়টি চার ও দুটি ছক্কায় সাজানো ৪৪ বলে ৬২ রানের চমৎকার ইনিংস।
তবে মিথুনের বিদায়ের কোনও প্রভাব পড়তে দেননি শহীদ আফ্রিদি। নিজের খেলা চতুর্থ বলে থিসারা পেরেরাকে পুল করে মিডউউকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে আফ্রিদি ইঙ্গিত দেন আজ বলে ব্যাটে হচ্ছে তার। ১০ বলে ২টি ছক্কা ও একটি চারে ২২ রান করে রানের চাকায় দেন বাড়তি গতি। তবে শ্রীলঙ্কান কম্বিনেশনে বিদায় নিতে হয় তাকে। থিসারা পেরেরার স্লোয়ার ডেলিভারিতে মিসটাইমিংয়ে তিনি কাভারে দিলশান মুনাবিরার হাতে ক্যাচ দেন। মাঠে বরিশাল বুলসের তৃতীয় শ্রীলঙ্কান সদস্য ছিলেন জীবন মেন্ডিস।
লিয়াম ডসন খেলেন ৩৬ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ৪৬ রানের ইনিংস। সাচিত্রা সেনানায়েকে সাত, জিয়াউর রহমান ও সোহাগ গাজী ২ রানে অপরাজিত ছিলেন।
/আরএম/কেআর/