চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় রংপুর। কুমিল্লার লাগাম তারা টেনে ধরতে সফল হয়, মাত্র ১২২ রানে প্রতিপক্ষকে আটকে দেয়। যদিও কুমিল্লা হারায় মাত্র ৫ উইকেট।
মাঝারি লক্ষ্য পেয়ে শক্ত জবাব দিতে সময় নেয়নি রংপুর। ওপেনার সৌম্য সরকার (২২) দলীয় ২৯ রানে সাজঘরে ফেরেন। আর কোনও ব্যাটসম্যানকে ক্রিজ ছাড়া হতে হয়নি। মোহাম্মদ মিথুনকে নিয়ে মোহাম্মদ শাহজাদ অপরাজিত ৯৭ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে নেন। চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ৮০ রান করা আফগান ব্যাটসম্যান তিন ম্যাচ পর আবার নিজেকে ফিরে পেলেন। ৪৯ বলে দুইটি চার ও তিনটি ছয়ে ৫১ রানে অপরাজিত ছিলেন শাহজাদ। ১৭তম ওভারের শেষ বলে তার ব্যাটেই এসেছে জয়সূচক ছক্কাটি। অপর প্রান্তে ৩৯ বলে এক চার ও তিন ছয়ে ৪৫ রানে খেলছিলেন মিথুন। মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান করে রংপুর।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কুমিল্লার যে উদ্বোধনী ভিত্তি প্রয়োজন ছিল তা দলকে দিতে পারেননি লিটন কুমার দাস ও ইমরুল কায়েস। ছয় রানে বিচ্ছিন্ন হন তারা। সোহাগ গাজীর টার্নে পরাস্ত হয়ে এলবিডব্লিউ হন ইমরুল (৫)। লিটন কিছুক্ষণ পরেই ধরেন সাজঘরের পথ। আহমেদ শেহজাদের সঙ্গে ক্ষণিকের ভুল বোঝাবুঝিতে লিটন (৪) আর নিজের ক্রিজে ফিরতে পারেননি। দলীয় ২১ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপদে পড়ে কুমিল্লা।
ক্রিজে জুটি বাঁধেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান শেহজাদ ও মারলন স্যামুয়েলস। নিয়ন্ত্রিত ছিল শেহজাদের পথচলা। মারার বল মেরে আর বাড়তি কোনও ঝুঁকি না নিয়ে তিনি ৪৬ বলে পূর্ণ করেন তার ফিফটি। রুবেল হোসেনকে পুল করে ছক্কা মেরে তিনি তার অর্ধশত রানের দেখা পান। তবে এরপরেই তার মনোসংযোগে ঘাটতি দেখা দেয়। ১৭ ওভারের দ্বিতীয় বলে তিনি ‘অল পাকিস্তানি কম্বিনেশনে’ বিদায় নেন। বোলার ছিলেন স্বদেশি আনোয়ার আলী আর কাভারে ক্যাচটি লুফে নেন শহীদ আফ্রিদি। এর আগে ৪৫ বলে একটি ছক্কা ও চারটি চারে ৫২ রান দলকে দিয়ে যান শেহজাদ।
শেহজাদের বিদাযের পর দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই পড়ে স্যামুয়েলসের কাঁধে। ঠিক সময়ে তিনি বাড়িয়ে দেন তার ব্যাটের গতি। তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় ৪৫ বলে ৫২ রানে এক বল বাকি থাকতে রুবেলের বলে কট বিহাইন্ড হন স্যামুয়েলস। শেষ বলে সোহেল তানভিরকেও শাহজাদের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন রুবেল। এরপরেই ১২২ রানে থেমে যায় কুমিল্লা। রংপুরের পক্ষে সর্বেোচ্চ ২ উইকেট নেন রুবেল।
/আরএম/এফএইচএম/