আট নম্বর ম্যাচে এসে যোগ্য অধিনায়কের পরিচয় দিয়ে রান করলেন ড্যারেন স্যামি। দল যখন একের পর এক উইকেট হারিয়ে হতাশায় ডুবছিল তখন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস খেলে রাজশাহী কিংসকে এনে দিলেন ১৫৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ। আর দেড়শতাধিক রানের লক্ষ্যে নেমে সুবিধা করতে পারেনি খুলনা। রাজশাহীর কাছে ৯ রানে হেরে গেল তারা। ৬ উইকেটে ১৪৫ রানে থামে খুলনার ইনিংস।
৯ ম্যাচে তৃতীয় হারের পরও ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকল মাহমুদউল্লাহর খুলনা। আর ৮ ম্যাচে চতুর্থ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে সেরা চারে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল রাজশাহী। চার নম্বরে থাকা চিটাগং ভাইকিংসের সমান পয়েন্ট পেলেও নেট রান রেটে এখন পিছিয়ে তারা পাঁচ নম্বরেই।
লক্ষ্যে নেমে কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুই ব্যাটসম্যানকে হারায় খুলনা, ১৫ রানের মধ্যে হাসানুজ্জামান (১) ও শুভাগত হোম (২) সাজঘরে ফেরত যান। তবে হাল ধরেন খুলনা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। রিকি ওয়েসেলস (৩৬) ও নিকোলাস পুরানের (২৮) সঙ্গে ৪৭ ও ৩৯ রানের দুটি শক্ত জুটি গড়েন তিনি। মেহেদি হাসান মিরাজকে পরপর দুই ছক্কা মেরে গ্যালারি মাতিয়ে পরের বলে আউট হন পুরান, ত্রিনিদাদের এই ব্যাটসম্যানের ইনিংস ১২ বলে সাজানো। রয়েছে ১টি চার ও তিনটি ছক্কার মার। পুরান সাজঘরে ফেরার পরের ওভারেই তার পথ অনুসরণ করেন মাহমুদউল্লাহ। ৩৩ বলে ৩৩ রান করে আবুল হাসানের বলে বোল্ড হন তিনি। কার্যত এখানেই সমাধি হয়ে যায় খুলনার জয়ের স্বপ্ন। তখন দল ৫ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্য থেকে ৪৮ রান (৩২ বলে) দূরে ছিল।
অধিনায়ক ক্রিজছাড়া হওয়ার পর কেভন কুপার (১৪) ও আরিফুল হকের (২৫*) ব্যাটে রানের গতি ছিল না। কুপার আউট হলে ৩.৩ ওভারে তাদের গড়া ২২ রানের জুটি ভাঙে। কিন্তু শেষ ওভারে ১৯ রান দরকার হলে ফরহাদ রেজার শক্ত বোলিংয়ে মাত্র ৯ রান করতে সমর্থ হয় তারা।
এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নামলে কেমন খেলতে হয় সেটা দলের অন্য ব্যাটসম্যানরা দেখাতে না পারলেও নিজে করে দেখিয়েছেন স্যামি। ৫৪ বলে পাঁচটি ছয় ও চারটি চারে ৭১ রানের এক অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন তিনি। আর এই ইনিংসের উপর ভর করেই খুলনার বিপক্ষে আট উইকেটে হারিয়ে শক্ত এক পুঁজি গড়ে তোলে রাজশাহী।
কিন্তু শুরুটা তাদের হোঁচটে হয়। রাজশাহীর ব্যাটিং দুর্গে প্রথম আঘাতটি হানেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ওপেনার মমিনুল হককে ১২ রানে ফিরতি বলে তালুবন্দি করেন তিনি। আরেক ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিক মেরে খেলছিলেন। তাকে থামান পেসার শফিউল ইসলাম। ১৮ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ২১ রান করা জুনায়েদকে একটি আউটসুইংগারে কট বিহাইন্ড করেন শফিউল হঠাৎ থেমে যায় রাজশাহীর রানের চাকা।
এরপর বিদায় ঘণ্টা বাজে সাব্বির রহমানের। মোশাররফ রুবেলের মিডল স্ট্যাম্পে পড়া বল ড্রাইভ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন তিনি। সাব্বির খেলেন ১৮ বলে ১৬ রানের ব্যক্তিগত ইনিংস।
দলের ৩২ রানের ব্যবধানে ইংলিশ অলরাউন্ডার সামিত প্যাটেল (১৬) ও পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান উমর আকমল (৯) বিদায় নিলে নড়বড়ে হয়ে পড়ে রাজশাহী। প্যাটেল যাওয়ার এক বল পরই মেহেদি হাসান মিরাজ রানআউট, রাজশাহীর ৮৮ রানে নেই ৬ উইকেট। এরপর ফরহাদ রেজাকে নিয়ে সপ্তম উইকেট জুটিতে মাত্র ২.৩ ওভারে ২৮ রানের ছোটখাটো ঝোড়ো জুটি গড়েন স্যামি, যার মধ্যে ২৫ রানই করেছেন রাজশাহীর অধিনায়ক। ১৮তম ওভারের তৃতীয় বলে ফরহাদ রেজাকে ৩ রানে ফিরিয়ে রাজশাহীর সপ্তম উইকেট নেন শফিউল। তবে আবুল হাসানকে নিয়ে আরেকটু বড় ঝড় তোলেন স্যামি, এবার ২.৩ ওভারে ৩৮ রানের ঝোড়ো জুটি গড়েন তিনি।
মূলত শেষ দুই জুটিতে রাজশাহীকে অপ্রত্যাশিতভাবে দেড়শ’র ওপর রান এনে দেয়, যেখানে স্যামির অবদান ছিল চোখে পড়ার মতো।
/আরএম/এফএইচএম/