এনামুলের ব্যাটে বিজয়ের হাসি

Anamul Haq Bijoyঅস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ইনজুরির কারণে বাদ পড়েন এনামুল হক বিজয়। এনামুলের পারফরম্যান্সের চেয়ে ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিলো বেশি। দলের সিনিয়র এক ক্রিকেটারের অভিযোগ ছিলো, এনামুল 'নিঃস্বার্থভাবে' খেলেন না। কিছুটা 'ব্যক্তিগত স্বার্থ' নিয়েই মাঠে নামেন তিনি।

প্রিমিয়ার লিগ শুরুর আগে এনাম‌‌‌ুল বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, 'নিঃস্বার্থভাবে' খেলেন না বলে যে অভিযোগ উঠেছে এই টুর্নামেন্ট তা কাটিয়ে উঠবেন। এখন পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের তিনটি রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইতোমধ্যে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে তিন ম্যাচে খেলে এক সেঞ্চুরি ও এক হাফসেঞ্চুরিতে এনামুলের সংগ্রহ ২০৯ রান। যা কিনা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংগ্রহ।

সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্রিকেট কোচিং স্কুলের (সিসিএস) বিপক্ষে দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন তিনি। ৮৫ বলে ৪টি চার ও ৭টি ছয়ের সাহায্যে তিনি ১০০ রান করেন। 

সোমবার তার এই ইনিংসটি মাঠে বসে দেখেছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। সাংবাদিকদের সঙ্গে বক্সে বসে খেলা দেখতে থাকা মাশরাফি; এনামুলের সেঞ্চুরির পর হাততালি দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

জাতীয় দলের অধিনায়কের অভিনন্দনে সিক্ত হয়ে এনামুল সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘মাশরাফি ভাই সবসময় ইন্সপায়ারিং। যত মানুষই আসুক ভবিষ্যতে ওনাকে সবাই স্যালুট করবেই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ফিফটির পরে তিনি যখন তালি দিলেন তখন ভালো লেগেছে।’

ওয়ানডে ক্রিকেটে এনামুল সর্বশেষ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেন্ট জর্জিয়াতে। এরপর বিশ্বকাপে ইনজুরির কারণে বাদ হওয়ার পর চলতি বছর আর কোনও পর্যায়ের ওয়ানডে খেলা হয়নি। তবে ২২ এপ্রিল শুরু হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ দিয়ে ওয়ানডে ফরম্যাটের ক্রিকেটে ফিরেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের পর সেঞ্চুরি করলাম। ২০১৫’র পর ওয়ানডেতে সুযোগ পাইনি। গতবারের প্রিমিয়ার লিগে দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছি। প্রথম ম্যাচে ১০০ আর শেষ ম্যাচে রুপগঞ্জের বিপক্ষে ১৫০। আজ সেঞ্চুরি করে ভালো লাগছে।’

ব্যাট থেকে বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি নিয়মিত আসলেও সিঙ্গেল নিতে কিছুটা কাপর্ণ্য করেন এনামুল। তবে বিষয়টি নিয়ে এনামুল বলেন, ‘সত্যি বলতে প্রায় ১ বছর পর আমি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছি। এক বছর পর কতটুকু উন্নতি করতে পারলাম আর না পারলাম তা নিয়ে পর্যালোচনা করছি।’

তৃতীয় ম্যাচে এসে সেঞ্চুরি বিষয়টি কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেঞ্চুরি সবার জন্যই একটি স্বপ্নের সংখ্যা। আর সেঞ্চুরির মাধ্যমে যখন দল জিতে তখন অবশ্যই ভালো একটি অর্জন। সেঞ্চুরি হচ্ছে, ফিফটি হচ্ছে, ব্যাটে বল আসছে, প্র্যাকটিস অনুযায়ী ফল পাচ্ছি অবশ্যই ভালো লাগার মত বিষয়।’

/আরআই/এমআর/