এ জয়ে টিকে রইলো সানরাইজার্সের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন। অন্যদিকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল কলকাতা। আগামী শুক্রবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গুজরাটের মুখোমুখি হবে সানরাইজার্স। ওই ম্যাচে জয়ী দল বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ফাইনাল খেলবে।
এদিন ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়েছেন মুস্তাফিজ। কোনও উইকেট পাননি। ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার। দুটি উইকেট নিয়েছেন ময়েস হেনরিকস।
স্লগ ওভারের দিকে কেন মুস্তাফিজ সেরা বোলার, এদিন আবারও তার প্রমাণ দিলেন তিনি। শেষ চার ওভারে কলকাতার প্রয়োজন দাঁড়ায় ৪৭ রান। ১৭তম ওভারটি করতে আসেন মুস্তাফিজ। ওই ওভারে প্রথম ৫টি ডেলিভারি ছিল দুর্দান্ত। ফিজের দুরন্ত ইয়র্কারে কোনও জবাব দিতে পারেননি কলকাতার দুই ব্যাটসম্যান মণীশ পান্ডে ও রাজগোপাল সতীশ। তবে শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকান মণীশ। ওই ওভারে ৮ রান দেন মুস্তাফিজ।
১৮ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মণীশকে ফেরান ভুবনেশ্বর কুমার। ওই ওভারে ৬ রান দেন ভুবনেশ্বর। শেষ দুই ওভারে কলকাতার প্রয়োজন ৩৩ রান। ১৯তম ওভারে বল করতে আসেন দ্য ফিজ। প্রথম বলটি তুলে মেরেছিলেন রাজগোপাল সতীশ। তবে বলটি গিয়ে পড়ে নো ম্যানস ল্যান্ডে। দ্বিতীয় বলটি ডট। পরের বলটিও ডট আদায় করেন মুস্তাফিজ। চতুর্থ বলে ৪ মারেন জেসন হোল্ডার। পরের বলটি আবারও ইয়র্কার। কোনওমতে ঠেকিয়ে দিয়ে একটি রান নেন হোল্ডার। শেষ বলটিও ইয়ার্কার দেন মুস্তাফিজ। ১৯তম ওভারে তিনি দেন ৮ রান। শেষ ওভারে কলকাতার প্রয়োজন দাঁড়ায় ২৫ রান। ওই ওভারে মাত্র ২ রান দিয়ে দুটি উইকেট তুলে নেন ভুবনেশ্বর কুমার।
দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় টসে হেরে ব্যাট করতে নামে সানরাইজার্স। শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি হায়দরাবাদের। দলীয় ১২ রানে মরনে মরকেলের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান শিখর ধাওয়ান (১০)। এরপর ময়েস হেনরিকসকে নিয়ে ৫৯ রানের জুটি গড়েন ডেভিড ওয়ার্নার। দশম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন কুলদীপ যাদব। একে একে ফিরিয়ে দেন হেনরিকস ও ওয়ার্নারকে। ২১ বলে ৩১ রান করে ফিরে যান হেনরিকস। ২৮ বলে ২৮ রান করে আউট হন ওয়ার্নার।
এরপর দীপক হুদাকে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন যুবরাজ সিং। দলীয় ১২০ রানের মাথায় দুর্ভাগ্যজনক রানআউটের শিকার হন হুদা। ১৩ বলে ২১ রান করেন তিনি। আউট হওয়ার আগে যুবরাজের সঙ্গে ৬ ওভারে ৪৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। এরপর কোনও রান না করে ফিরে যান বেন কাটিং। ১২৪ রানে ৫ উইকেট হারিয় ফেলে সানরাইজার্স।
তবে একপ্রান্তে রানের চাকা সচল রাখে যুবরাজ সিং। ৩০ বলে ৪৪ রান করে আউটন হন যুবরাজ। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬২ রান সংগ্রহ করে সানরাইজার্স। ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন কুলদীপ যাদব। ২টি উইকেট নেন জেসন হোল্ডার। একটি উইকেট নিয়েছেন মরকেল।
১৬৩ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে হোঁচট খায় কলকাতাও। দলীয় ১৫ রানে বরিন্দ্রর স্রানের বলে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফেরেন রবি উত্থাপা (৭ বলে ১১ রান)। এরপর কলিন মুনরোকে নিয়ে ৩৮ রানের জুটি গড়েন গম্ভীর। ১৭ বলে ১৬ রান করে যুবরাজের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন মুনরো। দলীয় ৬৩ রানে গম্ভীরকে ফেরান বেন কাটিং। ২৭ বলে ২৮ রান করে সাজঘরে ফিরে যান কলকাতার অধিনায়ক।
বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি হার্ডহিটার ইউসুফ পাঠানও। ৬ বলে মাত্র ২ রান করে ফিরে যান তিনি। ৬৯ রানে চার উইকেট হারিয়ে ফেলে কলকাতা। ১৫ বলে ২৩ রান করে ফিরে যান সূর্যকুমার যাদব। আউট হওয়ার আগে মণীশ পান্ডের সঙ্গে ৫ ওভারে ৪৬ রানের দারুণ জুটি গড়ে তোলেন তিনি। শেষ দিকে আর কোনও ব্যাটসম্যান দাঁড়াতে না পারায় ম্যাচ হেরে আইপিএল-এর এবারের আসর থেকে ছিটকে যায় কলকাতা।
/এমআর/