জিতেও শিরোপা উৎসবের অপেক্ষায় আবাহনী!

ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে দুর্দান্ত জয়ের পরেও শিরোপাভাগ্য ঝুলে রইলো ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনীর! ম্যাচ জেতার পরও শিরোপা উল্লাস করতে পারেনি দলটি। কেননা গত ১২ জুন আবাহনী ও প্রাইম দোলেশ্বরের একটি ম্যাচ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি বিসিবি!
সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানালেন সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে। সেই হিসেবে ১২ জুনের ম্যাচটি যদি পুনরায় অনুষ্ঠিত হয়। সেক্ষেত্রে দোলেশ্বরের বিপক্ষে শেষ ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে আবাহনীর শিরোপা ভাগ্য।

সমান ম্যাচ খেলে আবাহনীয় পয়েন্ট সংখ্যা ২২। অন্যদিকে দোলেশ্বরের পয়েন্ট সংখ্যা ২০। শেষ ম্যাচে দোলেশ্বর যদি বড় ব্যবধানে জয় লাভ করে সেক্ষেত্রে শিরোপাটা প্রাইম দোলেশ্বরেরই থাকছে!

বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সুপার লিগের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ১১৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে আবাহনী। এ জয়ে ১৫ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে শীর্ষে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী দলটি।

 আবাহনীর দেওয়া ৩১৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ সূচনা পায় প্রাইম ব্যাংক। উদ্বোধনী জুটিতে ৭২ রান সংগ্রহ করে মেহেদী মারুফ ও উম্মুখ চাঁদ। এরপর জনি তালুকদারের সঙ্গে ৪৩ রানের আরও জুটি গড়েন মারুফ। তবে দলীয় ১১৫ রানে জনির বিদায়ের পর সাকলাইন সজীবের ঘূর্ণিতে আশা যাওয়ার মিছিলে নামে প্রাইম ব্যাংকের ব্যাটসম্যানরা।

৫৮ রানের বিনিময়ে ৭টি উইকেট তুলে নিয়ে প্রাইম ব্যাংকের ব্যাটিং লাইন আপে ধস নামান বাঁহাতি স্পিনার সাকলাইন সজিব। ৫৮ রান খরচ করে এদিন তিনি তুলে নেন ৭টি উইকেট। যা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে দ্বিতীয় সেরা সাফল্য।

তার বোলিং তোপে ৩৭.২ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২০১ রান সংগ্রহ করে প্রাইম ব্যাংক। নাজমুল হোসেন ইনজুরির কারণে ব্যাটিং করতে না পারলে সেখানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস।

 প্রাইম ব্যাংকের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন মেহেদী মারুফ। ৮২ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে এই রান করেন তিনি। এছাড়া সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৩ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৫১ রান করেন শুভাগত হোম।

 এর আগে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে আবাহনী রানের পাহাড় তোলে। নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩১৬ রান সংগ্রহ করে তারা। লিটন দাস শুরুতে ফিরে গেলেও এক প্রান্তে অবিচল ছিলেন তামিম। এদিন তিনি চলতি লিগের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ করেন। নাজমুল হোসেন শান্ত, দীনেশ কার্তিক ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়ে জুটি গড়েন। শান্তর সঙ্গে ৪৯, কার্তিকের সঙ্গে ৪৭ করার পর মোসাদ্দেকের সঙ্গে ১৭৩ রানের বড় জুটি গড়েন বাঁহাতি এই ওপেনার। তামিম ১৩২ বলে ১১ চার ও ৪ ছয়ে তার ১৪২ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন।

 এছাড়া ৭৪ বলে ৭টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ৭৮ রান করেন মোসদ্দেক হোসেন সৈকত।

 প্রাইম ব্যাংকের বোলারদের মধ্যে ৫৯ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট নেন উম্মুখ চাঁদ। এছাড়া রুবেল হোসেন ও নাজমুল হোসেন প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।

/আরআই/এফআইআর/