মিসবাহ-উল-হকের অপরাজিত শতকে লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৮২ রান সংগ্রহ করেছিল পাকিস্তান। দ্বিতীয় দিন ১১০ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামেন মিসবাহ। সঙ্গে নামেন সরফরাজ আহমেদ। তবে বেশিদূর যেতে পারেনি মিসবাহ। আগের দিনের সঙ্গে ৪ রান যোগ করে ব্যক্তিগত ১১৪ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ফলে প্রথম ইনিংসে ৩৩৯ অলআউট পাকিস্তান। মিসবাহ'র শতকের পর লর্ডসে আলো ছড়িয়েছেন ইংলিশ পেসার ক্রিস ওকস। ২৪ ওভার বোলিং করে ৭০ রান খরচায় ৬টি উইকেট নিয়েছেন তিনি।
প্রথম দিনের ২৮২ পুঁজি নিয়ে দ্বিতীয় দিন মাঠে নামে পাকিস্তান। এদিন সকালে ২৮ রানের জুটি গড়ে ওকসের বলে ফিরে যান সরফরাজ। কোনও রান না করে ফিরে যান ওয়াহাব রিয়াজও। আগের দিনের ১১০ রানের সঙ্গে মাত্র ৪ রান যোগ করে ব্রডের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন মিসবাহ (১১৪)। শেষ দিকে মোহাম্মদ আমির করেন ১২ রান। ১১ রানে অপরাজিত থাকেন ইয়াসির শাহ।
ইংলিশদের হয়ে ক্রিস ওকস একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট। তিনটি উইকেট নিয়েছেন স্টুয়ার্ট ব্রড। বাকি উইকেটটে নিয়েছেন অভিষিক্ত জ্যাক বল।
এর আগে প্রথম দিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইংলিশ পেসারদের তোপের মুখে পড়ে পাক ব্যাটিং লাইন আপ। মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই ৩ উইকেট হারায় তারা। মিডল অর্ডারের অভিজ্ঞ সেনানী ইউনিস খানের সাথে মিসবাহ বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেও সফল হননি। ইউনিস ফিরে যান ব্যক্তিগত ৩৩ রানে স্টুডার্ট ব্রডের বলে মইন আলিকে ক্যাচ দেন ইউনুস।
দিনের ৮৫তম ওভারে ফিরে যান আসাদ শফিক। ৭৩ রান করে ওকসের বলে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এরপর কোনও রান না করেই ফিরে যান রাহাত আলি। দিনের খেলা ওখানেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরি করে পাকিস্তানকে এগিয়ে নেন মিসবাহ।
১৫ বছরের ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ডের মাটিতে এই প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেছেন মিসবাহ-উল-হক। বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে খেলতে নেমেই সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। এর আগে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক হানিফ মোহাম্মদ ও জাভেদ মিয়াঁদাদ।
৪২ বছর ৪৭ দিন বয়সে খেলতে নামা মিসবাহ লর্ডস টেস্টে সেঞ্চুরি করা সবচেয়ে বয়স্ক সফরকারী অধিনায়কও। মিসবাহর চেয়ে বেশি বয়সে ইংল্যান্ডে টেস্টে ১০০ বা এর বেশি রান করা সফরকারী ক্রিকেটার আছেন আর একজন- ওয়ারেন ব্র্যাডসলি। প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান ১৯২৬ সালে ৪৩ বছর ২০২ দিন বয়সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টেই করেছিলেন অপরাজিত ১৯৩ রান।
/এমআর/