গত ২২ জুন শেষ হয় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ২০১৫-১৬ মৌসুম। ব্রাদার্স সুপার লিগে উঠতে না পারায় তাদের লিগ শেষ হয় ৯ জুন। নিয়ম অনুযায়ী লিগের শুরুতে চুক্তির ৩০ শতাংশ এবং সুপার লিগের শুরুতে ৩০ শতাংশ আর লিগ শেষ হওয়ার ৬ সপ্তাহের মধ্যে বাকি ৪০ শতাংশ বুঝে পাবেন ক্রিকেটাররা। অথচ ব্রাদার্স কর্মকর্তারা এখনও দ্বিতীয় ধাপের টাকাই পরিশোধ করেননি। ফলে ক্লাবের কাছে খেলোয়াড়দের বকেয়া মোট অর্থের ৭০ শতাংশ।
লিগ শেষে ৬ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বকেয়া বুঝে না পাওয়ায় হতাশা ঝরেছে ক্রিকেটারদের কণ্ঠে। এ ব্যাপারে ব্রাদার্সের ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফীস বলেন, ‘যেখানে এই সময়ের মধ্যে আমাদের শতভাগ পেমেন্ট পাওয়ার কথা। আমরা পেয়েছি মাত্র ৩০ ভাগ। এখন পর্যন্ত আমরা দ্বিতীয় ধাপের পাওনা পাইনি, তৃতীয় ধাপতো পরের ব্যাপার। আমরা প্লেয়াররা সবাই এক হয়ে ব্যাপারটা সিইওকে জানালাম। কারণ এই বছর বিসিবি এ ব্যাপারে অনেক কঠোর ছিল। তারা আমাদের কথা দিয়েছিল কোনও কারণে ক্লাব বকেয়া পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে বিসিবি এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ঈদের আগে বিসিবি পদক্ষেপ নিয়ে দুটি ক্লাবের বকেয়া পরিশোধ করে দিয়েছে। আমাদের যেহেতু ৭০ ভাগ পেমেন্ট বাকি এবং প্রায় শতভাগ পেমেন্ট দেওয়ার ডেডলাইন শেষ। তাই এই ব্যাপারটাই আমরা সবাই এক সঙ্গে বিসিবির কাছে তুলে ধরেছি।’
ক্লাব কর্তৃপক্ষের বক্তব্যটা কী জানতে চাইলে শাহরিয়ার নাফিস বলেন, ‘এই মুহূর্তে আসলে ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনও কথাই পাওয়া যাচ্ছে না। রোজার ঈদের আগে তারা আশ্বাস দিয়েছিলেন, ঈদের পর তারা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন। কিন্তু ঈদ শেষ হয়েছে অনেক দিন হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কিছু জানা সম্ভব হয়নি।’
এ ব্যাপারে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দীন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘ব্রাদার্সের ক্রিকেটাররা আজ এসেছিলেন আমাদের কাছে। পেমেন্ট নিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। আমরা কথা দিয়েছি ব্যবস্থা নেওয়ার। এর আগেও দুটি ক্লাবের সমস্যা আমরা সমাধান করেছি। এরপর ভিক্টোরিয়া ও আজকে ব্রাদার্সের সমস্যার কথা জানলাম। ক্লাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্যবস্থা নেবো।’
উল্লেখ্য, এর আগে বিসিবিতে একই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে রেখেছেন ভিক্টোরিয়ার ক্রিকেটাররা। তাদেরও আশ্বাস দিয়ে রেখেছে বিসিবি। ঈদের আগে ক্রিকেট কোচিং স্কুল (সিসিএস) ও কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমির বকেয়া পাওনা ক্রিকেট বোর্ডই পরিশোধ করে।
/আরআই/এফআইআর/