এদিকে প্রাইম দোলেশ্বরের বাঁহাতি স্পিনার রেজাউল করিম ও ক্রিকেট কোচিং স্কুলের পেসার সাইফ উদ্দিন আহমেদ সব বোলিং করার ছাড়পত্র পাননি। রেজাউল আর্ম বল এবং সাইফ উদ্দিন স্লোয়ার বল করতে পারবেন না বলে জানিয়েছে রিভিউ কমিটি। কেননা তাদের এই দুই ডেলিভারি অবৈধ।
বিসিএল দিয়ে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের মৌসুম শুরু হচ্ছে সামনে। বোলিং অ্যাকশনের বৈধতা পাওয়ায় এই ৫ ক্রিকেটারের খেলতে আর কোনও বাধা নেই। শুধুমাত্র সাইফ উদ্দিন ও রেজাউল করিমকে নির্দিষ্ট দুটি ডেলিভারি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। নতুন করে ২২ গজে বোলিং করার বৈধতা পাওয়ায় যারপরনাই খুশি তরুণ এই ক্রিকেটাররা।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ইনজুরির কারণে সবগুলো ম্যাচ খেলতে পারেননি ফেনী থেকে উঠে আসা ক্রিকেটার সাইফ উদ্দিন আহমেদ। এই আক্ষেপে আরও পুড়তে হতো সাইফ উদ্দিনের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিভিউ কমিটির রিপোর্টে তার স্লো ডেলিভারি ছাড়া অন্য ডেলিভারি গুলোতে আর কোনও ত্রুটি খুঁজে পায়নি জালাল ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি।
শুক্রবার বাংলা ট্রিবিউনকে সাইফ উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার আগে থেকেই সন্দেহ ছিল এই ডেলিভারিটার ব্যাপারে। আশা করি আস্তে আস্তে এই ডেলিভারিটাও শোধরাতে পারবো। এই মুহূর্তে নিশ্চিত লাগছে সামানে যেসকল ঘরোয়া টুর্নামেন্ট রয়েছে সেখানে অংশগ্রহণ করতে পারবো। এমনিতেই প্রিমিয়ার লিগ খেলতে না পারায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি। আশা করি নিজের ভুলগুলো সামনে সহজেই শোধরাতে পারবো।’
অপরদিকে গত বছর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এগারোতম যুব বিশ্বকাপে স্বাগতিক ছিল বাংলাদেশ। এই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন বাঁহাতি স্পিনার সঞ্জিত সাহা। কিন্তু যুব আসরেই আইসিসি তার বিরুদ্ধে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগ তোলে। এরপর থেকেই বোলিং অ্যাকশন শুদ্ধ করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। প্রিমিয়ার লিগের বেশকিছু ম্যাচ খেলে আবারও অবৈধ হন দিনাজপুরের এই ক্রিকেটার। অবশেষে বিসিবির গঠিত বোলিং রিভিউ কমিটির সামনে পরীক্ষা দিতে হয় তাকে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রায়ে বোলিং অ্যাকশনের শুদ্ধতা ফিরে পান সঞ্জিত।
এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কিছুটা দুশ্চিন্তাতো ছিলই। ক্রিকেট খেলার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে আমাকে। এমন একটি কারণে ক্রিকেট থেকে দূরে থাকা আমার জন্য বেশ কষ্টসাধ্য বটে। খবরটা শোনার পর থেকে বেশ ভালো লাগছে। সামনে শুদ্ধ অ্যাকশনে যত বেশি ভেরিয়েশন দেওয়া সম্ভব-সেভাবে অনুশীলন করে যাচ্ছি। আশা করি নতুন সঞ্জিতকে সবাই দেখতে পাবে।’
তিনি স্পিন বোলিংয়ে বৈধতা পেলেও মোহামেডানের বাঁহাতি স্পিনার ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স, কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের অফ স্পিনার শরিফউল্লাহ, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের অফ স্পিনার আসিফ আহমেদ রাতুল, আবাহনীর বাঁহাতি স্পিনার অমিতাভ কুমার নয়ন ও গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের অফ স্পিনার মুস্তাফিজুর রহমানকে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে তাদের অ্যাকশন শোধরানোর নির্দেশ দিয়েছে বিসিবি। তাদের সব অ্যাকশনই অবৈধ বলে রায় দিয়েছে বোলিং অ্যাকশন রিভিউ কমিটি।
এবার মূলত ৬টি টু ডি ক্যামেরা দিয়ে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা করে বোলিং রিভিউ কমিটি। এই পদ্ধতিতে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে। তারপরেও যতটা সম্ভব সূক্ষভাবে বোলাদের বোলিং অ্যাকশন দেখার চেষ্টা করেছে রিভিউ কমিটি।
উল্লেখ্য, গত ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগে ১১ জন বোলার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। মোট ১৮বার তারা আম্পায়ারদের চোখে ধরা পড়েন। বোলাদের ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করার অভিপ্রায়ে বিসিবি সাবেক ক্রিকেটারদের নিয়ে বোলিং অ্যাকশন রিভিউ কমিটি গঠন করে। জালাল ইউনুসকে প্রধান করে তিন সাবেক ক্রিকেটার দিপু রায় চৌধুরী, ওমর খালেদ রুমি ও গোলাম ফারুক সুরু রয়েছেন এই কমিটিতে।
গত ২০ জুলাই মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের ইনডোরে দুই বাঁহাতি স্পিনার নাঈম জুনিয়র ও অমিতকে দিয়ে শুরু হয় বোলিং অ্যাকশন রিভিউ কমিটির কাজ। এরপর আস্তে আস্তে বাকিদের পরীক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার রিভিউ কমিটি এই রায় ঘোষণা করে। এদের মধ্যে আরাফাত সানি অবৈধ অ্যাকশনের কারণে নিষিদ্ধ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকেও। তাকে নিয়ে জাতীয় দলের টিম ম্যানজম্যান্ট কাজ করছে। আগামী সেপ্টেম্বর তার পরীক্ষা দেওয়ার কথা রয়েছে।
/এফআইআর/