বৃহস্পতিবার এই উপলক্ষে ‘গাজী টায়ারস ক্রিকেট হান্ট’ শীর্ষক এক কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয় ঢাকার স্থানীয় এক হোটেলে। চট্টগ্রামে বাছাই প্রক্রিয়া দিয়ে শুরু হবে এই প্রতিভা অন্বেষণ প্রক্রিয়া। ১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়াম, ৪ সেপ্টেম্বর সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে, ৭ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠ, ১৭ সেপ্টেম্বর বরিশাল বিভাগীয় স্টেডিয়াম, ১৯ সেপ্টেম্বর খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম, ২২ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম, ২৫ সেপ্টেম্বর রংপুর বিভাগীয় স্টেডিয়াম এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সিটি ক্লাব মাঠে এই বাছাই প্রক্রিয়া চলবে।
এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগ্রহীরা বৃহস্পতিবার থেকেই অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন ফরম পাবে। রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন ফরম পাওয়া যাবে গাজী টায়ারস এর ফেসবুক পেইজ www.facebook.com/GaziTyresBD-এ। স্পট রেজিস্ট্রেশন বা তাৎক্ষণিকভাবে নিবন্ধন এর ব্যবস্থাও থাকছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে সেই সব তরুণ ক্রিকেটারদের বাছাই করা হবে যাদের বয়স ১৫ বছর বা তার বেশি এবং যারা এর আগে ঢাকায় কোন লিগ পর্যায়ে খেলেনি।
পুরো প্রক্রিয়াটি রিয়েলিটি শো আকারে গাজী টিভিতে সম্প্রচার করা হবে। আটটি বিভাগ থেকে প্রতিভাগুলো বাছাই করে প্রথমে গ্রুমিং করা হবে। কর্মসূচির আওতায় সারা দেশ থেকে ৬০-৮০ জন নতুন ক্রিকেটার বাছাই করে আনা হবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে তুলে আনা এসব নতুন ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ-নির্দেশনা দেবেন সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার এবং কোচরা। যা অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)।
এদের মধ্য থেকে চূড়ান্ত ভাবে ২০-২৫ জনকে নির্বাচনের পর তাদের প্রশিক্ষণ দিতে ও যোগ্য ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তুলতে ৪ বছরের একটি চুক্তির আওতায় নেওয়া হবে যেখানে তাদের ট্রেনিং এবং গ্রুমিং করানো হবে। এছাড়া তাদেরকে এক বছরের জন্য ‘গোলাম দস্তগীর গাজী ক্রিকেট স্কলারশিপ’ প্রদান করা হবে। এছাড়া ক্রিকেট কিট সেট উপহার দেওয়া হবে। জাতীয় দলের সাবেক ফিল্ডিং কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন নতুন ক্রিকেটারদের বাছাই করার দায়িত্ব নিয়োজিত থাকবেন।
বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির সহ-সভাপতি মাহবুব আনাম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী ও গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন, গাজী গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী গোলাম আসরিয়া, গাজী গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর এম সালাউদ্দিন চৌধুরী, গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের ডিরেক্টর অব কোচিং মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও জিটিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমান আশরাফ ফয়েজ।
সংবাদ সম্মেলনে গাজী গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী গোলাম আসরিয়া নিজের বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, দেশব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তরুণ মেধাবী ক্রিকেটারদের বাছাই করে এনে গড়ে তোলা এবং দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে খেলার চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মতো তৈরি করে দেওয়া।’
বিসিবির সহ-সভাপতি মাহবুব আনাম তার বক্তব্যে বলেন, ‘গাজী গ্রুপ বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছে। তাদেরকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমাদের একার পক্ষে আসলে সব সময় প্রতিভাগুলো খুঁজে বের করা সম্ভব হয় না। বিসিবি যেখানে কাজ করছে না, সেখানে গাজী গ্রুপ এখন থেকে কাজ করবে। যার ফলে কোনও প্রতিভা হারিয়ে যাবে না।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চোধুরী বলেন, ‘এটি হবে একটি হাইপারফরম্যান্স ক্যাম্প, যেখান থেকে আমাদের ভবিষ্যৎ টাইগাররা উঠে আসবে এবং দেশের গৌরবময় ক্রিকেটের পতাকা বহন করবে।’
কোচ সালাউদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা পরবর্তী সাকিব-তামিম-মাশরাফিদের দেখার অপেক্ষায় আছি। আমাদের প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আমরা এমন কিছু খেলোয়াড় বের করবো যারা আসলে স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করে। আমরা সাধারণ কোনও প্রতিভার পেছনে ছুটবো না। আমরা তাদের পেছনেই ছুটবো যাদের স্বপ্নটা আকাশ ছোঁয়া। ছেলেরা যদি স্বপ্ন দেখে, আর স্বপ্ন দেখানোর পথটা যদি আমরা ঠিক করে দিতে পারি তাহলেই আমাদের উদ্দেশ্য সফল হবে।’
/আরআই/এফআইআর/