ব্রিস্টলের ছায়া ফিরে এলো মিরপুরে

ব্রিস্টলে ইংল্যান্ডের উইকেট পতনের পর টাইগারদের উল্লাসসালটা ২০১০। বাংলাদেশ দলের দ্বিতীয়বারের মতো ইংল্যান্ড সফর, তাও আবার মাশরাফির নেতৃত্বে প্রথম সিরিজ। মাশরাফি ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো অধিনায়ক হওয়ার পর ওটাই ছিল প্রথম কোনও দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ। এই সফরেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম জয় আসে বাংলাদেশের। জুলাই মাসের দশ তারিখে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ব্রিস্টলের কাউন্টি গ্রাউন্ডে মুখোমুখি হয় দুই দল। অল্প পুঁজি সংগ্রহ করেও ম্যাচটিতে ৫ রানের জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

রবিবার যেন ব্রিস্টলের ছায়াই পড়ল মিরপুরে। ২০১০ সালের ম্যাচের সঙ্গে দারুণ সব কিছু মিল খুঁজে পাওয়া যায় মিরপুরে অনুষ্ঠিত আজকের ম্যাচটিতে। যদিও বাংলাদেশ ৫ রানে ম্যাচ জিতেনি; জিতেছে ৩৪ রানের ব্যবধানে।

সংখ্যার মিল ধরলে দুটি ম্যাচই ছিল সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে। কাকতালীয় ভাবে মাশরাফি দুই ম্যাচেই হয়েছিলেন রান আউটের শিকার। দুই ম্যাচের দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ে হাল ধরেছিলেন মাশরাফি। ওই ম্যাচে হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা( ২২ রান ও ২ উইকেট)। আজও পেলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। কারণ তিনিই যে জয়ের নায়ক। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের সমতা ফেরাতে তার ভূমিকাটাই ছিল বেশি। তাইতো (৪৪ ও ৪ উইকেট) নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার তার হাতে।

১০ জুলাই ব্রিস্টলে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শুধু সফল ছিলেন ইমরুল কায়েস। তার ৭৬ রানে যখন দল ভালো সংগ্রহ পায়নি, তখন ব্যাট হাতে হাল ধরেন মাশরাফি। খেলেন ২২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ ছিল ২৩৬ রান। যেখানে মাশরাফির ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

মিরপুরে একই রোল প্লে করেন মাশরাফি। রবিবার মিরপুরে একই রোল প্লে করেন মাশরাফি। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ৭৫ রানেও স্কোর বোর্ডে যখন দুইশো পেরুনোর শঙ্কা জাগছিল; তখন আবারও ত্রাতার ভূমিকাতে মাশরাফি। ইংলিশ বোলারদের পিটিয়ে খেলেন ৪৪ রানের ইনিংস। ৬ বছরের ব্যবধানে সেই রান হয়ে গেলো ডাবল (৪৪)! রিয়াদ-মাশরাফির ইনিংসে বাংলাদেশের আজ সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৩৮-এ। হতে পারতো ২৩৬-ই। নাসির যদি ক্রিস ওকসের শেষ ওভারে দুটি রান কম নিতেন! তবে সেটা না হলেও ব্রিস্টলের কিছুটা ছায়া পড়লো মিরপুরেও।

২০১০ সালে ব্রিস্টলে খেলা দলটার সঙ্গে মিরপুরে খেলা দলটায় আছেন ৬ জন। মাশরাফি ছাড়া সাকিব, তামিম, রিয়াদ, ইমরুল ও শফিউল। ওই দলের পারফরমারদের মধ্যে রবিবার পারফরম্যান্স করেছেন কেবল সাকিব-মাশরাফি-রিয়াদ।

আজকের মতো সেদিন বল হাতে সাকিব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। সেদিন ইংলিশদের চেপে ধরতে সাকিব ছিলেন মাশরাফির অন্যতম অস্ত্র। তরুণ সাকিব ওই ম্যাচে ১০ ওভার বোলিং করে ৪০ রান খরচায় পেয়েছিলেন দুটি উইকেট। মাশরাফিও কম যাননি। ১০ ওভার বোলিং করে ৪২ রান খরচায় নিয়েছেন দুটি উইকেট।

কাকতালীয় নয়; আজও মাশরাফি ভরসা রাখলেন সাকিবের ওপর। তাইতো ইনিংসের প্রথম ওভারটি করার দায়িত্ব বর্তায় সাকিবের ওপরই। সহ-অধিনায়ক সাকিবও অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন শুরুতেই। ৯ ওভার বোলিং করে ৫০ রান খরচায় সাকিব তুলে নিয়েছেন ডাকেটের উইকেটটি। শেষ দুই ওভারেই সাকিবকে ইংলিশ দুই টেল অ্যান্ডার তিনটি চার মারেন; তাতেই একটু বেশি খরচ হয় সাকিবের।

সবচেয়ে বেশি উজ্জল ছিলেন মাশরাফি। মাশরাফি এদিন ৭২ ইনিংস পর চার উইকেটের দেখা পেয়েছেন। সর্বশেষ ২০০৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে করাচিতে চার উইকেট পেয়েছিলেন। সবমিলিয়ে ৮.৪ ওভার বোলিং করে ২৯ রান খরচায় নিয়েছেন এই চারটি উইকেট।

রিয়াদ ২০১০ সালে ১০ জুলাই ২৪ রানে ইনিংস খেলেন। ছিলেন অপরাজিত। রবিবারতো তিনি তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ১৬তম হাফসেঞ্চুরি (৭৫)।

রবিবারের ম্যাচ নিয়ে এখন অবধি দুই দল ১৮টি ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে চারটি এবং ইংল্যান্ড জিতেছে ১৪টি ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে ২১ রানে পরাজিত হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৪ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ এখন ১-১ সমতা। আগামী ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি।

/এফআইআর/