আগামী বছরের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত মুশফিক

mushfiqur-rahim-says-india-test-50-50১০ নভেম্বর। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ১৬ বছর পূর্তি হলো। এই সময়ে বাংলাদেশ ৯৫টি টেস্ট খেলেছে। যার মধ্যে ৭২টি ম্যাচে হেরেছে। বাকি ১৫টি ম্যাচে ড্র করতে পারলেও জিতেছে মাত্র ৮টি ম্যাচে। সর্বশেষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষে আগামী বছরগুলোতে নতুন কিছু করার ইঙ্গিত দিয়ে রাখলো বাংলাদেশ। বিদেশের মাটিতে নতুন চ্যালেঞ্জে জিতবেন বলে আশা রাখছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিক।

বুহস্পতিবার ১৬ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তারই চুম্বক অংশ বাংলা ট্রিবিউন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো :-

আজ টেস্ট ক্রিকেটের ১৬ বছর পূর্তি, সময়গুলো কেমন ছিল? সামনে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জটা কেমন?

মুশফিকুর রহিম : বাংলাদেশ দল অবশ্যই আরও ভালো অবস্থায় থাকতে পারতো। আমরা যদি ২-১ বছর পরপর একটা করে টেস্ট খেলি, নিয়মিত সাফল্য পাওয়া খুব কঠিন। সর্বশেষ সিরিজটাতে আমরা যে পারফরম্যান্স করেছি; আশা করি ভবিষ্যতে অন্তত টেস্ট ম্যাচে কিছুটা বেশি খেলার সুযোগ মিলবে। সেখানে যদি আমরা ভলো পারফরম্যান্স করতে পারি বাংলাদেশ টিম আরও এগিয়ে যাবে। আগের থেকে আমার মনে হয় একটাই পার্থক্য যে বাংলাদেশ দলে এখন পারফরমারের সংখ্যা বেড়েছে। যা আপনারা টেস্টেও দেখেছেন, অনেকে পারফরম করেছে। এটা একটা ভালো দিক। আমরা যদি নিয়মিত টেস্ট খেলতে পারি, আশা করি দুই এক বছরের মধ্যে ভালো অবস্থানে যেতে পারব। আমাদের বেশি গুরুত্ব থাকবে, আমরা ঘরের মাটিতে যেমন ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলেছি; তেমন করে যেন বাইরেও ভাল খেলতে পারি। আগামী বছর আমাদের ৯ থেকে ১০টা টেস্ট আছে যার মধ্যে বিদেশেই অধিকাংশ। আপাতত লক্ষ্য আছে সেটাই এবং সেই ধারাবাহিকতাটাই যেন বজায় থাকে।

শক্তিমত্তার বিষয়টি চিন্তা করে ইংল্যান্ড সিরিজ খেলেছেন? বিষয়টি আরও আগে থেকে চিন্তা করলে ভাল হতো কিনা...

মুশফিকুর রহিম : এটা বেশ কঠিন প্রশ্ন। আসলে আগে তো আপনার শক্তিমত্তাটা কোথায়, সেটা বুঝতে হবে। দলের মূল শক্তি না জেনে আগে ভাগে কোনকিছু পরিকল্পনা করে প্রস্তুত হওয়া কঠিন। আবার প্রতিপক্ষকে নিয়েও ভাবতে হবে। এটা যদি উপমহাদেশের কোনও দল হয়, ওদেরও বিশ্বমানের কিছু স্পিনার থাকবে এবং নিজেদেরও সামলাতে হবে তাদের। সার্বিকভাবে একটা পরিকল্পনার অবশ্যই ব্যাপার আছে। আমার মনে হয় এখনও দেরি হয়ে যায়নি, বরং ভাল সময়েই শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ টিম ভালো খেলছে।

এই ১৬ বছরে ২০১৭ সাল কি কোনও লক্ষ্য স্থির করার সুযোগ?

মুশফিকুর রহিম : অবশ্যই। আপনি যত বেশি টেস্ট খেলবেন ততবেশি ভালো করার সুযোগ থাকে। সেদিক থেকে বলব গত ১০-১৫ বছর বাংলাদেশ তেমন বেশি টেস্ট খেলেনি যার কারণে দক্ষতাসম্পন্ন যে সব খেলোয়াড় আছে তাদের পারফরম করার সুযোগ কম ছিল। যেমন দেখেন আমাদের মমিনুল কিন্তু শুধু এই একটাই ফরম্যাটে খেলে। এটা অনেক কঠিন। প্রায় এক-দেড় বছর পর এমন করে এসে টেস্ট খেলা তার জন্য অনেক কঠিন। ২০১৭ সালটা অবশ্যই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। কারণ আর কোনও বছরে আমরা হয়তো ৯-১০টা টেস্ট খেলিনি। এটাও আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। আমরা আশা করব এই চ্যালেঞ্জটা ভালোভাবে উতরাতে।

এখন টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে এই ১৬ বছর পর দলটাকে দেখে আপনার সন্তুষ্টির জায়গা কোথায়?

মুশফিকুর রহিম : গত কয়েক বছর ধরেই আমি অধিনায়কত্ব করছি। আমার সন্তুষ্টির জায়গা বলতে বললে আমি বলবো, আমাদের দলে পারফরমারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ, আপনার দলে এখন ৫-৬ জন বোলার ৭-৮ জন ব্যাটসম্যান পাওয়া অনেক বড় ব্যাপার। আশা করছি এতদিন তারা যেমন করেছে অন্তত আগামী বছরেও সেটা করতে পারলে আমরা সাফল্য পাব।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টে ৪০ উইকেট নিয়েছেন। বিদেশের মাটিতে এই সামর্থ্য দেখানো সম্ভব হবে?

মুশফিকুর রহিম : সামর্থ্য তো অবশ্যই আছে। এই বিশ্বাসটা তো অবশ্যই থাকতে হবে। বরং আমি মনে করি নিউজিল্যান্ডের সিমিং কন্ডিশনে আমাদের পেসারদের ভালো করার সম্ভাবনা থাকবে। ২০১৫ বিশ্বকাপে আমাদের পেসাররা ভালো করেছে। আমি বলব, সিমিং কন্ডিশন হলেও আমাদের অনেক ভালো সিমার আছে, যারা কিনা ২০ উইকেট নিতে পারে।

/আরআই/