গত ৮ নভেম্বর উদ্বোধনী দিনে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে হারানোর পর জয় কী জিনিস সেটাই ভুলে গিয়েছিল চিটাগং ভাইকিংস। প্রথম ম্যাচের পর জয় পেতে চিটাগংকে অপেক্ষা করতে হয়েছে চারটি ম্যাচ। আর দ্বিতীয় জয় পেতে চিটাগং বেছে নেয় রাজশাহী কিংসকেই।
এদিন তাসকিনের অসাধারণ বোলিংয়ে রাজশাহীর ব্যাটসম্যানরা কুপোকাত হলে চিটাগং ভাইকিংস ১৯ রানের অসাধারণ এক জয় পায়।
তবে দিনটা চিটাগংয়ের হতো না। যদি না ভিনদেশি মোহাম্মদ নবী ওমন একটি ইনিংস না খেলতেন। আফগান এই অলরাউন্ডার শুক্রবার তার টি-টোয়েন্টি ক্যরিয়ারের সেরা ব্যাটিং করেছেন। মাত্র ৩৭ বলে ৬ চার ও ৬ ছয়ে মোহাম্মদ নবী তার অপরাজিত ৮৭ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন। তার এমন বিস্ফোরক ব্যাটিংয়েই মূলত ১৯০ রানের বড় সংগ্রহ পায় চিটাগং ভাইকিংস। সেই সঙ্গে চিটাগংয়ের উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান এনামুল হক বিজয়ের ব্যাট থেকেও এসেছে ৫০ রানের কার্যকর এক ইনিংস।
১৯১ রানের বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে ঠিক যেমন শুরু করা প্রয়োজন ছিল সেভাবেই শুরু করেছিল রাজশাহী কিংস। চিটাগং ভাইকিংসের স্পিনার মাহমুদুল হাসানের দ্বিতীয় ওভারে মুমিনুল হক ব্যাক টু ব্যাক চারটি চার মেরে স্কোরবোর্ডে চাঙা ভাব নিয়ে আসেন। ব্যক্তিগত ২২ রানে মমিনুল ফিরে গেলেও স্কোরবোর্ডে তার প্রভাব পড়েনি। বিপিএল-এর চলতি আসরে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েই জুনায়েদ সিদ্দিক দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন।
দ্বিতীয় উইকেটে সাব্বিরকে সঙ্গে নিয়ে ৩২ রানের জুটি গড়েন জাতীয় দলের সাবেক এই ওপেনার। শেষ পর্যন্ত ৩৮ রান করে গ্র্যান্ট ইলিয়টের শিকারে পরিণত হন তিনি। তখনও ম্যাচে ছিল রাজশাহী। কারণ ক্রিজে ছিলেন আগের ম্যাচে ১২২ রানের ইনিংস খেলা সাব্বির রহমান। তিনি ৪৮ রানে আউট হওয়ার পরই মূলত ম্যাচটি পুরোপুরি হেলে পড়ে চিটাগং ভাইকিংসের দিকে। শেষ দিকে ড্যারের স্যামির প্রয়াস ব্যর্থ হলে চিটাগং ভাইকিংস হারের বৃত্ত ভাঙতে সমর্থ হয়।
শুক্রবারের জয়ে শেষ চারে খেলার স্বপ্নটা এখনো বেঁচে থাকলো চিটাগংয়ের। আগামী ৬ ম্যাচের কমপক্ষে চারটিতে জিতলে অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে তামিমের দলের শেষ চার। যদিও হারের বৃত্ত ভাঙাটাই এই মুহূর্তে জরুরি ছিল চিটাগংয়ের। দলের অধিনায়ক তামিম ইকবালও বেশকিছু দিন ধরেই এমনটা বলে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত জয়ে ফেরাতে স্বস্তি ফিরে এসেছে চিটাগং শিবিরে। হয়তো এই স্বস্তি পরের ম্যাচেই আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে তামিম অ্যান্ড কোংকে।
/এফআইআর/