শ্রীলঙ্কার ১ রানের নাটকীয় জয়

ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির পথে এভিন লুইসের একটি শট। খেলেছেন তিনি ১২২ বলে ১৪৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস।শেষ ওভারে জেতার জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ছিল ১০ রান। সোলেমান বেন ছয় মেরে জমিয়ে দিলেন ম্যাচ। তখন শেষ ৩ বলে দরকার ৩ রান। তীরের এত কাছে এসেও ভিড়তে পারল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ তরী। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে ম্যাচটা হারতে হলো ১ রানে। অথচ কী লড়াইটাই না করেছে ক্যারিবিয়ানরা। লঙ্কানরা ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে দাঁড় করিয়েছিল ৩৩০ রানের বিশাল সংগ্রহ। এভিন লুইসের ১২২ বলে ১৪৮ রানের ঝোড়ো ইনিংসে জয়ের পথটাও হয়ে গিয়েছিল তৈরি। কিন্তু ভাগ্য সহায় না হওয়ায় কাজে এলো না লুইসের লড়াকু ইনিংসটি।

তিন হাফসেঞ্চুরিতে মনে হচ্ছিল দিনটা হতে যাচ্ছে শুধু শ্রীলঙ্কার। ওপেনার ধনাঞ্জয় ডি সিলভা তবু ৫৮ রান করে আউট হয়ে গিয়েছিলেন। নিরোশন ডিকওয়েলা ও কুশন মেন্ডিস তো সেঞ্চুরির সুবাসই পেয়েছিলেন, যদিও হয়নি অল্পের জন্য। দুজনই আউট হয়েছেন ৯৪ রান করে। তাদের এই সেঞ্চুরি ছুঁই ছুঁই ইনিংস দুটির ওপর ভর দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিকে কঠিন লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় শ্রীলঙ্কা।

জবাবে শুরু থেকেই ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানরা ছিল আক্রমণাত্মক। দলীয় ৬৩ রানে জনসন চার্লেসের (২৬) উইকেটটি হারালেও চাপে পড়েনি তারা আরেক ওপেনার লুইসের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে। লঙ্কান বোলারদের ওপর দিয়ে ঝড় বইয়ে দিয়ে বল সীমানা ছাড়া করেছেন বারবার। অন্য প্রান্তে উইকেট হারানোর মিছিল চললেও নিজের প্রান্তে তিনি ছিলেন অনন্য। ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়ে খেলেন ১৪৮ রানের ঝলমলে এক ইনিংস। ১২২ বলের যে ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছিলেন ১৫ চার ও ৪ ছক্কায়। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের মাত্র চতুর্থ ম্যাচে এসে সেঞ্চুরি তুলে নিলেন ২৪ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।

তার দেড় শ ছুঁই ছুঁই ইনিংসটাই গড়ে দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের পথ। যে পথ ধরে এগিয়েও যাচ্ছিলেন অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। কিন্তু যেতে পারেননি কাঙ্খিত দূরত্বে। তিনি ৪৬ বলে হার না মানা ৪৫ রানের ইনিংস খেললেও ১ রানের নাটকীয় হারে শেষ হয় তাদের পথচলা। ক্রিকইনফো

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

শ্রীলঙ্কা : ৫০ ওভারে ৩৩০/৭ (ডিকওয়েলা ৯৪, কুশল মেন্ডিস ৯৪, ধনাঞ্জয় ৫৮; হোল্ডার ৩/৫৭)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ৫০ ওভারে ৩২৯/৯ (লুইস ১৪৮, হোল্ডার ৪৫*, চার্লেস ২৬; লাকমল ২/৬৭, কুলাসেকারা ২/৭৩)।

ফল : শ্রীলঙ্কা ১ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : কুশল মেন্ডিস  (শ্রীলঙ্কা)।

/কেআর/